ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের কয়েকটি বড় শহরে রাশিয়ার নতুন দফার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দিনিপ্রো ও কিয়েভে। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়া, অগ্নিকাণ্ড এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।
দিনিপ্রোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি
পূর্ব ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে রুশ হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলায় আবাসিক ভবন, শিশুদের খেলার মাঠ এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিয়েভে ধস, আগুন ও আতঙ্ক

রাজধানী কিয়েভে অন্তত একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগে। একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার সতর্কবার্তা জারির পর হাজার হাজার মানুষ মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।
খারকিভেও আহত ১০
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বড় হামলার আশঙ্কা আগেই জানিয়েছিল ইউক্রেন

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কসংকেতের প্রতি বিশেষ নজর দিতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে রাশিয়া কিয়েভের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এরপর থেকেই নতুন করে বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। নতুন এই আক্রমণ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















