মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশটির রাজ্য সরকারগুলোর ওপর অভিবাসনবিষয়ক নজরদারি ও তথ্য সরবরাহের চাপ আরও বাড়িয়েছে। নতুন এক আইনি মতামতে বলা হয়েছে, রাজ্য সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করা অভিবাসীদের তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে না দিলে তারা বিপুল অঙ্কের কল্যাণ তহবিল হারাতে পারে।
সব রাজ্য সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ
মার্কিন বিচার বিভাগের আইনবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণ কর্মসূচির অর্থ পাওয়া রাজ্যগুলোর সব সরকারি সংস্থাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিতে হবে।
এর আগে এই দায়িত্ব মূলত ওই দুটি কল্যাণ কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন ব্যাখ্যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়, মোটরযান নিবন্ধন দপ্তরসহ অন্য যেসব সরকারি সংস্থার কাছে এ ধরনের ব্যক্তিদের তথ্য থাকতে পারে, সেগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জোশুয়া ক্র্যাডক সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশনা না মানলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে, যার মধ্যে কর্মসূচির অর্থায়ন হারানোর বিষয়টিও রয়েছে।

বছরে শত শত কোটি ডলারের তহবিল
নতুন নির্দেশনার প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, রাজধানী অঞ্চল এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন ভূখণ্ড এই দুটি কর্মসূচি থেকে অর্থ পেয়ে থাকে।
অভাবী পরিবারকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিতে প্রতিবছর কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান ১৬৫০ কোটি ডলারের বেশি। অন্যদিকে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য সম্পূরক আয় সহায়তা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সুবিধার পরিমাণ বছরে ৬০০০ কোটি ডলারের বেশি।
তবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা ব্যক্তিরা এই দুটি কর্মসূচির কোনোটিরই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।
নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা
বিচার বিভাগের এই মতামত নিজে কোনো আইন নয়। তবে এটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। ফলে রাজ্যগুলো এটি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া একটি কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ ঠেকাতে মামলা হয়েছে।

এর আগে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসীদের তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগির কয়েকটি উদ্যোগও সীমিত করেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিচারকেরা নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা কর্মসূচির তথ্য, অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে পাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েনের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে।
যেসব রাজ্য কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছে।
নতুন নির্দেশনা সেই চাপকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। কারণ অন্তত ১৯টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী অঞ্চলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। ফলে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ধরনের ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ব্যাখ্যা কার্যকর হলে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রাজ্যগুলোর কল্যাণ কর্মসূচির অর্থায়নও এ নীতির সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















