মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান খুব শিগগির হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি নিজেদের কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান, যা চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
দ্রুত পুনর্গঠন করছে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করছে ইরান। মাটিচাপা পড়া লঞ্চারগুলো বুলডোজার দিয়ে তুলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার চালু করা হচ্ছে এবং পুনরায় হামলা চালানো হচ্ছে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহ পরও ইরান তার উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও এই সক্ষমতা ধ্বংস করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।
আক্রমণ কমলেও থামেনি হামলা
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করলেও যে ইরানের হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে, বাস্তবে প্রতিদিন এখনও ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫০ থেকে ১০০টি ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।
এছাড়া, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি: ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির উপর নিয়ন্ত্রণই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এটি নিয়ন্ত্রণ করে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে প্রণালিতে চাপ বজায় রেখে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে রাখছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধের সমাধানে যেতে বাধ্য হয়।
ট্রাম্পের হুমকি ও বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সামরিক পদক্ষেপের কথাও বলেছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রণালি খুলে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
সমুদ্রপথে চাপ বাড়াচ্ছে তেহরান
ইরান বিভিন্ন উপায়ে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বেসামরিক জাহাজে হামলা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখা এবং চলাচলের জন্য ফি দাবি—এসব কৌশলের মাধ্যমে কার্যত সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, একবার এই কৌশলগত সুবিধা অর্জনের পর ইরান সহজে তা ছাড়বে না।
ইরাককে ছাড়, কৌশলগত বার্তা
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরাককে কোনো বিধিনিষেধের আওতায় আনা হবে না। এতে বোঝা যায়, তেহরান নির্দিষ্ট দেশকে সুবিধা দিয়ে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে, ইরান শুধু সামরিকভাবে টিকে নেই, বরং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারের অবস্থানে পৌঁছে গেছে। ফলে শিগগিরই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ স্বাভাবিক হবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















