রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ কথা জানিয়েছেন। ধানমন্ডি লেকের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা যেভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পুরো শহরে চলছে, তাতে ঢাকা ঠিকভাবে চলতে পারছে না। নতুন নীতিমালায় প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব যানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শিগগির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।
চালকদের জীবিকার বিষয়টি সরকার মাথায় রাখছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকাকে অচল হতে দেওয়া হবে না। শহরের বৃহত্তর স্বার্থে এই বিশৃঙ্খলা কাটাতে সবাইকে একমত হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কোন সড়কে চলবে, কোথায় চলবে না, নিবন্ধন কীভাবে হবে, এসব বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ও বলা হয়নি।
এর আগে জুলাইয়ে সংসদে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ঢাকা ও সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের জন্য আলাদা নির্দেশনা আসছে। কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে তখন থেকেই সমীক্ষা চলছিল। সরকার রাজধানীতে সমন্বিত বহুমুখী যাতায়াতব্যবস্থা গড়ার কথা বলছে। সেখানে মেট্রোরেল, বাস ও রিকশার ভূমিকা আলাদা করে ঠিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলো ঘিরে যাত্রী আনা-নেওয়ায় অটোরিকশার ভূমিকা এখন বেশ বড়। পরিকল্পিত রুট ঠিক করা গেলে মেট্রোরেলের যাত্রীদেরও সুবিধা হতে পারে।
বিষয়টি স্পর্শকাতর, কারণ এই খাতে বিপুল মানুষের রুটি-রুজি জড়িত। কয়েক দিন আগে রাজধানীতে অটোরিকশাচালকেরা আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন। অন্যদিকে নগরবাসীর বড় অভিযোগ, প্রধান সড়কে ধীরগতির এসব যান যানজট বাড়াচ্ছে। উল্টো পথে চলা ও হঠাৎ মোড় ঘোরানোয় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে নীতিমালায় চালকের জীবিকা আর শহরের চলাচলের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে বড় পরীক্ষা। সাধারণ যাত্রীদের কাছে অটোরিকশা স্বল্প দূরত্বে সস্তা ও সহজ বাহন। মেট্রোরেল স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসায় ফিরতে অনেকেই এর ওপর নির্ভর করেন। তাই প্রধান সড়ক থেকে সরানো হলে ভেতরের সড়কে বিকল্প কেমন হবে, সেটি যাত্রীদেরও প্রশ্ন।
ঢাকায় ঠিক কত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। বেশির ভাগেরই নিবন্ধন নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও পুরোনো। নীতিমালায় চার্জিং স্টেশন ও বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি কীভাবে আসে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। হঠাৎ কড়াকড়ি হলে বহু পরিবারের আয়ে টান পড়বে। সে কারণে নীতিমালা ধাপে ধাপে কার্যকর করাই বাস্তবসম্মত হবে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ নয়। পাড়া-মহল্লার ছোট সড়কে এগুলো অনেক মানুষের ভরসা। তাই প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ভেতরের সড়কে চলার সুযোগ রাখা, নিবন্ধন ও চালকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার মতো পথ নীতিমালায় কতটা জায়গা পায়, সেটাই দেখার বিষয়। নীতিমালা ঘোষণার পর চালকেরা কী প্রতিক্রিয়া দেখান, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।












