ইরান যুদ্ধের প্রভাব চীনের জন্য অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর তুলনায় কম হলেও তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা যায় না। প্রায় দশ বছর ধরে চীন বিদেশীদের বারবার জানাচ্ছে, তারা একনিষ্ঠভাবে স্থিতিশীলতা এবং নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক নীতি থেকে শুরু করে ইরান আক্রমণের পর, চীনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক নেতাদের কাছে নিজেদের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান প্রদর্শন করছেন।

জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব হলো তেলের সংকট। অন্যান্য এশীয় তেল আমদানিকারকের তুলনায় চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। হরমুজ সঙ্গমের মাধ্যমে চীনের তেল আমদানির মাত্র এক তৃতীয়াংশ হলেও দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেত্রে এটি ৭০ শতাংশের বেশি। তদুপরি, চীনের শক্তি ব্যবস্থার মধ্যে কয়লা, নিউক্লিয়ার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বেশি, যার কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কম। এছাড়া চীনের বড় কোম্পানিগুলো কয়লাকে রাসায়নিক পণ্যে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। প্রয়োজন হলে দেশটির চার মাসের সমুদ্রপথে আমদানি তেলের মজুদও আছে।
যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। মার্চ মাসে সরকার পেট্রোলের দাম ১৩ শতাংশ বাড়ালে সাধারণ চীনা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে এটি বছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণের দিক থেকে কিছুটা সহায়ক, কারণ মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক অঞ্চলে উঠে এসেছে। চীনের উত্পাদক মূল্য সূচক গত ৪১ মাস ধরে ক্রমহ্রাস পাচ্ছে, যা ২০১২-১৬ সালের পর দীর্ঘতম মন্দা। যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি চীনা ব্যবসা ও ভোক্তাদের মূল্যবোধ পুনরায় ধারণ করতে সাহায্য করবে।

রপ্তানি ও বাজার প্রভাব
গত বছরে চীনের রপ্তানি উদ্বৃত্ত $১.২ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দায়ী। তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের ব্যয় হ্রাস করতে বাধ্য করছে, যার প্রভাব চীনের কারখানাগুলোতে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং সৌর প্যানেলের মতো নতুন প্রযুক্তি পণ্যের জন্য বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা তীব্র হলে চীনের অর্থনীতি আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে। সেক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি ও নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। শি জিনপিংয়ের লক্ষ্য দেশটিকে প্রযুক্তিগত শক্তিতে রূপান্তর করা, তাই অর্থনৈতিক নীতি ও প্রণোদনা ব্যবস্থার ভারসাম্য রাখা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















