০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
লন্ডনের ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্র কি এবার ভাঙার পথে? ৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮

জাপানে কলার সংকটের আশঙ্কা, ইথিলিন গ্যাসের ঘাটতিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

জাপানে কলার সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশটিতে ইথিলিন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আর সেই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারে কলার সরবরাহের ওপর। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জাপানের খাবারের টেবিল থেকে কলা প্রায় হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইথিলিন?

জাপানে আমদানি করা অধিকাংশ কলা সবুজ অবস্থায় আসে। পরে বিশেষ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করে সেগুলো পাকানো হয় এবং বাজারে পাঠানো হয়। এই গ্যাস ছাড়া কলা স্বাভাবিকভাবে নরম বা মিষ্টি হয় না। বরং পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ইথিলিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় ন্যাফথা, যা অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি হয়। জাপান তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির শিল্পখাত দ্রুত চাপের মুখে পড়ে।

Oil Prices Surge the Most in a Year on Surprise OPEC+ Supply Cut

তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাপানে ন্যাফথার মজুত এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি।

জাপানে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন কলা আমদানি করা হয়। দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আপাতত বাজারে কলা থাকলেও বাড়ছে খরচ

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দোকানে কলার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিছু আমদানিকারকের কাছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের জন্য পর্যাপ্ত ইথিলিন মজুতও আছে। তবে জ্বালানি, পরিবহন, প্যাকেজিং এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে কলার খুচরা মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন এই সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Japan faces shortage of bananas as Middle East impact spreads | The Straits  Times

অন্য শিল্পেও প্রভাব

ন্যাফথার ঘাটতির প্রভাব শুধু ফল খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন উৎপাদনশিল্পও এর চাপ অনুভব করছে। কিছু খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে, কারণ মুদ্রণ কালি তৈরির কাঁচামাল সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের নিজস্ব তেলসম্পদের অভাব এবং সমুদ্রপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশটিকে এমন বৈশ্বিক সংকটের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিকল্প উৎসের খোঁজে প্রতিষ্ঠানগুলো

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফল প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উৎস থেকে ইথিলিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষিজ কাঁচামাল থেকে ইথিলিন উৎপাদনকারী প্রযুক্তির দিকেও ঝুঁকছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কলার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তখন জাপানের বাজারে এই জনপ্রিয় ফলের প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডনের ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্র কি এবার ভাঙার পথে?

জাপানে কলার সংকটের আশঙ্কা, ইথিলিন গ্যাসের ঘাটতিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

১১:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

জাপানে কলার সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশটিতে ইথিলিন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আর সেই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারে কলার সরবরাহের ওপর। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জাপানের খাবারের টেবিল থেকে কলা প্রায় হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইথিলিন?

জাপানে আমদানি করা অধিকাংশ কলা সবুজ অবস্থায় আসে। পরে বিশেষ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করে সেগুলো পাকানো হয় এবং বাজারে পাঠানো হয়। এই গ্যাস ছাড়া কলা স্বাভাবিকভাবে নরম বা মিষ্টি হয় না। বরং পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ইথিলিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় ন্যাফথা, যা অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি হয়। জাপান তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির শিল্পখাত দ্রুত চাপের মুখে পড়ে।

Oil Prices Surge the Most in a Year on Surprise OPEC+ Supply Cut

তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাপানে ন্যাফথার মজুত এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি।

জাপানে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন কলা আমদানি করা হয়। দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আপাতত বাজারে কলা থাকলেও বাড়ছে খরচ

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দোকানে কলার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিছু আমদানিকারকের কাছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের জন্য পর্যাপ্ত ইথিলিন মজুতও আছে। তবে জ্বালানি, পরিবহন, প্যাকেজিং এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে কলার খুচরা মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন এই সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Japan faces shortage of bananas as Middle East impact spreads | The Straits  Times

অন্য শিল্পেও প্রভাব

ন্যাফথার ঘাটতির প্রভাব শুধু ফল খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন উৎপাদনশিল্পও এর চাপ অনুভব করছে। কিছু খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে, কারণ মুদ্রণ কালি তৈরির কাঁচামাল সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের নিজস্ব তেলসম্পদের অভাব এবং সমুদ্রপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশটিকে এমন বৈশ্বিক সংকটের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিকল্প উৎসের খোঁজে প্রতিষ্ঠানগুলো

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফল প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উৎস থেকে ইথিলিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষিজ কাঁচামাল থেকে ইথিলিন উৎপাদনকারী প্রযুক্তির দিকেও ঝুঁকছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কলার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তখন জাপানের বাজারে এই জনপ্রিয় ফলের প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।