০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আফ্রিকার তেল জাগরণ, নতুন বিনিয়োগে বদলাচ্ছে জ্বালানি মানচিত্র

ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব তেলের বাজার যখন অনিশ্চয়তায় কাঁপছে, তখন বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে নজর ঘুরছে আফ্রিকার দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন নতুন করে আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে বহুদিন অবহেলিত থাকা এই মহাদেশে আবারও তেল ও গ্যাস খাতের জাগরণ শুরু হয়েছে।

আফ্রিকায় বাড়ছে তেল কোম্পানির আগ্রহ

গত এক দশকে তেলের দাম পড়ে যাওয়ার পর পশ্চিমা বড় কোম্পানিগুলো অনুসন্ধান কমিয়ে দেয়। ফলে নতুন তেলের খোঁজও কমে যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎসের গুরুত্ব বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের সুযোগে আফ্রিকায় বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বড় সাতটি পশ্চিমা কোম্পানির আফ্রিকায় তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লাইবেরিয়া, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশে নতুন অনুসন্ধান ও প্রকল্প শুরু হয়েছে।

Africa's Leading Oil Producers in 2023

গভীর সমুদ্রের তেলে নতুন সম্ভাবনা

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শক্তি তার সমুদ্রভিত্তিক তেলের সম্ভাবনা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল কূপগুলোর বড় অংশই এখন আফ্রিকার গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। এসব কূপ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রযুক্তিগত জটিলতা ও খরচ অনেক বেশি।

তবে আধুনিক প্রযুক্তি এই বাধা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তেল অনুসন্ধান সহজ হয়েছে, পাশাপাশি ভাসমান উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে। ফলে কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।

সরকারি নীতিতে পরিবর্তন, বাড়ছে আকর্ষণ

আগে তেল কোম্পানিগুলো আফ্রিকা ছেড়ে যাওয়ায় বড় রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছিল অনেক দেশ। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন তারা বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও সুবিধাজনক শর্ত দিচ্ছে।

The future of African oil and gas: Positioning for the energy transition |  McKinsey

আফ্রিকার নিজস্ব তেল কোম্পানিগুলোও এখন পুরোনো ক্ষেত্রগুলো থেকে বেশি উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে নতুন বড় আবিষ্কার কম হলেও মোট উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে।

ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা

বর্তমানে আফ্রিকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় এক কোটির কিছু বেশি ব্যারেলের সমতুল্য। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিনিয়োগ সরে এসে আফ্রিকায় আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

একই সঙ্গে আফ্রিকার নিজস্ব জ্বালানি চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে, যা এই খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, কারণ কেউই ভবিষ্যতের বড় তেল আবিষ্কার মিস করতে চায় না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায়

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আফ্রিকার তেল জাগরণ, নতুন বিনিয়োগে বদলাচ্ছে জ্বালানি মানচিত্র

০৩:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব তেলের বাজার যখন অনিশ্চয়তায় কাঁপছে, তখন বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে নজর ঘুরছে আফ্রিকার দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন নতুন করে আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে বহুদিন অবহেলিত থাকা এই মহাদেশে আবারও তেল ও গ্যাস খাতের জাগরণ শুরু হয়েছে।

আফ্রিকায় বাড়ছে তেল কোম্পানির আগ্রহ

গত এক দশকে তেলের দাম পড়ে যাওয়ার পর পশ্চিমা বড় কোম্পানিগুলো অনুসন্ধান কমিয়ে দেয়। ফলে নতুন তেলের খোঁজও কমে যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎসের গুরুত্ব বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের সুযোগে আফ্রিকায় বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বড় সাতটি পশ্চিমা কোম্পানির আফ্রিকায় তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লাইবেরিয়া, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশে নতুন অনুসন্ধান ও প্রকল্প শুরু হয়েছে।

Africa's Leading Oil Producers in 2023

গভীর সমুদ্রের তেলে নতুন সম্ভাবনা

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শক্তি তার সমুদ্রভিত্তিক তেলের সম্ভাবনা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল কূপগুলোর বড় অংশই এখন আফ্রিকার গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। এসব কূপ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রযুক্তিগত জটিলতা ও খরচ অনেক বেশি।

তবে আধুনিক প্রযুক্তি এই বাধা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তেল অনুসন্ধান সহজ হয়েছে, পাশাপাশি ভাসমান উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে। ফলে কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।

সরকারি নীতিতে পরিবর্তন, বাড়ছে আকর্ষণ

আগে তেল কোম্পানিগুলো আফ্রিকা ছেড়ে যাওয়ায় বড় রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছিল অনেক দেশ। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন তারা বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও সুবিধাজনক শর্ত দিচ্ছে।

The future of African oil and gas: Positioning for the energy transition |  McKinsey

আফ্রিকার নিজস্ব তেল কোম্পানিগুলোও এখন পুরোনো ক্ষেত্রগুলো থেকে বেশি উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে নতুন বড় আবিষ্কার কম হলেও মোট উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে।

ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা

বর্তমানে আফ্রিকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় এক কোটির কিছু বেশি ব্যারেলের সমতুল্য। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিনিয়োগ সরে এসে আফ্রিকায় আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

একই সঙ্গে আফ্রিকার নিজস্ব জ্বালানি চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে, যা এই খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, কারণ কেউই ভবিষ্যতের বড় তেল আবিষ্কার মিস করতে চায় না।