০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’ ক্রিপ্টো-উপনিবেশবাদের নতুন মুখ: ক্যারিবীয় দ্বীপে সার্বভৌমত্বের নীরব লড়াই ঢাকার কালাবাগানে হোস্টেলে নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরের নেছারাবাদেই তৈরি দেশের ৭৫ শতাংশ ক্রিকেট ব্যাট, এবার বৈশ্বিক বাজারে নজর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে গাড়ি, চলতি বছরই রপ্তানি হবে ১০০টি যানবাহন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন ডেমোক্র্যাটদের পুরোনো ‘পুলিশের তহবিল কমানোর’ অবস্থান ফের বিতর্কে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন চাপে দল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ১, আহত ২ যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা, খুলনায় থমথমে পরিস্থিতি

আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন

জার্মানির ডুসেলডর্ফ থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে আসা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে সৃষ্ট প্রযুক্তিগত জটিলতা যাত্রীদের জন্য পরিণত হয় ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতায়। অবতরণের ঠিক আগে বিমানটি জরুরি বিপদসংকেত পাঠায় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করলেও পুরো ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন।

 অবতরণের আগে আচমকা পরিস্থিতির অবনতি

৬ জুলাইয়ের ওই ফ্লাইটে থাকা যাত্রী এডওয়ার্ড কিল্লিউইকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে যাত্রীদের জানানো হয় যে নির্ধারিত অবতরণ বাতিল করা হয়েছে। এরপর বিমানটি হঠাৎ অত্যন্ত তীব্রভাবে দিক পরিবর্তন করে এবং শক্তিশালী গতিতে উপরে উঠতে শুরু করে।

তার ভাষায়, সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল বিমানটি যেন অন্য একটি উড়োজাহাজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। ইঞ্জিনের প্রবল শব্দ এবং আকস্মিক কৌশলগত পরিবর্তনে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে বিমানটি হয়তো বিধ্বস্ত হতে পারে।

এরপর প্রায় ১৫ মিনিট বিমানটি আকাশে চক্কর দিতে থাকে। কিন্তু পুরো সময়ে ককপিট থেকে যাত্রীদের উদ্দেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এতে কেবিনজুড়ে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।

British Airways flight to Heathrow 'seconds from disaster' after mid-air  incident - Yahoo News UK
আতঙ্কে ভেঙে পড়েন এক নারী যাত্রী

এডওয়ার্ড জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এক নারী যাত্রী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন, **“আমি মরতে চাই না।”**

তিনি ও তার সঙ্গী জুলি ওই নারীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এডওয়ার্ডের মতে, কেবিনের অধিকাংশ যাত্রীই তখন বুঝতে পারছিলেন যে বিমানে গুরুতর কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং সবাই চরম উদ্বেগে ছিলেন।

কী ঘটেছিল বিমানে?

ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোর কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানের একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টল সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়।

পাইলটরা এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থায় পরিচালনা করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সুরক্ষার কিছু সুবিধা আর কার্যকর থাকে না। প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় আবারও স্টল সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

এই অবস্থায় পাইলটরা আগে পাঠানো জরুরি সংকেত আরও উন্নীত করে ‘মেডে’ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিপদসংকেত পাঠান, যা বোঝায় বিমানটি তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

British Airways Flight Returns to London Mid-Atlantic Due to Tyre Pressure  Issue
নিরাপদ অবতরণ, তবু নেমে আসে নীরবতা

শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে হিথ্রোতে অবতরণ করে। রানওয়েতে আগে থেকেই দমকলের একাধিক গাড়ি ও পুলিশ উপস্থিত ছিল।

এডওয়ার্ড বলেন, অবতরণের পরও ককপিট থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে তিনি মনে করেন, সেই মুহূর্তে পাইলটদের সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল।

তার ভাষায়, অবতরণের পর কয়েকজন হাততালি দিলেও অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন একেবারে নীরব। তার সঙ্গী জুলির চোখেও তখন অশ্রু নেমে আসে। সবাই যেন শুধু নিরাপদে মাটিতে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন।

 তদন্ত চলছে

যুক্তরাজ্যের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও তদন্তে সহযোগিতা করছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগ বলে জানিয়েছে।

আকাশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় নির্ধারণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’

আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন

০৭:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জার্মানির ডুসেলডর্ফ থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে আসা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে সৃষ্ট প্রযুক্তিগত জটিলতা যাত্রীদের জন্য পরিণত হয় ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতায়। অবতরণের ঠিক আগে বিমানটি জরুরি বিপদসংকেত পাঠায় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করলেও পুরো ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন।

 অবতরণের আগে আচমকা পরিস্থিতির অবনতি

৬ জুলাইয়ের ওই ফ্লাইটে থাকা যাত্রী এডওয়ার্ড কিল্লিউইকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে যাত্রীদের জানানো হয় যে নির্ধারিত অবতরণ বাতিল করা হয়েছে। এরপর বিমানটি হঠাৎ অত্যন্ত তীব্রভাবে দিক পরিবর্তন করে এবং শক্তিশালী গতিতে উপরে উঠতে শুরু করে।

তার ভাষায়, সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল বিমানটি যেন অন্য একটি উড়োজাহাজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। ইঞ্জিনের প্রবল শব্দ এবং আকস্মিক কৌশলগত পরিবর্তনে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে বিমানটি হয়তো বিধ্বস্ত হতে পারে।

এরপর প্রায় ১৫ মিনিট বিমানটি আকাশে চক্কর দিতে থাকে। কিন্তু পুরো সময়ে ককপিট থেকে যাত্রীদের উদ্দেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এতে কেবিনজুড়ে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।

British Airways flight to Heathrow 'seconds from disaster' after mid-air  incident - Yahoo News UK
আতঙ্কে ভেঙে পড়েন এক নারী যাত্রী

এডওয়ার্ড জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এক নারী যাত্রী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন, **“আমি মরতে চাই না।”**

তিনি ও তার সঙ্গী জুলি ওই নারীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এডওয়ার্ডের মতে, কেবিনের অধিকাংশ যাত্রীই তখন বুঝতে পারছিলেন যে বিমানে গুরুতর কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং সবাই চরম উদ্বেগে ছিলেন।

কী ঘটেছিল বিমানে?

ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোর কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানের একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টল সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়।

পাইলটরা এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থায় পরিচালনা করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সুরক্ষার কিছু সুবিধা আর কার্যকর থাকে না। প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় আবারও স্টল সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

এই অবস্থায় পাইলটরা আগে পাঠানো জরুরি সংকেত আরও উন্নীত করে ‘মেডে’ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিপদসংকেত পাঠান, যা বোঝায় বিমানটি তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

British Airways Flight Returns to London Mid-Atlantic Due to Tyre Pressure  Issue
নিরাপদ অবতরণ, তবু নেমে আসে নীরবতা

শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে হিথ্রোতে অবতরণ করে। রানওয়েতে আগে থেকেই দমকলের একাধিক গাড়ি ও পুলিশ উপস্থিত ছিল।

এডওয়ার্ড বলেন, অবতরণের পরও ককপিট থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে তিনি মনে করেন, সেই মুহূর্তে পাইলটদের সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল।

তার ভাষায়, অবতরণের পর কয়েকজন হাততালি দিলেও অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন একেবারে নীরব। তার সঙ্গী জুলির চোখেও তখন অশ্রু নেমে আসে। সবাই যেন শুধু নিরাপদে মাটিতে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন।

 তদন্ত চলছে

যুক্তরাজ্যের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও তদন্তে সহযোগিতা করছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগ বলে জানিয়েছে।

আকাশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় নির্ধারণ করা হবে।