মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে রাতভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।
কাতারে মধ্যরাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ
কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ সতর্কতা জারি করা হয়। বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায় এবং হুমকির মাত্রা বাড়ানো হয়।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ১২ থেকে ১৩টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে আবার নতুন বার্তা দিয়ে জানানো হয় যে হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
পরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কাতারকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
বাহরাইনে ড্রোন হামলায় আহত ৩২
কাতারের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী মানামার দক্ষিণে সিত্রা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশুদেরও থাকার কথা জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা তৎপরতা
সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর উত্তেজনা ছিল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং এসব হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় আগুন
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই এলাকায় আগুন ধরে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা
এই ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন সরাসরি এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















