০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকসে এআই মুক্ত উৎস অঞ্চলের প্রস্তাব দিলেন সি চিনপিং মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট চাইছে জান্তা ভানুয়াতুতে ফেরি ডুবে নিখোঁজ ৩০, উঠছে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের প্রশ্ন ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ হোটেলের কক্ষে মিলল এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মরদেহ, ভেতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন’, আদালতে মিষ্টি সুভাষ হুথিদের দখলে কৌশলগত দ্বীপ, বাব আল-মান্দাব ঘিরে বাড়ছে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ব্রিকসে ঐক্যের বার্তা, বৈশ্বিক দক্ষিণের শক্তি বাড়ানোর ডাক মোদি-শি-পুতিনের জাভা সাগরে ফেরি উল্টে নিখোঁজ ১৩০, উদ্ধার ১০৭ সংস্কারবিরোধী সংবিধান?

৯/১১-এর বহু আগেই ভারতকে হামলার লক্ষ্য করেছিলেন ওসামা বিন লাদেন, জানাল সিআইএ নথি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত নতুন অবমুক্ত নথিতে উঠে এসেছে, আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার কয়েক বছর আগেই ভারতসহ একাধিক দেশে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সিআইএ ১১ সেপ্টেম্বর ৭১টি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি ৯/১১-সংক্রান্ত নথি অবমুক্ত করার সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি।

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নের শিরোনাম ছিল ‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনো হুমকি’। ওই নথিতে বলা হয়, বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক মিসর, আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে কুয়েত, সৌদি আরব ও ইয়েমেন—পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, উগান্ডা এবং সম্ভাব্যভাবে নাইজেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছিল।

তবে নথিতে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা, লক্ষ্য বা সময় উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, সিআইএর মূল্যায়ন ছিল—ভারত ও পাকিস্তানকে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছিল।

এই মূল্যায়নটি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগেই আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দূতাবাসে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ৭ আগস্ট কেনিয়ার নাইরোবি ও তানজানিয়ার দার এস সালামে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় ২২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিন লাদেন ও আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।

ভারতের ওপর বড় হামলার তিন বছর আগে সতর্কবার্তা

সিআইএর ১৯৯৮ সালের নথিতে ভারতের নাম আসার প্রায় তিন বছর পর, ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের সংসদ ভবন চত্বরে সন্ত্রাসী হামলা হয়। লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যরা ওই হামলায় জড়িত ছিল বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

হামলায় নিরাপত্তাকর্মী ও একজন মালীসহ নয়জন নিহত হন। পাঁচ হামলাকারীও নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মাত্র তিন মাস পরই ভারতের সংসদ ভবনে এই হামলা হয়েছিল।

তবে নতুন সিআইএ নথিতে ২০০১ সালের সংসদ হামলার সঙ্গে বিন লাদেনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। নথিটি মূলত দেখাচ্ছে, ১৯৯৮ সালেই মার্কিন গোয়েন্দারা বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের নাম চিহ্নিত করেছিল।

পাকিস্তানে বিন লাদেনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান বিন লাদেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। সিআইএর ৯/১১-সংক্রান্ত নথিতে বিন লাদেনের কর্মকাণ্ড এবং তালেবানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নজরদারির তথ্য রয়েছে।

২০০০ সালের জুনে সিআইএর আরেকটি মূল্যায়নের শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তান বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের ওপর চাপ দিচ্ছে’। এতে বোঝা যায়, ৯/১১ হামলার আগেও পাকিস্তানে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের গভীর আগ্রহ ছিল।

শেষ পর্যন্ত বিন লাদেন পাকিস্তানেই আত্মগোপন করে ছিলেন। ২০১০ সালে তার এক ঘনিষ্ঠ বার্তাবাহকের গতিবিধি অনুসরণ করে মার্কিন গোয়েন্দারা পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে একটি বাড়ির সন্ধান পায়। ২০১১ সালের ২ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ওই বাড়িতে বিন লাদেন নিহত হন।

৯/১১ হামলার আগেও একাধিক সতর্কবার্তা ছিল

সিআইএর অবমুক্ত নথিগুলোতে ৯/১১ হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে একাধিক সতর্কবার্তার কথাও উঠে এসেছে।

১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। একই বছরের ডিসেম্বরে বিমান ছিনতাইয়ের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়। এরপর ২০০১ সালের ৬ আগস্ট তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে দেওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’।

এর মাত্র ৩৬ দিন পর, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে।

আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। পরে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করে। দুটি টাওয়ারই পরে ধসে পড়ে।

আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত হানে। আর ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

এই হামলায় ১৯ জন ছিনতাইকারী বাদে মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

৯/১১ হামলায় বিন লাদেনের ভূমিকা কী ছিল?

