ইথিওপিয়ায় জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দলের বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন নাগরিকরা। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নির্বাচনে জয় পেলে আবি আহমেদ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ আরও সুগম করবেন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রাজধানী আদ্দিস আবাবাসহ বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। পরে তারাই দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট দেবেন।
প্রায় ১৩ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে সেখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।
ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা

২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন দল এবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগের নির্বাচনে তার দল বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছিল।
বিরোধী শিবিরের অবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। ৪০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল থাকলেও তারা বিভক্ত এবং অনেক দল সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিছু আসনে ক্ষমতাসীন প্রার্থীদের বিপক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই।
এ কারণে নির্বাচনটি প্রতিযোগিতামূলক না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আগের তুলনায় আরও সংকুচিত হয়েছে।
গণতন্ত্র ও সংঘাতের চ্যালেঞ্জ
ক্ষমতার শুরুতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া আবি আহমেদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধী মত দমনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের একটি হতে পারে। অনেক বিরোধী নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, কেউ নিষিদ্ধ, আবার কেউ কারাগারে রয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে টাইগ্রে, ওরোমিয়া ও আমহারা অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে চাপে ফেলেছে।
উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনের আগে জাতীয় পুনর্মিলন এবং উন্নয়ন প্রকল্প ছিল ক্ষমতাসীনদের প্রচারের মূল বিষয়। সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো সামনে এনেছে।
আফ্রিকার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে ইথিওপিয়া অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা ধরে রাখলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজন দেশটির ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক যাত্রাকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















