মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার দুই দিন পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বিএনপির সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
যে ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
শনিবার বিকেলে ইশরাকের নিজস্ব ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনের কাছে পরিচালিত ওই অভিযানের ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ি থেকে মাইক ও পিস্তল হাতে নামছেন ইশরাক। এরপর একদল লোককে ধাওয়া করতে দেখা যায় তাঁকে। একপর্যায়ে কয়েকজনের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে তাঁকে ‘এই, থামো, থামো’ বলতে শোনা যায়। সাদাপোশাকে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায়; তাঁকেও লোকজনের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর তাঁর অভিযানের ধরন এবং জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় আরেকটি ফেসবুক পোস্টে ইশরাক জানান, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আত্মরক্ষার যুক্তি দিয়েছিলেন ইশরাক
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি অল্প সময়ের জন্য নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচু করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়ায় সন্দেহভাজন মাদক কারবারের একটি স্থানের কাছে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন।
ইশরাক বলেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তাঁর নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ছাদ থেকে মাদক কারবারিরা গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আসন্ন হামলার আশঙ্কায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচু করা হয়েছিল। সম্ভাব্য বিপদ কেটে যাওয়ার পর অস্ত্রটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাঁর আত্মরক্ষার ব্যাখ্যার পরও অব্যাহত থাকে।
ভিডিও পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিল পুলিশ
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রোববার জানিয়েছিলেন, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এরপর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা সামনে আসে। তবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে কোনো তথ্য নেই।
মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে একদিকে ইশরাক আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি পুলিশের পর্যালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।












