ডেঙ্গুতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু দাঁড়াল ২৮১ জনে। এ বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন। চাপ সামলাতে সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু দ্রুত বাড়ছে। ২ অক্টোবর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ২৫০। চার দিনের ব্যবধানে আরও ৩১ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হিসাবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি রোগী ছিলেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৪৯১। অর্থাৎ ভর্তি রোগী বেড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের ২০২ জনের তুলনায় এবার মৃত্যুও অনেক বেশি।
মৃতদের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ, পুরুষ ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এলাকাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, ৭৫ জন। খুলনা বিভাগে মারা গেছেন ৫৫ জন। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ ও বরিশাল বিভাগে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ১৯ ও সিটি এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন মারা গেছেন। রংপুরে ৬ ও সিলেটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ রাজধানীর বাইরেও ডেঙ্গু এখন বড় চাপ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় রোগী বেশি, সেখানে আগে শয্যা বাড়ানো হবে। ফিল্ড হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও আলোচনায় আছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মে মাসে হামের রোগীদের জন্য ২০ শয্যার একটি ইউনিট চালু হয়েছিল। সেটি আবার চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সংক্রমণের এখনকার ধারা চললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে। একবার ডেঙ্গু হওয়ার পর অন্য ধরনে আবার আক্রান্ত হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই আগে আক্রান্ত হওয়া মানুষদের বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্কদের জ্বর হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার ও শরীর ঢাকা পোশাক পরা ভালো সুরক্ষা।
অক্টোবরে বর্ষা বিদায় নিলেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন চলছে। জ্বর হলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো দরকার। পেটব্যথা, বমি, শরীরে লাল দাগ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারে পানি জমতে না দেওয়াই সবচেয়ে সহজ প্রতিরোধ। ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে দ্রুত চিকিৎসা আর মশা নিয়ন্ত্রণ দুটোই সমান জরুরি। স্থানীয় সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।












