যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ আর উচ্চশিক্ষার আশায় ফিনল্যান্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন শত শত তরুণ-তরুণী। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনেকের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা ও বসবাসের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগে একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আশায় অনেক শিক্ষার্থী কয়েক হাজার ইউরো করে পরিশোধ করেন। তাদের বলা হয়েছিল ভাষা শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং আবাসন অনুমতির পুরো প্রক্রিয়া সহজেই সম্পন্ন হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী আবাসন অনুমতি পাননি, আবার কেউ কেউ অর্থ ফেরতও পাননি।
যুদ্ধ থেকে পালিয়ে নতুন আশার খোঁজ
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খায়। অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে সরে যান। অনেক তরুণ সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন।
এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার সুযোগের প্রচার তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উন্নত শিক্ষা, নিরাপদ জীবন এবং ভবিষ্যতে পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেককে উৎসাহিত করে।
অর্থ নিয়েও মিলেনি প্রতিশ্রুত সুবিধা
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাষা শিক্ষা, আবেদন প্রক্রিয়া ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের নামে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। অনেক পরিবার জমি বিক্রি করে বা ধারদেনা করে এই অর্থ জোগাড় করে।
কিন্তু বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও পর্যাপ্ত আর্থিক প্রমাণ কিংবা নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আবাসন অনুমতি পাননি। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা পাননি এবং অনেক কাজ নিজেদেরই করতে হয়েছে।
তদন্তে ফিনল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ
ফিনল্যান্ডের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে শত শত মিয়ানমারি শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বড় পরিসরে তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে অনেকেই ঋণের বোঝা নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়েছেন। বিষয়টি আর্থিক শোষণের গুরুতর অভিযোগে রূপ নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে সরাসরি আবেদন
এদিকে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সরাসরি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। নতুন এই ব্যবস্থা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যারা ইতোমধ্যে অর্থ হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন ঋণ শোধ করতে অতিরিক্ত কাজ করছেন। কেউ কেউ নিজ দেশে ফিরতেও সংকোচ বোধ করছেন। তাদের কাছে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন এখন আর শুধু একটি ব্যর্থ পরিকল্পনা নয়, বরং পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার গল্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















