০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’ ক্রিপ্টো-উপনিবেশবাদের নতুন মুখ: ক্যারিবীয় দ্বীপে সার্বভৌমত্বের নীরব লড়াই ঢাকার কালাবাগানে হোস্টেলে নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরের নেছারাবাদেই তৈরি দেশের ৭৫ শতাংশ ক্রিকেট ব্যাট, এবার বৈশ্বিক বাজারে নজর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে গাড়ি, চলতি বছরই রপ্তানি হবে ১০০টি যানবাহন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন ডেমোক্র্যাটদের পুরোনো ‘পুলিশের তহবিল কমানোর’ অবস্থান ফের বিতর্কে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন চাপে দল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ১, আহত ২ যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা, খুলনায় থমথমে পরিস্থিতি

মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’

স্বাধীনতা কি শুধু সংবিধান, ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি তা প্রতিফলিত হতে পারে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, এমনকি পোশাকেও? দক্ষিণ আফ্রিকার অভিনেতা জন কানি সেই প্রশ্নেরই গভীর উত্তর দিলেন জোহানেসবার্গের স্যান্ডটন স্কয়ারে প্রেসিডেন্সিয়াল শার্টের নতুন ফ্ল্যাগশিপ এম্পোরিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

নেলসন ম্যান্ডেলার ভাস্কর্যের অদূরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও অভিনেত্রী স্থান্ডিওয়ে কগোরোগে যখন কানিকে জিজ্ঞাসা করেন, “একজন স্বাধীন মানুষের মতো পোশাক পরতে কেমন লাগে?”, তখন তিনি কিছুক্ষণ থেমে প্রশ্নটি আবার শুনতে চান। পরে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি কেবল পোশাক নিয়ে আলোচনা নয়; বরং পরিচয়, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

স্বাধীনতার নতুন ভাষা

কালো সিল্কের মাদিবা শার্ট পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জন কানি বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সম্মান, স্বীকৃতি ও আত্মমর্যাদা অর্জনের সংগ্রাম তাঁর জীবনের অংশ ছিল।

তিনি নিজের দীক্ষা অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। প্রথা অনুযায়ী তিনি আর শিশু নন, তাই নতুন পোশাকের প্রয়োজন ছিল। তাঁর সমাজ সেই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দিলেও বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা তা মেনে নেয়নি।

Mandela's Madiba Shirts – Selvedge Magazine

কানির ভাষায়, তিনি দীর্ঘদিন নিজের পরিচয় খুঁজে ফিরেছেন। তাঁর মতে, বর্ণবাদ শুধু রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়নি, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয় প্রকাশের অধিকারও সীমিত করে দিয়েছিল। ইউরোপীয় স্যুটকে ক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা অনেকের কাছে ছিল অস্বস্তিকর ও আরোপিত।

ম্যান্ডেলা যেভাবে বদলে দিলেন পোশাকের ধারণা

জন কানি বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলা সেই বাস্তবতাকে বদলে দেন। আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে স্যুটের পরিবর্তে ম্যান্ডেলার পরিচিত শার্ট পরার সংস্কৃতি দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়।

তাঁর মতে, মাদিবা শার্ট প্রমাণ করেছে যে মর্যাদা বা আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করতে ইউরোপীয় পোশাকের অনুকরণ প্রয়োজন হয় না। আফ্রিকান সংস্কৃতি ও পরিচয়ও সমানভাবে সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কেউ মাদিবা শার্ট পরুক বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক—মূল বিষয় হলো নিজের সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে মর্যাদার সঙ্গে প্রকাশ করা।

বিচারপতি অ্যালবি স্যাকসের স্মৃতিচারণ

সাবেক সাংবিধানিক আদালতের বিচারপতি অ্যালবি স্যাকসও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। নীল রঙের ম্যান্ডেলা-প্রতিলিপি শার্ট পরে তিনি রসিকতার সঙ্গে বলেন, তাঁর সমসাময়িকরা যেখানে বিভিন্ন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেখানে তিনি যেন একজন পুরুষ মডেলে পরিণত হয়েছেন।

