০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
লন্ডনের ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্র কি এবার ভাঙার পথে? ৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮

আট হাত ঘুরে খুনের রহস্য উদঘাটন, একটি মোবাইল ফোনেই মিলল মা-ছেলে হত্যার সূত্র

রাজশাহীর বাগমারায় মা ও ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি ছিল না। কিন্তু হত্যার পর লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোনের খোঁজ করতে গিয়েই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের কাছে। একের পর এক আটজনের হাতে ঘোরা সেই মোবাইল ফোনই শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করে বহুদিনের রহস্য।

হত্যাকাণ্ডের পর অদৃশ্য মোবাইল

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারার একটি গ্রামে আকলিমা বেওয়া ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আকলিমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রথমদিকে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তারা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এক বছর পর তদন্তের দায়িত্ব যায় পুলিশের বিশেষ তদন্ত সংস্থার কাছে। তখনই তদন্তকারীরা নিখোঁজ মোবাইল ফোনটির সন্ধানে নামেন এবং এর আইএমইআই নম্বর অনুসরণ করে নতুন সূত্র খুঁজে পান।

106,785 Investigation Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos from  Dreamstime

আটবার বিক্রি হওয়া ফোন

তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোনটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি হতে থাকে। কখনও ৫০০ টাকা, কখনও ৭০০ টাকায় হাতবদল হয় সেটি। শেষ পর্যন্ত ফোনটি নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়। ফোনটির মালিকানা পরিবর্তনের পুরো শৃঙ্খল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন কার কাছ থেকে কার কাছে এটি গেছে এবং সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকেই ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। এই তথ্যই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পুরোনো বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আকলিমা বেওয়ার সঙ্গে তার আত্মীয় আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব চলছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই দুজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়।

চালু হলো 'আমার আদালত'

তদন্ত অনুযায়ী, রাজশাহীর দুর্গাপুর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন ভাড়াটে খুনি আনা হয়। ঘটনার রাতে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী। এরপর মা ও ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় নিয়ে যায় মোবাইল ফোনটিও।

আদালতের রায়

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমান এবং ভাড়াটে খুনিদের নেতা আবদুর রাজ্জাককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই মামলাটি দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ছোট সূত্রও কখনও কখনও বড় অপরাধের রহস্য উন্মোচনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তদন্তকারীদের ধৈর্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের ফলেই বহুদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডনের ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্র কি এবার ভাঙার পথে?

আট হাত ঘুরে খুনের রহস্য উদঘাটন, একটি মোবাইল ফোনেই মিলল মা-ছেলে হত্যার সূত্র

১০:৩০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাজশাহীর বাগমারায় মা ও ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি ছিল না। কিন্তু হত্যার পর লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোনের খোঁজ করতে গিয়েই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের কাছে। একের পর এক আটজনের হাতে ঘোরা সেই মোবাইল ফোনই শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করে বহুদিনের রহস্য।

হত্যাকাণ্ডের পর অদৃশ্য মোবাইল

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারার একটি গ্রামে আকলিমা বেওয়া ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আকলিমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রথমদিকে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তারা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এক বছর পর তদন্তের দায়িত্ব যায় পুলিশের বিশেষ তদন্ত সংস্থার কাছে। তখনই তদন্তকারীরা নিখোঁজ মোবাইল ফোনটির সন্ধানে নামেন এবং এর আইএমইআই নম্বর অনুসরণ করে নতুন সূত্র খুঁজে পান।

106,785 Investigation Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos from  Dreamstime

আটবার বিক্রি হওয়া ফোন

তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোনটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি হতে থাকে। কখনও ৫০০ টাকা, কখনও ৭০০ টাকায় হাতবদল হয় সেটি। শেষ পর্যন্ত ফোনটি নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়। ফোনটির মালিকানা পরিবর্তনের পুরো শৃঙ্খল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন কার কাছ থেকে কার কাছে এটি গেছে এবং সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকেই ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। এই তথ্যই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পুরোনো বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আকলিমা বেওয়ার সঙ্গে তার আত্মীয় আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব চলছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই দুজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়।

চালু হলো 'আমার আদালত'

তদন্ত অনুযায়ী, রাজশাহীর দুর্গাপুর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন ভাড়াটে খুনি আনা হয়। ঘটনার রাতে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী। এরপর মা ও ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় নিয়ে যায় মোবাইল ফোনটিও।

আদালতের রায়

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমান এবং ভাড়াটে খুনিদের নেতা আবদুর রাজ্জাককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই মামলাটি দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ছোট সূত্রও কখনও কখনও বড় অপরাধের রহস্য উন্মোচনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তদন্তকারীদের ধৈর্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের ফলেই বহুদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছিল।