১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
নিখোঁজ মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি যুদ্ধের বিস্তার থেকে কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতা: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতায় ইরানের কৌশলগত   তথ্যের লড়াইয়ে জয়ী হয় কে: অর্থ, প্রচারণা নাকি বিশ্বাসযোগ্যতা? মাদিবা শার্ট: পোশাক থেকে স্বাধীনতার প্রতীক, জন কানি বললেন ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্যুটের শৃঙ্খল ভেঙেছেন’ ক্রিপ্টো-উপনিবেশবাদের নতুন মুখ: ক্যারিবীয় দ্বীপে সার্বভৌমত্বের নীরব লড়াই ঢাকার কালাবাগানে হোস্টেলে নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরের নেছারাবাদেই তৈরি দেশের ৭৫ শতাংশ ক্রিকেট ব্যাট, এবার বৈশ্বিক বাজারে নজর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে গাড়ি, চলতি বছরই রপ্তানি হবে ১০০টি যানবাহন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করলেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আকাশে আতঙ্ক, হিথ্রোতে জরুরি অবতরণ: ‘আমি মরতে চাই না’—চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো কেবিন

নিখোঁজ মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি

প্রতিদিন গড়ে ১৮৩ জন মানুষ হঠাৎ করে হারিয়ে যায়। তিন বছরে সংখ্যাটি দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই পরিসংখ্যান কেবল অপরাধের একটি উপাত্ত নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং নাগরিক সুরক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার এক গভীর প্রশ্নও তুলে ধরে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পরও ব্রাজিলে আজও এমন কোনো কার্যকর জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, যেখানে এই ঘটনাগুলোর তথ্য একত্রে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায়।

কোনো রাষ্ট্রে মানুষ নিখোঁজ হওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন এটি নিয়মিত ও ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন সেটিকে কেবল পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। এটি জননিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক সংকটে পরিণত হয়। অথচ ব্রাজিলে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে এমনভাবে দেখা হয়েছে যেন এটি পুলিশের প্রধান দায়িত্বের বিষয় নয়, বরং পরিবারের ব্যক্তিগত সমস্যা।

ব্রাজিলিয়ান পাবলিক সিকিউরিটি ফোরামের গবেষণা এই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। অথচ তদন্তের ক্ষেত্রে এই বয়সী নিখোঁজদের প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশেষ করে কোনো কিশোর ছেলে নিখোঁজ হলে অনেক ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে সে হয়তো বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কিংবা বিদ্রোহী আচরণ করছে। ফলে তদন্ত শুরুতেই গতি হারায়।

Sustaining an essential dataset: the global baseline on internal  displacement | IDMC - Internal Displacement Monitoring Centre

এই মানসিকতা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি বিপজ্জনক সামাজিক পূর্বধারণার প্রতিফলন। কোনো মানুষ কেন নিখোঁজ হয়েছে, তা যাচাইয়ের আগেই যদি ধরে নেওয়া হয় যে সে স্বেচ্ছায় চলে গেছে, তাহলে অপরাধের সম্ভাবনাও আড়ালে থেকে যায়। মানবপাচার, যৌন শোষণ, হত্যাকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো অপরাধ—সবকিছুই তখন তদন্তের বাইরে চলে যেতে পারে।

সমস্যাটি আরও গভীর হয়েছে তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে। ব্রাজিলে নিখোঁজ হওয়া নিজেই কোনো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত নয়। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, তারও একক মানদণ্ড নেই। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যে তথ্য লিখছেন, সেটিই মূল রেকর্ডে পরিণত হচ্ছে। কোথাও বিস্তারিত তথ্য আছে, কোথাও নেই। ফলে দেশের সামগ্রিক চিত্র বোঝা বা কোনো প্রবণতা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণও অসম্ভব হয়ে ওঠে। কতজন স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে, কতজন অপরাধের শিকার হয়েছে, কতজন পাচারের শিকার কিংবা কতজনের মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার না থাকলে কার্যকর নীতি তৈরিও সম্ভব নয়। তথ্যের এই শূন্যতা শেষ পর্যন্ত অপরাধীদেরই সুবিধা দেয়।

ব্রাজিলের আরেকটি বড় সমস্যা হলো অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে তথ্যের সমন্বয়ের অভাব। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নেই। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির একটি দেশে একজন মানুষ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে গেলে তদন্ত প্রায়ই জটিল হয়ে পড়ে। একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেস এই সমস্যার বড় সমাধান হতে পারত, কিন্তু সেটিই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