In S.Africa, Madiba shirts keep Mandela's legacy alive | Prothom Alo

তিনি বলেন, বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন স্যুট ও টাই পরতে হয়েছে। কিন্তু একদিন তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্যুট ছাড়া স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থায় দেখে উপলব্ধি করেন, পোশাকও আনন্দের হতে পারে এবং অন্য দেশের পোশাকের ধাঁচ অনুসরণ করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

স্যাকসের মতে, মাদিবা শার্ট শুধু একটি পোশাক নয়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার রূপান্তর ও স্বাধীনতার প্রতীক।

ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা একটি শার্ট

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই দিন আগে কেপটাউনের ডিজাইনার ডেস্রে বুইরস্কি নেলসন ম্যান্ডেলাকে একটি হাতে তৈরি শার্ট উপহার দেন।

পরবর্তী সময়ে ম্যান্ডেলা সেই ধরনের শার্ট বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিধান করেন। ১৯৯৬ সালে সংবিধানে স্বাক্ষর, ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাতেও তাঁর এই পোশাক বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে।

Celebrating Madiba's Influence on Fashion | Quality Fashion, at the Right  Price

উত্তরাধিকার শুধু পোশাকে নয়

নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন ড. নালেদি প্যান্ডর বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ম্যান্ডেলাকে স্যুটেও দেখতে পছন্দ করতেন। তবে তাঁর মতে, ম্যান্ডেলা ছিলেন দৃঢ়তা, আশা এবং প্রতিকূলতা জয় করার প্রতীক।

তিনি বলেন, নতুন এম্পোরিয়াম শুধু ম্যান্ডেলার পোশাক সংরক্ষণ করলেই হবে না; তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারাকেও ধারণ করতে হবে।

প্রেসিডেন্সিয়াল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী রব সিমস জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে প্রথম বিমানবন্দর স্টোর চালুর পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কাজ করছে। বর্তমানে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় ১০০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। ২০১৮ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জিওফ মাবোটে বলেন, নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর শুধু একটি বিক্রয়কেন্দ্র নয়; এটি দক্ষিণ আফ্রিকার নকশা, কারুশিল্প ও উদ্ভাবনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি প্রতীক।

মাদিবা শার্ট আজও দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’

মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’

০৮:০২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্বাধীনতা কি শুধু সংবিধান, ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি তা প্রতিফলিত হতে পারে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, এমনকি পোশাকেও? দক্ষিণ আফ্রিকার অভিনেতা জন কানি সেই প্রশ্নেরই গভীর উত্তর দিলেন জোহানেসবার্গের স্যান্ডটন স্কয়ারে প্রেসিডেন্সিয়াল শার্টের নতুন ফ্ল্যাগশিপ এম্পোরিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

নেলসন ম্যান্ডেলার ভাস্কর্যের অদূরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও অভিনেত্রী স্থান্ডিওয়ে কগোরোগে যখন কানিকে জিজ্ঞাসা করেন, “একজন স্বাধীন মানুষের মতো পোশাক পরতে কেমন লাগে?”, তখন তিনি কিছুক্ষণ থেমে প্রশ্নটি আবার শুনতে চান। পরে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি কেবল পোশাক নিয়ে আলোচনা নয়; বরং পরিচয়, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

স্বাধীনতার নতুন ভাষা

কালো সিল্কের মাদিবা শার্ট পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জন কানি বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সম্মান, স্বীকৃতি ও আত্মমর্যাদা অর্জনের সংগ্রাম তাঁর জীবনের অংশ ছিল।

তিনি নিজের দীক্ষা অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। প্রথা অনুযায়ী তিনি আর শিশু নন, তাই নতুন পোশাকের প্রয়োজন ছিল। তাঁর সমাজ সেই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দিলেও বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা তা মেনে নেয়নি।

