বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট ঘনিয়ে আসছে। এই সংকটে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাসকেল দোনো বলেছেন, বিশ্বব্যাংক এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
কোন কোন খাতে বিপদ আসছে
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যা সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কর্মসংস্থান কমতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলে পারিবারিক আয়ে ধাক্কা লাগবে। এবং খাদ্যশস্য পরিবহন ও সার আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আইএমএফ ও আইইএর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ
বিশ্বব্যাংক এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় কার্যক্রম শুরু করেছে। কোন দেশের কী সহায়তা প্রয়োজন তা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ চলছে। পাসকেল দোনো বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ঝুঁকি
বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই নির্ভরশীলতাই এখন সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। পাশাপাশি ইউএই, কুয়েত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরকার কী করছে
বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তার আবেদন প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