অথচ আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। ২০১৯ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় নীতিমালা এবং একীভূত নিবন্ধন তৈরির আইন পাস হয়। কিন্তু আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ কিংবা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে আইন কাগজে রয়ে গেছে, বাস্তবে নয়। রাষ্ট্র যখন নিজের ঘোষিত নীতিই বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তখন নাগরিকদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Facial recognition surveillance in São Paulo could worsen racism | Business  and Economy News | Al Jazeera

এর সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিতে হয় পরিবারগুলোকে। তদন্তের ভার অনেক সময় তাদের কাঁধেই এসে পড়ে। তারা পোস্টার ছাপায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়, হাসপাতাল ও থানায় ঘুরে বেড়ায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নেয়। বছরের পর বছর ধরে তারা অপেক্ষা করে একটি উত্তর পাওয়ার জন্য—প্রিয়জন বেঁচে আছে, নাকি আর কখনো ফিরবে না।

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ইভানিজে এসপেরিদিয়াও দা সিলভা। ১৯৯৫ সালে তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি ‘মায়েস দা সে’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—হাজার হাজার পরিবার একই অনুভূতির মধ্যে বেঁচে আছে: অবহেলা, পরিত্যক্ত হওয়া এবং অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি। তাদের কাছে নিখোঁজ হওয়া শুধু একটি মামলা নয়; এটি প্রতিদিনের মানসিক যন্ত্রণা।

রাষ্ট্র যখন মানুষের নিরাপত্তাকে পরিসংখ্যানের খাতায় সীমাবদ্ধ রাখে, তখন সংখ্যাগুলো ধীরে ধীরে মানবিক অর্থ হারাতে শুরু করে। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন, একটি উত্তরহীন প্রশ্ন। তাই নিখোঁজ মানুষের সংকটকে কেবল অপরাধ পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের জবাবদিহি, তথ্যব্যবস্থা এবং মানবিক দায়িত্বের পরীক্ষাও হিসেবে দেখতে হবে।

ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। শক্তিশালী আইন যথেষ্ট নয়, যদি তার বাস্তবায়ন না হয়। উন্নত তদন্তও সম্ভব নয়, যদি তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। আর কোনো পরিবার কখনো একা হয়ে পড়বে না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যায় না, যদি রাষ্ট্র নিজেই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে না থাকে। নিখোঁজ মানুষদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি শুরু হয় একটি কার্যকর নিবন্ধন, সমন্বিত তদন্ত এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকে। তার আগে পর্যন্ত প্রতিটি নতুন নিখোঁজের খবর শুধু আরেকটি সংখ্যা যোগ করবে, আর অসংখ্য পরিবারকে ঠেলে দেবে এক অনিশ্চিত অপেক্ষার অন্ধকারে।

নিখোঁজ মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি

নিখোঁজ মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি

১০:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিদিন গড়ে ১৮৩ জন মানুষ হঠাৎ করে হারিয়ে যায়। তিন বছরে সংখ্যাটি দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই পরিসংখ্যান কেবল অপরাধের একটি উপাত্ত নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং নাগরিক সুরক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার এক গভীর প্রশ্নও তুলে ধরে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পরও ব্রাজিলে আজও এমন কোনো কার্যকর জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, যেখানে এই ঘটনাগুলোর তথ্য একত্রে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায়।

কোনো রাষ্ট্রে মানুষ নিখোঁজ হওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন এটি নিয়মিত ও ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন সেটিকে কেবল পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। এটি জননিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক সংকটে পরিণত হয়। অথচ ব্রাজিলে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে এমনভাবে দেখা হয়েছে যেন এটি পুলিশের প্রধান দায়িত্বের বিষয় নয়, বরং পরিবারের ব্যক্তিগত সমস্যা।

ব্রাজিলিয়ান পাবলিক সিকিউরিটি ফোরামের গবেষণা এই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। অথচ তদন্তের ক্ষেত্রে এই বয়সী নিখোঁজদের প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশেষ করে কোনো কিশোর ছেলে নিখোঁজ হলে অনেক ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে সে হয়তো বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কিংবা বিদ্রোহী আচরণ করছে। ফলে তদন্ত শুরুতেই গতি হারায়।

Sustaining an essential dataset: the global baseline on internal  displacement | IDMC - Internal Displacement Monitoring Centre

