ইসরায়েলের প্রধান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত দিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত ২১ মার্চ রাতে পরিচালিত এই হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয় এবং বেশ কিছু বহুতল ভবনের বাইরের দেয়াল ধসে পড়ে। ইসরায়েলি বাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
নাতাঞ্জে হামলার পাল্টা জবাব
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই একই দিনে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা হয়েছিল। ইরান সেই হামলার পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে দিমোনায় হামলা চালিয়েছে বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। দিমোনা শহরটি ইসরায়েলের শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র থেকে মাত্র নয় থেকে দশ কিলোমিটার দূরে। ইতিহাসে এই প্রথমবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ওই পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছের এলাকায় আঘাত হানল। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পারমাণবিক কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত লাগেনি এবং বিকিরণ মাত্রায় কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়েনি।
পারমাণবিক যুদ্ধের দোরগোড়ায়?
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উভয় স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ‘ইন্টারসেপ্টর’ ছোড়া হয়েছিল কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যবিদ্ধ হতে ব্যর্থ হয়। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় ছিল কয়েক শত কেজি বিস্ফোরক সম্বলিত প্রচলিত ওয়ারহেড। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পারমাণবিক অবকাঠামোর আশপাশে এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘বিপর্যয়কর দুর্ঘটনার বাস্তব ঝুঁকি’ তৈরি করছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইক্যান) সতর্ক করেছে যে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, কেউ নিহত না হওয়াটা ‘ভাগ্যের ব্যাপার’ ছিল।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















