০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত শান্তির বার্তা, ‘মতপার্থক্য যেন বিরোধে না গড়ায়’

আর্জেন্টিনায় মিলেইর অর্থনৈতিক সাফল্য, তবু বাড়ছে জনরোষ

তিন বছর আগে উগ্র মুক্তবাজারপন্থী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন হাভিয়ের মিলেই, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকারি ব্যয়ে কঠোর কাটছাঁটের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিকে মুক্ত করার। অনেক বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, এই আক্রমণাত্মক স্বভাবের নেতা আদৌ সফল হতে পারবেন কিনা। তবে মিলেই তাদের ভুল প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা নেওয়ার আগের মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ১৬১ শতাংশ, জুলাইয়ে তা নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে। অর্থনীতি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধির পথে, যা ২০০৮ সালের পণ্যবাজার চাঙাভাবের পর থেকে আর্জেন্টিনায় বিরল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় দারিদ্র্যের হারও কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

তবে তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০২৭ সালের অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেবেন আর্জেন্টাইনরা, অথচ মিলেইর জনপ্রিয়তা এখন তার মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অর্থনীতি বাড়লেও তা ধীর ও অসম, প্রকৃত মজুরি এখনো তার ক্ষমতা গ্রহণের সময়ের চেয়ে কম, আনুষ্ঠানিক খাতের চাকরি কমছে। জরিপ বলছে, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির পক্ষে থাকা বামপন্থী পেরোনিস্ট নেতাদের চেয়েও মিলেইর প্রতি ভোটারদের মূল্যায়ন খারাপ, যা উদ্বেগজনক, কারণ পুরোনো পথে ফেরা শুধু আর্জেন্টিনার জন্যই নয়, বিশ্বজুড়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির এক বড় পরীক্ষার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

মিলেইর অধিকাংশ অর্থনৈতিক নীতিই সঠিক পথে রয়েছে, বাজেট উদ্বৃত্ত বজায় রাখার তার প্রতিশ্রুতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ, নোট ছাপিয়ে টাকা ছাড়াই যে আর্জেন্টিনার সংকটের মূল কারণ তার এই অবস্থানও যৌক্তিক। তবে এখন মানুষ মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি চিন্তিত কর্মসংস্থান নিয়ে, তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের গতি সামান্য কমিয়ে হলেও প্রবৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার সময় এসেছে।Can Milei defuse Argentina's economic time bomb? | Reuters

এক্ষেত্রে সবচেয়ে যৌক্তিক পথ আরও বেশি মুক্তবাজারমুখী নীতি, যেমন অবশিষ্ট মূলধন নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া আর মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, যা ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে ব্যবসায় সহায়ক হতে পারে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি কর আদায় বাড়াবে, যা রপ্তানি করসহ অন্যান্য কর কমানোর সুযোগ তৈরি করবে বাজেট উদ্বৃত্তে আঘাত না করেই।

মিলেই অবশ্য একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করতে রাজি হননি যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে প্রবৃদ্ধিতে কোনো মূল্য দিতে হয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টাও করছেন তিনি, আর সাংবাদিকদের প্রতি ক্রমশ রূঢ় হয়ে উঠছেন। তার মিত্রদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তার সরকারকে দুর্বল করছে, ফলে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কাস্ট বলে আক্রমণ করাটা এখন তার নিজের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মিলেইর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূল্যস্ফীতি দমন আর প্রবৃদ্ধির মধ্যে, সহানুভূতি আর আক্রমণাত্মকতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার ওপর, যা তাকে ক্ষমতায় আনা আস্ফালনের চেয়ে ঢের কঠিন কাজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে

আর্জেন্টিনায় মিলেইর অর্থনৈতিক সাফল্য, তবু বাড়ছে জনরোষ

০৮:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন বছর আগে উগ্র মুক্তবাজারপন্থী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন হাভিয়ের মিলেই, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকারি ব্যয়ে কঠোর কাটছাঁটের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিকে মুক্ত করার। অনেক বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, এই আক্রমণাত্মক স্বভাবের নেতা আদৌ সফল হতে পারবেন কিনা। তবে মিলেই তাদের ভুল প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা নেওয়ার আগের মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ১৬১ শতাংশ, জুলাইয়ে তা নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে। অর্থনীতি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধির পথে, যা ২০০৮ সালের পণ্যবাজার চাঙাভাবের পর থেকে আর্জেন্টিনায় বিরল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় দারিদ্র্যের হারও কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

তবে তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০২৭ সালের অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেবেন আর্জেন্টাইনরা, অথচ মিলেইর জনপ্রিয়তা এখন তার মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অর্থনীতি বাড়লেও তা ধীর ও অসম, প্রকৃত মজুরি এখনো তার ক্ষমতা গ্রহণের সময়ের চেয়ে কম, আনুষ্ঠানিক খাতের চাকরি কমছে। জরিপ বলছে, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির পক্ষে থাকা বামপন্থী পেরোনিস্ট নেতাদের চেয়েও মিলেইর প্রতি ভোটারদের মূল্যায়ন খারাপ, যা উদ্বেগজনক, কারণ পুরোনো পথে ফেরা শুধু আর্জেন্টিনার জন্যই নয়, বিশ্বজুড়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির এক বড় পরীক্ষার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

মিলেইর অধিকাংশ অর্থনৈতিক নীতিই সঠিক পথে রয়েছে, বাজেট উদ্বৃত্ত বজায় রাখার তার প্রতিশ্রুতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ, নোট ছাপিয়ে টাকা ছাড়াই যে আর্জেন্টিনার সংকটের মূল কারণ তার এই অবস্থানও যৌক্তিক। তবে এখন মানুষ মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি চিন্তিত কর্মসংস্থান নিয়ে, তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের গতি সামান্য কমিয়ে হলেও প্রবৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার সময় এসেছে।Can Milei defuse Argentina's economic time bomb? | Reuters

এক্ষেত্রে সবচেয়ে যৌক্তিক পথ আরও বেশি মুক্তবাজারমুখী নীতি, যেমন অবশিষ্ট মূলধন নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া আর মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, যা ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে ব্যবসায় সহায়ক হতে পারে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি কর আদায় বাড়াবে, যা রপ্তানি করসহ অন্যান্য কর কমানোর সুযোগ তৈরি করবে বাজেট উদ্বৃত্তে আঘাত না করেই।

মিলেই অবশ্য একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করতে রাজি হননি যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে প্রবৃদ্ধিতে কোনো মূল্য দিতে হয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টাও করছেন তিনি, আর সাংবাদিকদের প্রতি ক্রমশ রূঢ় হয়ে উঠছেন। তার মিত্রদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তার সরকারকে দুর্বল করছে, ফলে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কাস্ট বলে আক্রমণ করাটা এখন তার নিজের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মিলেইর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূল্যস্ফীতি দমন আর প্রবৃদ্ধির মধ্যে, সহানুভূতি আর আক্রমণাত্মকতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার ওপর, যা তাকে ক্ষমতায় আনা আস্ফালনের চেয়ে ঢের কঠিন কাজ।