জাপানে কলার সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশটিতে ইথিলিন গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আর সেই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারে কলার সরবরাহের ওপর। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জাপানের খাবারের টেবিল থেকে কলা প্রায় হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ইথিলিন?
জাপানে আমদানি করা অধিকাংশ কলা সবুজ অবস্থায় আসে। পরে বিশেষ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করে সেগুলো পাকানো হয় এবং বাজারে পাঠানো হয়। এই গ্যাস ছাড়া কলা স্বাভাবিকভাবে নরম বা মিষ্টি হয় না। বরং পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ইথিলিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় ন্যাফথা, যা অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি হয়। জাপান তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির শিল্পখাত দ্রুত চাপের মুখে পড়ে।
তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাপানে ন্যাফথার মজুত এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি।
জাপানে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন কলা আমদানি করা হয়। দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আপাতত বাজারে কলা থাকলেও বাড়ছে খরচ
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দোকানে কলার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিছু আমদানিকারকের কাছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের জন্য পর্যাপ্ত ইথিলিন মজুতও আছে। তবে জ্বালানি, পরিবহন, প্যাকেজিং এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে কলার খুচরা মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন এই সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্য শিল্পেও প্রভাব
ন্যাফথার ঘাটতির প্রভাব শুধু ফল খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন উৎপাদনশিল্পও এর চাপ অনুভব করছে। কিছু খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে, কারণ মুদ্রণ কালি তৈরির কাঁচামাল সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের নিজস্ব তেলসম্পদের অভাব এবং সমুদ্রপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশটিকে এমন বৈশ্বিক সংকটের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিকল্প উৎসের খোঁজে প্রতিষ্ঠানগুলো
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফল প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উৎস থেকে ইথিলিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষিজ কাঁচামাল থেকে ইথিলিন উৎপাদনকারী প্রযুক্তির দিকেও ঝুঁকছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কলার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তখন জাপানের বাজারে এই জনপ্রিয় ফলের প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















