মুর্শিদাবাদ ও মালদার নির্বাচনী মাঠে কংগ্রেসের দুই নেতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে শক্ত লড়াই শুরু হয়েছে। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও মওসম বেনাজির নূর এই অঞ্চলগুলোতে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করছেন, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির প্রভাব রয়েছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অভিযানে প্রতিবন্ধকতা
পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তৃণমূল সমর্থকরা বারবার বাধা সৃষ্টি করেছেন। রবিবার, তৃণমূলের পতাকা উড়িয়ে এবং স্লোগান দিয়ে পাঁচবারের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে হয়।
শনিবারও বহরমপুর শহরে প্রচার চলাকালীন তিনি তৃণমূল কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন, তবে তিনি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখবেন না বলে দৃঢ় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন আমাদের নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠান চালাচ্ছি। সব কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ও জ্ঞানে সম্পন্ন হচ্ছে, তবুও তৃণমূলের উচ্ছৃঙ্খলরা বারবার এগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা থামব না — আজ সন্ধ্যায়ও এবং আগামীকালও এগিয়ে যাব।”
এই নির্বাচনী লড়াই অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জন্য গৌরবের লড়াই। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় তার প্রভাব প্রবল ছিল। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কংগ্রেসের লোকসভা দলের নেতা ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে ক্রিকেটার হয়ে তৃণমূল নেতা যুসল ফয়সাল পাথানের কাছে ৭০,০০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

মালদায় মওসম বেনাজির নূরের নতুন চ্যালেঞ্জ
পাশের মালদা জেলায় কংগ্রেস নেতা মওসম বেনাজির নূর তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এই বছর শুরুতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন এবং মালতিপুর কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নূর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা এ.বি.এ. ঘানি খান চৌধুরীর ভগ্নিপতি। ঘানি খান চৌধুরীর পরিবার এখনও মালদায় রাজনৈতিক প্রভাব রাখে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার ভগ্নিপতি ইশা খান চৌধুরী মালদা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এবং বিজেপিকে হারিয়ে নির্বাচিত হন।
মমতা ব্যানার্জীর আক্রমণ
তিনটি জনসভা অনুষ্ঠিত মালদায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী শনিবার নূরের লক্ষ্যবস্তু হন। তিনি বলেন, “মালদায় আমাদের কোনো তৃণমূল প্রতিনিধি নেই। আমরা একজন মহিলাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। তিনি এক মাস আগে পদত্যাগ করেছেন। আমরা তাকে লোকসভা টিকিটও দিয়েছি। তিনি অন্য দল যোগ করেছেন, এতে সমস্যা নেই, তবে আপনাদের তার দলে ভোট দেওয়া উচিত নয়। তাদের মতো মানুষ সব কিছু নিয়ে পালিয়েছে যখন লড়াই প্রয়োজন ছিল।”

কংগ্রেসের শক্তি ও প্রভাব
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসের শক্তি কমেছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস এখনও একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি। মুর্শিদাবাদে ২২টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৭০%, আর মালদায় ১২টি আসনের মধ্যে মুসলিমরা অর্ধেকের বেশি। ২০২১ সালে এই দুই জেলায় তৃণমূল ২৮টি আসন জিতেছিল, বাকি ছয়টি আসন বিজেপি জিতেছিল।
এবার অধীর চৌধুরী ও নূর কংগ্রেসের নির্বাচনী শক্তি পুনর্জাগ্রত করতে চাইছেন, ফলে তৃণমূলের জন্য চাপ বাড়ছে। যদিও কংগ্রেস এবার বামফ্রন্টের সঙ্গে কোনো জোটে নেই, তবুও এ অঞ্চলের ভোটারদের উপর তাদের প্রভাব রয়েছে।
বাধাগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি”ও জেলায় প্রার্থী পাঠিয়েছে, ফলে নির্বাচনী লড়াই এখন বহু-কোণীয় প্রতিযোগিতা হিসেবে রূপ নিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















