ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের
বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে এবং তার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা নোয়েমি কায়াবাব জানান, এখন পর্যন্ত বেয়াল্লিশ থেকে তেতাল্লিশ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে আটত্রিশ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য। তার ভাষায়, উদ্ধার ও হতাহতের হিসাব মেলালে এখনো সাতাশি জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের হদিস না মেলাটা উদ্ধারকারীদের জন্যও

আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার মতো পরিস্থিতিও এখনো তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফেরি চলাচল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলেও নিরাপত্তা মান নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। দুই হাজার তেইশ সালেও দেশটিতে একটি ফেরি দুর্ঘটনায় একত্রিশ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আর এই দুর্ঘটনা সেই পুরনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে। দ্বীপ থেকে দ্বীপে যাতায়াতের জন্য বিকল্প মাধ্যম সীমিত হওয়ায় যাত্রীবোঝাই ফেরির ওপর নির্ভরতা সহজে কমানো যাচ্ছে না, যা নিরাপত্তা সংস্কারের পথে একটি বড় বাস্তব বাধা হয়ে থেকে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব পাওয়া এই দুর্ঘটনার উদ্ধার অভিযান আগামী দিনগুলোয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে কতজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন এবং কোরোনের মতো পর্যটনপ্রবণ এলাকায় নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফিলিপাইন সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। হাজারো দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে ফেরিই লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান বাহন। ঘনবসতিপূর্ণ এই নৌপথে পুরনো ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই জাহাজ চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকলেও
দুই কিলোমিটারের কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে উপকূল থেকে দেখা এই আগুন মনে করিয়ে দেয়, সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উপকূলের কাছাকাছি থাকাটাও সবসময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। জাহাজে থাকা একশ চৌত্রিশ জনের প্রতিটি পরিবারের কাছে এখন প্রতিটি মুহূর্ত দীর্ঘ অপেক্ষার, আর সেই অপেক্ষার অবসান কবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত। নিখোঁজদের প্রতিটি পরিবারের জন্য উপকূলরক্ষী বাহিনীর প্রতিটি নতুন হালনাগাদ এখন প্রাণভোমরার মতো গুরুত্বপূর্ণ, যদিও নিশ্চিত সুসংবাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে ক্রমশ। জাহাজডুবি বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের প্রথম ঘণ্টাগুলোকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, আর সেই মূল্যবান সময়সীমাটুকুই এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এখন খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ক্রমাগত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















