১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, টার্মিনালে শত শত যাত্রীর ভোগান্তি স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল, ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা বৃদ্ধি সরকারি ভর্তুকির সার যাচ্ছে মিয়ানমারে, সাগরপথে সক্রিয় সংঘবদ্ধ পাচারচক্র ময়মনসিংহে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩; আহত অন্তত ৮ নেপালের বন্যায় বন্ধ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা, বাড়ল ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি হাম-ডেঙ্গুর দাপটে আতঙ্কে শিশুর অভিভাবকরা, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৯ জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতির পদ ছাড়লেন জাহিদ আহসান, যাচ্ছেন এনসিপির মূল দলে শরীরের গড়ন, বয়স কিংবা লিঙ্গ নয়—সিঙ্গাপুরে নতুন পরিচয় পাচ্ছে পোল নাচ পুনঃদরপত্রের খেসারত ১২৩ কোটি, চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার

৩০ বছরের বেশি সেনাসদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সক্রিয় ও রিজার্ভ বাহিনীর ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্তে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা চালুর বিস্তারিত চিকিৎসা নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন এই নীতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

পুরুষ সেনাসদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ সেনাসদস্যদের নিয়মিত টেস্টোস্টেরন রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে সবার জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শে বা টেস্টোস্টেরন ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে তাদের পরীক্ষা করা হবে।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা। এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা

Testosterone Testing: Who Needs It and Who Doesn't - WSJ

নারী সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত টেস্টোস্টেরন রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাসিক চক্রে অনিয়মসহ হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম শক্তি থাকা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা দেওয়া শক্তির ঘাটতিজনিত সমস্যার মতো পরিস্থিতি শনাক্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের পরিস্থিতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে, মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের অস্বাভাবিকভাবে কম যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকলে চিকিৎসকেরা অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে টেস্টোস্টেরন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই নীতি নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ব্যাপকভাবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চালু করলে এমন অনেক ব্যক্তির চিকিৎসা শুরু হতে পারে, যাদের আদৌ হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় কিংবা ক্ষতিকর চিকিৎসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

Pentagon makes testosterone screening mandatory for U.S. service members  effective immediately | CBC News

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের মধ্যে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি খুঁজে বের করার এই ধরনের ব্যাপক উদ্যোগ সামরিক সক্ষমতা বা যুদ্ধপ্রস্তুতি বাড়ায়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।

চিকিৎসা ব্যবহারের প্রমাণ নিয়ে আলোচনা

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগে থেকেই টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জুলাইয়ে তিনি সেনাসদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার বাধ্যতামূলক নীতি ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাবিদদের মধ্যে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি টেস্টোস্টেরনের চিকিৎসাগত ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফলে নতুন সামরিক নীতিটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি নিয়েও বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা নিয়ে নতুন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। তবে এর সুফল ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা মহলে এখনো মতভেদ রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, টার্মিনালে শত শত যাত্রীর ভোগান্তি

৩০ বছরের বেশি সেনাসদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে

১১:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সক্রিয় ও রিজার্ভ বাহিনীর ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্তে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা চালুর বিস্তারিত চিকিৎসা নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন এই নীতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

পুরুষ সেনাসদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ সেনাসদস্যদের নিয়মিত টেস্টোস্টেরন রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে সবার জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শে বা টেস্টোস্টেরন ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে তাদের পরীক্ষা করা হবে।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা। এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা

Testosterone Testing: Who Needs It and Who Doesn't - WSJ

নারী সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত টেস্টোস্টেরন রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাসিক চক্রে অনিয়মসহ হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম শক্তি থাকা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা দেওয়া শক্তির ঘাটতিজনিত সমস্যার মতো পরিস্থিতি শনাক্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের পরিস্থিতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে, মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের অস্বাভাবিকভাবে কম যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকলে চিকিৎসকেরা অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে টেস্টোস্টেরন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই নীতি নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ব্যাপকভাবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চালু করলে এমন অনেক ব্যক্তির চিকিৎসা শুরু হতে পারে, যাদের আদৌ হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় কিংবা ক্ষতিকর চিকিৎসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

Pentagon makes testosterone screening mandatory for U.S. service members  effective immediately | CBC News

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, সামরিক বাহিনীর সব সদস্যের মধ্যে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি খুঁজে বের করার এই ধরনের ব্যাপক উদ্যোগ সামরিক সক্ষমতা বা যুদ্ধপ্রস্তুতি বাড়ায়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।

চিকিৎসা ব্যবহারের প্রমাণ নিয়ে আলোচনা

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগে থেকেই টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জুলাইয়ে তিনি সেনাসদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার বাধ্যতামূলক নীতি ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাবিদদের মধ্যে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি টেস্টোস্টেরনের চিকিৎসাগত ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফলে নতুন সামরিক নীতিটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি নিয়েও বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা নিয়ে নতুন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। তবে এর সুফল ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা মহলে এখনো মতভেদ রয়েছে।