দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ আসিয়ানের (আসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দক্ষিণ চীন সাগর, ইরান সংকট এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, ১১ সদস্যের আসিয়ান জোটের আয়োজিত বৈঠকে যোগ দেবেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরের সময় তিনি ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাজারোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডমিনিক জেভিয়ার ইম্পেরিয়াল।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ম্যানিলায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এ বৈঠকে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো “স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গড়ে তোলার যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নেওয়া, যাতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, এই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলা করা। গত বছর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে রুবিও ও ওয়াং ই বৈঠক করেছিলেন। এছাড়া চলতি বছরের বসন্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পর দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের মধ্যে টেলিফোনেও আলোচনা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট আলোচনায়
ম্যানিলার বৈঠকে ইরান পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর এর প্রভাব এশিয়ার বহু দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত মোট হাইড্রোকার্বনের প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর গন্তব্যে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও দক্ষিণ চীন সাগর
গত মে মাসে সেবুতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর নেতারা একটি যৌথ জ্বালানি মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস। এ বছর ফিলিপাইন আসিয়ানের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
ম্যানিলা সফরে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন মার্কো রুবিও। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ অন্যতম প্রধান বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জলসীমির মালিকানা নিয়ে চীন এবং আসিয়ানের একাধিক সদস্য দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ইস্যুর সমন্বয়ে এবারের আসিয়ান বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আসিয়ান বৈঠকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা, দক্ষিণ চীন সাগর ও ইরান সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















