০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা, ইউক্রেনের নতুন সামরিক নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা কারাগারে বসেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, এবার বার পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তেজনা, থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি করতে হলে আমেরিকাতেই উৎপাদন করতে হবে বোম্বার্ডিয়ারকে সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম? জমি দখলের নতুন ছক, পশ্চিম তীরে বসতি বাড়াচ্ছেন দুই ইসরায়েলি ভাই ডলারকে বিদায় নয়, বিকল্পের দরজা খোলা রাখছে রাশিয়া সৌদি আরবের চার শহরে হুথিদের হামলা, আহত ৭৩ নেপাল থেকে ডিখৌ: ভয়াবহ বন্যার পেছনে জলবায়ু ও ভূতত্ত্বের অশনি সংকেত

৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

মাত্র ৯ বছর বয়সে স্কুলের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল শিশুকে। তাদের সামনে প্রকাশ্যে একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য আজও ভুলতে পারেননি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানবাধিকারকর্মী কিম ইউন-জু। তাঁর ভাষায়, সেই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি রাষ্ট্র কীভাবে ভয়কে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তার নির্মম উদাহরণ।

শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি

কিম ইউন-জু জানান, ছোটবেলায় পরিবারের পোষা কুকুর মারা গেলেও তিনি কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু প্রথমবার একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেই দৃশ্য ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে এমন ঘটনায় দুঃখ বা অস্বস্তি প্রকাশ করাও বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চারপাশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের প্রতি সহানুভূতির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিয়ে কিম ইউন-জু উত্তর কোরিয়ায় প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব মৃত্যুদণ্ডের মূল উদ্দেশ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে পুরো ঘটনা দেখানো হতো। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, তাঁর পরিবার এবং পুরো সমাজকে ভয় দেখানোর বার্তা দেওয়া হতো।

বেঁচে থাকার সংগ্রামেই মৃত্যুদণ্ড

কিম ইউন-জুর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনার কথা, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করেও মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছে।

তিনি জানান, গরু জবাই করে মাংস খাওয়া, অল্প পরিমাণ ভুট্টা নিয়ে বিরোধে জড়ানো কিংবা সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থেকে ধাতু খুলে বিক্রির চেষ্টা—এ ধরনের ঘটনাতেও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন তিনি।

এখনও চলছে কঠোর দমননীতি

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় এখনও বিভিন্ন অপরাধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন বা গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু দেখা বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

কিম ইউন-জু মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও উত্তর কোরিয়ার বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র জানতে পারেনি। তাই এসব ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা জরুরি।

স্বচ্ছতার দাবিতে আহ্বান

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিলের দাবি না জানিয়ে প্রথমে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর না করা, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কারাগারে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কিম ইউন-জুর বিশ্বাস, মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবাধিকার সংস্কারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি চান, উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের

৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

০৮:০১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মাত্র ৯ বছর বয়সে স্কুলের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল শিশুকে। তাদের সামনে প্রকাশ্যে একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য আজও ভুলতে পারেননি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানবাধিকারকর্মী কিম ইউন-জু। তাঁর ভাষায়, সেই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি রাষ্ট্র কীভাবে ভয়কে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তার নির্মম উদাহরণ।

শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি

কিম ইউন-জু জানান, ছোটবেলায় পরিবারের পোষা কুকুর মারা গেলেও তিনি কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু প্রথমবার একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেই দৃশ্য ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে এমন ঘটনায় দুঃখ বা অস্বস্তি প্রকাশ করাও বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চারপাশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের প্রতি সহানুভূতির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিয়ে কিম ইউন-জু উত্তর কোরিয়ায় প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব মৃত্যুদণ্ডের মূল উদ্দেশ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে পুরো ঘটনা দেখানো হতো। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, তাঁর পরিবার এবং পুরো সমাজকে ভয় দেখানোর বার্তা দেওয়া হতো।

বেঁচে থাকার সংগ্রামেই মৃত্যুদণ্ড

কিম ইউন-জুর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনার কথা, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করেও মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছে।

তিনি জানান, গরু জবাই করে মাংস খাওয়া, অল্প পরিমাণ ভুট্টা নিয়ে বিরোধে জড়ানো কিংবা সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থেকে ধাতু খুলে বিক্রির চেষ্টা—এ ধরনের ঘটনাতেও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন তিনি।

এখনও চলছে কঠোর দমননীতি

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় এখনও বিভিন্ন অপরাধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন বা গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু দেখা বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

কিম ইউন-জু মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও উত্তর কোরিয়ার বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র জানতে পারেনি। তাই এসব ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা জরুরি।

স্বচ্ছতার দাবিতে আহ্বান

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিলের দাবি না জানিয়ে প্রথমে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর না করা, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কারাগারে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কিম ইউন-জুর বিশ্বাস, মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবাধিকার সংস্কারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি চান, উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হোক।