Mandela's Madiba Shirts – Selvedge Magazine

কানির ভাষায়, তিনি দীর্ঘদিন নিজের পরিচয় খুঁজে ফিরেছেন। তাঁর মতে, বর্ণবাদ শুধু রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়নি, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয় প্রকাশের অধিকারও সীমিত করে দিয়েছিল। ইউরোপীয় স্যুটকে ক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা অনেকের কাছে ছিল অস্বস্তিকর ও আরোপিত।

ম্যান্ডেলা যেভাবে বদলে দিলেন পোশাকের ধারণা

জন কানি বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলা সেই বাস্তবতাকে বদলে দেন। আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে স্যুটের পরিবর্তে ম্যান্ডেলার পরিচিত শার্ট পরার সংস্কৃতি দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়।

তাঁর মতে, মাদিবা শার্ট প্রমাণ করেছে যে মর্যাদা বা আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করতে ইউরোপীয় পোশাকের অনুকরণ প্রয়োজন হয় না। আফ্রিকান সংস্কৃতি ও পরিচয়ও সমানভাবে সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কেউ মাদিবা শার্ট পরুক বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক—মূল বিষয় হলো নিজের সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে মর্যাদার সঙ্গে প্রকাশ করা।

বিচারপতি অ্যালবি স্যাকসের স্মৃতিচারণ

সাবেক সাংবিধানিক আদালতের বিচারপতি অ্যালবি স্যাকসও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। নীল রঙের ম্যান্ডেলা-প্রতিলিপি শার্ট পরে তিনি রসিকতার সঙ্গে বলেন, তাঁর সমসাময়িকরা যেখানে বিভিন্ন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেখানে তিনি যেন একজন পুরুষ মডেলে পরিণত হয়েছেন।

In S.Africa, Madiba shirts keep Mandela's legacy alive | Prothom Alo

তিনি বলেন, বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন স্যুট ও টাই পরতে হয়েছে। কিন্তু একদিন তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্যুট ছাড়া স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থায় দেখে উপলব্ধি করেন, পোশাকও আনন্দের হতে পারে এবং অন্য দেশের পোশাকের ধাঁচ অনুসরণ করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

স্যাকসের মতে, মাদিবা শার্ট শুধু একটি পোশাক নয়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার রূপান্তর ও স্বাধীনতার প্রতীক।

ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা একটি শার্ট

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই দিন আগে কেপটাউনের ডিজাইনার ডেস্রে বুইরস্কি নেলসন ম্যান্ডেলাকে একটি হাতে তৈরি শার্ট উপহার দেন।

পরবর্তী সময়ে ম্যান্ডেলা সেই ধরনের শার্ট বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিধান করেন। ১৯৯৬ সালে সংবিধানে স্বাক্ষর, ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাতেও তাঁর এই পোশাক বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে।

Celebrating Madiba's Influence on Fashion | Quality Fashion, at the Right  Price

উত্তরাধিকার শুধু পোশাকে নয়

নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন ড. নালেদি প্যান্ডর বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ম্যান্ডেলাকে স্যুটেও দেখতে পছন্দ করতেন। তবে তাঁর মতে, ম্যান্ডেলা ছিলেন দৃঢ়তা, আশা এবং প্রতিকূলতা জয় করার প্রতীক।

তিনি বলেন, নতুন এম্পোরিয়াম শুধু ম্যান্ডেলার পোশাক সংরক্ষণ করলেই হবে না; তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারাকেও ধারণ করতে হবে।

প্রেসিডেন্সিয়াল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী রব সিমস জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে প্রথম বিমানবন্দর স্টোর চালুর পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কাজ করছে। বর্তমানে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় ১০০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। ২০১৮ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জিওফ মাবোটে বলেন, নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর শুধু একটি বিক্রয়কেন্দ্র নয়; এটি দক্ষিণ আফ্রিকার নকশা, কারুশিল্প ও উদ্ভাবনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি প্রতীক।

মাদিবা শার্ট আজও দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।