০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য ঢাকা-বেইজিং বৈঠকে পরিবহন করিডর ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শিশুপুত্রকে বাঁচাতে বিশেষ হৃদযন্ত্রের আবেদন, অঙ্গদানে সচেতনতার আহ্বান পরিবারের বিদেশ নয়, দেশে থেকেই নতুন দক্ষতা শেখার ছুটি—জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ভ্রমণধারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দিলে বিশ্বে বিপজ্জনক নজির তৈরি হবে: আসিয়ানে রুবিওর সতর্কবার্তা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১০ জঙ্গি নিহত, আটক দুই নারী আত্মঘাতী হামলাকারী ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: হরমুজে জাহাজে হামলা হলে ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে লক্ষ্য রাহুল গান্ধীর দাবি: ‘শিক্ষামন্ত্রী থাকার যোগ্য নন’ ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে সরকারের কড়া সমালোচনা বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসে বদল আনতে সেনাবাহিনীর খাবারে নতুন ভাবনা, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় টানা বৃষ্টিতে প্রাণহানি বেড়ে ১৮, ভূমিধসে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ

৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

মাত্র ৯ বছর বয়সে স্কুলের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল শিশুকে। তাদের সামনে প্রকাশ্যে একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য আজও ভুলতে পারেননি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানবাধিকারকর্মী কিম ইউন-জু। তাঁর ভাষায়, সেই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি রাষ্ট্র কীভাবে ভয়কে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তার নির্মম উদাহরণ।

শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি

কিম ইউন-জু জানান, ছোটবেলায় পরিবারের পোষা কুকুর মারা গেলেও তিনি কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু প্রথমবার একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেই দৃশ্য ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে এমন ঘটনায় দুঃখ বা অস্বস্তি প্রকাশ করাও বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চারপাশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের প্রতি সহানুভূতির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিয়ে কিম ইউন-জু উত্তর কোরিয়ায় প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব মৃত্যুদণ্ডের মূল উদ্দেশ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে পুরো ঘটনা দেখানো হতো। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, তাঁর পরিবার এবং পুরো সমাজকে ভয় দেখানোর বার্তা দেওয়া হতো।

বেঁচে থাকার সংগ্রামেই মৃত্যুদণ্ড

কিম ইউন-জুর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনার কথা, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করেও মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছে।

তিনি জানান, গরু জবাই করে মাংস খাওয়া, অল্প পরিমাণ ভুট্টা নিয়ে বিরোধে জড়ানো কিংবা সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থেকে ধাতু খুলে বিক্রির চেষ্টা—এ ধরনের ঘটনাতেও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন তিনি।

এখনও চলছে কঠোর দমননীতি

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় এখনও বিভিন্ন অপরাধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন বা গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু দেখা বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

কিম ইউন-জু মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও উত্তর কোরিয়ার বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র জানতে পারেনি। তাই এসব ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা জরুরি।

স্বচ্ছতার দাবিতে আহ্বান

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিলের দাবি না জানিয়ে প্রথমে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর না করা, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কারাগারে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কিম ইউন-জুর বিশ্বাস, মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবাধিকার সংস্কারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি চান, উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য

৯ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

০৮:০১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মাত্র ৯ বছর বয়সে স্কুলের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল শিশুকে। তাদের সামনে প্রকাশ্যে একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য আজও ভুলতে পারেননি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানবাধিকারকর্মী কিম ইউন-জু। তাঁর ভাষায়, সেই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি রাষ্ট্র কীভাবে ভয়কে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তার নির্মম উদাহরণ।

শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি

কিম ইউন-জু জানান, ছোটবেলায় পরিবারের পোষা কুকুর মারা গেলেও তিনি কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু প্রথমবার একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেই দৃশ্য ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে এমন ঘটনায় দুঃখ বা অস্বস্তি প্রকাশ করাও বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চারপাশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের প্রতি সহানুভূতির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিয়ে কিম ইউন-জু উত্তর কোরিয়ায় প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব মৃত্যুদণ্ডের মূল উদ্দেশ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে পুরো ঘটনা দেখানো হতো। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, তাঁর পরিবার এবং পুরো সমাজকে ভয় দেখানোর বার্তা দেওয়া হতো।

বেঁচে থাকার সংগ্রামেই মৃত্যুদণ্ড

কিম ইউন-জুর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনার কথা, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করেও মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছে।

তিনি জানান, গরু জবাই করে মাংস খাওয়া, অল্প পরিমাণ ভুট্টা নিয়ে বিরোধে জড়ানো কিংবা সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থেকে ধাতু খুলে বিক্রির চেষ্টা—এ ধরনের ঘটনাতেও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন তিনি।

এখনও চলছে কঠোর দমননীতি

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় এখনও বিভিন্ন অপরাধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন বা গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু দেখা বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

কিম ইউন-জু মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও উত্তর কোরিয়ার বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র জানতে পারেনি। তাই এসব ঘটনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা জরুরি।

স্বচ্ছতার দাবিতে আহ্বান

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিলের দাবি না জানিয়ে প্রথমে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর না করা, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কারাগারে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কিম ইউন-জুর বিশ্বাস, মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবাধিকার সংস্কারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি চান, উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হোক।