দাম ধরে রাখতে গিয়ে বিশাল ক্ষতি
ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পরও বাংলাদেশ সরকার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে পাম্পে দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। সরকারি হিসাব বলছে, এখন প্রতি লিটার ডিজেলের আমদানি মূল্য প্রায় ১৯৮ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি লিটারেই সরকারকে গুনতে হচ্ছে ৯৮ টাকা ভর্তুকি।
মাসে মাসে কত টাকা যাচ্ছে
শুধু মার্চ মাসেই ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৭৭৯ কোটি টাকা। অকটেনের আমদানি মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ১৫০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে জুন পর্যন্ত মোট ভর্তুকির পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই ভার কতদিন বহন করা সম্ভব
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে মানুষের কষ্ট লাঘাবে এই ভর্তুকি নীতি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এত বিশাল ভর্তুকির বোঝা বহন করার সক্ষমতা সরকারের সীমিত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রাজস্ব আদায়ের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নাও থাকতে পারে।
মালয়েশিয়া থেকে ডিজেলের জাহাজ আসছে আজ
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি জোরদার করেছে। আজ (৪ এপ্রিল) মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে বন্দর সচিব জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানির জরুরি আমদানির অনুমোদনও দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
পাম্পে এখনো লম্বা লাইন। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি মিলছে না। অথচ মজুতদাররা চড়া দামে বিক্রি করছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাইছেন, সরকার এত ভর্তুকি দিলে পাম্পে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না কেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