ওসামা বিন লাদেন নিজে ৯/১১ হামলার কোনো বিমান ছিনতাইকারী ছিলেন না। তবে তিনি ছিলেন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা এবং সংগঠনটির নেতৃত্বের অংশ হিসেবে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৯/১১ হামলার পরিকল্পনা কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছিল। হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে ৯/১১ কমিশন খালিদ শেখ মোহাম্মদের নাম উল্লেখ করেছে। তিনি বিন লাদেন ও আল-কায়েদার অন্যান্য নেতার সঙ্গে সমন্বয় করে হামলার পরিকল্পনায় কাজ করেছিলেন।

নতুন করে অবমুক্ত হওয়া সিআইএ নথি তাই শুধু ৯/১১ হামলার আগের গোয়েন্দা সতর্কবার্তাই সামনে আনছে না; একই সঙ্গে দেখাচ্ছে, হামলার কয়েক বছর আগেই বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক লক্ষ্য সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা তৈরি হয়েছিল। সেই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নামও ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকসে এআই মুক্ত উৎস অঞ্চলের প্রস্তাব দিলেন সি চিনপিং

৯/১১-এর বহু আগেই ভারতকে হামলার লক্ষ্য করেছিলেন ওসামা বিন লাদেন, জানাল সিআইএ নথি

০৬:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত নতুন অবমুক্ত নথিতে উঠে এসেছে, আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার কয়েক বছর আগেই ভারতসহ একাধিক দেশে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সিআইএ ১১ সেপ্টেম্বর ৭১টি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি ৯/১১-সংক্রান্ত নথি অবমুক্ত করার সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি।

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নের শিরোনাম ছিল ‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনো হুমকি’। ওই নথিতে বলা হয়, বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক মিসর, আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে কুয়েত, সৌদি আরব ও ইয়েমেন—পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, উগান্ডা এবং সম্ভাব্যভাবে নাইজেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছিল।

তবে নথিতে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা, লক্ষ্য বা সময় উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, সিআইএর মূল্যায়ন ছিল—ভারত ও পাকিস্তানকে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছিল।

এই মূল্যায়নটি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগেই আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দূতাবাসে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ৭ আগস্ট কেনিয়ার নাইরোবি ও তানজানিয়ার দার এস সালামে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় ২২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিন লাদেন ও আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।

ভারতের ওপর বড় হামলার তিন বছর আগে সতর্কবার্তা

সিআইএর ১৯৯৮ সালের নথিতে ভারতের নাম আসার প্রায় তিন বছর পর, ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের সংসদ ভবন চত্বরে সন্ত্রাসী হামলা হয়। লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যরা ওই হামলায় জড়িত ছিল বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

হামলায় নিরাপত্তাকর্মী ও একজন মালীসহ নয়জন নিহত হন। পাঁচ হামলাকারীও নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মাত্র তিন মাস পরই ভারতের সংসদ ভবনে এই হামলা হয়েছিল।

তবে নতুন সিআইএ নথিতে ২০০১ সালের সংসদ হামলার সঙ্গে বিন লাদেনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। নথিটি মূলত দেখাচ্ছে, ১৯৯৮ সালেই মার্কিন গোয়েন্দারা বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের নাম চিহ্নিত করেছিল।

পাকিস্তানে বিন লাদেনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি

পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান বিন লাদেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। সিআইএর ৯/১১-সংক্রান্ত নথিতে বিন লাদেনের কর্মকাণ্ড এবং তালেবানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নজরদারির তথ্য রয়েছে।

২০০০ সালের জুনে সিআইএর আরেকটি মূল্যায়নের শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তান বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের ওপর চাপ দিচ্ছে’। এতে বোঝা যায়, ৯/১১ হামলার আগেও পাকিস্তানে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের গভীর আগ্রহ ছিল।

শেষ পর্যন্ত বিন লাদেন পাকিস্তানেই আত্মগোপন করে ছিলেন। ২০১০ সালে তার এক ঘনিষ্ঠ বার্তাবাহকের গতিবিধি অনুসরণ করে মার্কিন গোয়েন্দারা পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে একটি বাড়ির সন্ধান পায়। ২০১১ সালের ২ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ওই বাড়িতে বিন লাদেন নিহত হন।

৯/১১ হামলার আগেও একাধিক সতর্কবার্তা ছিল

সিআইএর অবমুক্ত নথিগুলোতে ৯/১১ হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে একাধিক সতর্কবার্তার কথাও উঠে এসেছে।

১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। একই বছরের ডিসেম্বরে বিমান ছিনতাইয়ের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়। এরপর ২০০১ সালের ৬ আগস্ট তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে দেওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’।

এর মাত্র ৩৬ দিন পর, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে।

আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। পরে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করে। দুটি টাওয়ারই পরে ধসে পড়ে।

আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত হানে। আর ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

এই হামলায় ১৯ জন ছিনতাইকারী বাদে মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

৯/১১ হামলায় বিন লাদেনের ভূমিকা কী ছিল?

ওসামা বিন লাদেন নিজে ৯/১১ হামলার কোনো বিমান ছিনতাইকারী ছিলেন না। তবে তিনি ছিলেন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা এবং সংগঠনটির নেতৃত্বের অংশ হিসেবে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৯/১১ হামলার পরিকল্পনা কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছিল। হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে ৯/১১ কমিশন খালিদ শেখ মোহাম্মদের নাম উল্লেখ করেছে। তিনি বিন লাদেন ও আল-কায়েদার অন্যান্য নেতার সঙ্গে সমন্বয় করে হামলার পরিকল্পনায় কাজ করেছিলেন।

নতুন করে অবমুক্ত হওয়া সিআইএ নথি তাই শুধু ৯/১১ হামলার আগের গোয়েন্দা সতর্কবার্তাই সামনে আনছে না; একই সঙ্গে দেখাচ্ছে, হামলার কয়েক বছর আগেই বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক লক্ষ্য সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা তৈরি হয়েছিল। সেই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নামও ছিল।