নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ২০১১ সালের ভয়াবহ হামলায় নিহত ৭৭ জনের স্মরণে নতুন একটি স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়েছে। হামলার ১৫তম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া মানুষ, নিহতদের স্বজন ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতির সঙ্গে গণতন্ত্রের বার্তা
২০১১ সালের ২২ জুলাই নরওয়েতে ঘটে দেশটির শান্তিকালীন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। ওই ঘটনায় প্রথমে অসলোতে বোমা বিস্ফোরণে আটজন নিহত হন। পরে উটোয়া দ্বীপের একটি যুব শিবিরে হামলা চালিয়ে আরও ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন কিশোর-কিশোরী। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হন।
নতুন স্মৃতিসৌধটি শুধু নিহতদের স্মরণ নয়, বরং ঘৃণা ও উগ্র মতবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রতীক হিসেবেও তৈরি করা হয়েছে।

শিল্পকর্মে উঠে এসেছে উটোয়ার স্মৃতি
অসলোতে নতুন সরকারি এলাকায় স্থাপন করা এই স্মৃতিসৌধে একটি বড় শিল্পকর্ম রয়েছে। এতে নীল রঙের ইস্পাত কাঠামোর ওপর পাথরের তৈরি মোজাইকে উটোয়া দ্বীপের একটি স্থানীয় পাখির ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
শিল্পী মাতিয়াস ফালদবাকেন জানিয়েছেন, উটোয়া দ্বীপে দেখা সেই পাখিকে কেন্দ্র করেই তিনি এই কাজটি তৈরি করেছেন। শিল্পকর্মে পানি, খড় ও কাঠির প্রতিচ্ছবিও তুলে ধরা হয়েছে।
স্মৃতিসৌধে খোদাই করা হয়েছে হামলায় নিহত ৭৭ জনের নাম।
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজন ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা বলেন, ২০১১ সালের হামলা শুধু মানুষের ওপর আঘাত ছিল না, এটি ছিল গণতন্ত্রের ওপরও আক্রমণ।

নরওয়ের যুব সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। নতুন স্মৃতিসৌধটি তাদের স্বপ্ন, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার স্মারক হিসেবে থাকবে।
নরওয়ের রাজপরিবার ও সরকারি কর্মকর্তারাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেশটির জাতীয় স্মরণ ও শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করতেও যান ক্রাউন প্রিন্স হাকন।
হামলাকারীর বিচার ও পরবর্তী ঘটনা
২০১২ সালে হামলাকারী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিককে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নরওয়ের আইনে এটি সর্বোচ্চ সাজা হলেও, তাকে সমাজের জন্য হুমকি মনে হলে সাজা বাড়ানো যেতে পারে।
পরবর্তী সময়ে তিনি সাজা ও বন্দিজীবন নিয়ে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিলেও সফল হননি। আদালত জানিয়েছে, তিনি এখনো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।
নতুন স্মৃতিসৌধটি নরওয়ের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়কে মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শান্তি, সহনশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার বার্তাও বহন করছে।
২০১১ সালের হামলার ৭৭ শহীদের স্মরণে নরওয়েতে নতুন স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে গণতন্ত্র ও শান্তির বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