এই মানসিকতা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি বিপজ্জনক সামাজিক পূর্বধারণার প্রতিফলন। কোনো মানুষ কেন নিখোঁজ হয়েছে, তা যাচাইয়ের আগেই যদি ধরে নেওয়া হয় যে সে স্বেচ্ছায় চলে গেছে, তাহলে অপরাধের সম্ভাবনাও আড়ালে থেকে যায়। মানবপাচার, যৌন শোষণ, হত্যাকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো অপরাধ—সবকিছুই তখন তদন্তের বাইরে চলে যেতে পারে।

সমস্যাটি আরও গভীর হয়েছে তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে। ব্রাজিলে নিখোঁজ হওয়া নিজেই কোনো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত নয়। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, তারও একক মানদণ্ড নেই। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যে তথ্য লিখছেন, সেটিই মূল রেকর্ডে পরিণত হচ্ছে। কোথাও বিস্তারিত তথ্য আছে, কোথাও নেই। ফলে দেশের সামগ্রিক চিত্র বোঝা বা কোনো প্রবণতা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণও অসম্ভব হয়ে ওঠে। কতজন স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে, কতজন অপরাধের শিকার হয়েছে, কতজন পাচারের শিকার কিংবা কতজনের মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার না থাকলে কার্যকর নীতি তৈরিও সম্ভব নয়। তথ্যের এই শূন্যতা শেষ পর্যন্ত অপরাধীদেরই সুবিধা দেয়।

ব্রাজিলের আরেকটি বড় সমস্যা হলো অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে তথ্যের সমন্বয়ের অভাব। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ নেই। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির একটি দেশে একজন মানুষ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে গেলে তদন্ত প্রায়ই জটিল হয়ে পড়ে। একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেস এই সমস্যার বড় সমাধান হতে পারত, কিন্তু সেটিই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

অথচ আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। ২০১৯ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় নীতিমালা এবং একীভূত নিবন্ধন তৈরির আইন পাস হয়। কিন্তু আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ কিংবা প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে আইন কাগজে রয়ে গেছে, বাস্তবে নয়। রাষ্ট্র যখন নিজের ঘোষিত নীতিই বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তখন নাগরিকদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Facial recognition surveillance in São Paulo could worsen racism | Business  and Economy News | Al Jazeera

এর সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিতে হয় পরিবারগুলোকে। তদন্তের ভার অনেক সময় তাদের কাঁধেই এসে পড়ে। তারা পোস্টার ছাপায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালায়, হাসপাতাল ও থানায় ঘুরে বেড়ায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নেয়। বছরের পর বছর ধরে তারা অপেক্ষা করে একটি উত্তর পাওয়ার জন্য—প্রিয়জন বেঁচে আছে, নাকি আর কখনো ফিরবে না।

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ইভানিজে এসপেরিদিয়াও দা সিলভা। ১৯৯৫ সালে তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি ‘মায়েস দা সে’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—হাজার হাজার পরিবার একই অনুভূতির মধ্যে বেঁচে আছে: অবহেলা, পরিত্যক্ত হওয়া এবং অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি। তাদের কাছে নিখোঁজ হওয়া শুধু একটি মামলা নয়; এটি প্রতিদিনের মানসিক যন্ত্রণা।

রাষ্ট্র যখন মানুষের নিরাপত্তাকে পরিসংখ্যানের খাতায় সীমাবদ্ধ রাখে, তখন সংখ্যাগুলো ধীরে ধীরে মানবিক অর্থ হারাতে শুরু করে। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন, একটি উত্তরহীন প্রশ্ন। তাই নিখোঁজ মানুষের সংকটকে কেবল অপরাধ পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের জবাবদিহি, তথ্যব্যবস্থা এবং মানবিক দায়িত্বের পরীক্ষাও হিসেবে দেখতে হবে।

ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। শক্তিশালী আইন যথেষ্ট নয়, যদি তার বাস্তবায়ন না হয়। উন্নত তদন্তও সম্ভব নয়, যদি তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। আর কোনো পরিবার কখনো একা হয়ে পড়বে না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যায় না, যদি রাষ্ট্র নিজেই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে না থাকে। নিখোঁজ মানুষদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি শুরু হয় একটি কার্যকর নিবন্ধন, সমন্বিত তদন্ত এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকে। তার আগে পর্যন্ত প্রতিটি নতুন নিখোঁজের খবর শুধু আরেকটি সংখ্যা যোগ করবে, আর অসংখ্য পরিবারকে ঠেলে দেবে এক অনিশ্চিত অপেক্ষার অন্ধকারে।