কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণে ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল ঋণের অর্থ কত সহজে পাওয়া যাবে এবং শেষ পর্যন্ত কতটা ফেরত আসবে, তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে এআই পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। ঋণনির্ভর এই ব্যবসার দুর্বলতা সামনে আসায় পুরো এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরউইভের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দ্রুত কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটির বন্ডের দাম ব্যাপকভাবে পড়ে যায়। একই সময়ে এআই খাতের আরেক বড় প্রতিষ্ঠান ওরাকলের বন্ডও বিক্রির চাপের মুখে পড়ে। জাপানের প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের ঋণের বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা কিনতেও বিনিয়োগকারীদের ব্যয় বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এসব পরিবর্তনের কারণে ঋণদাতা ও বন্ডধারীরা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি নতুন করে ঋণ নিতে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুদ দিতে হতে পারে। এতে আগে থেকেই ব্যয়বহুল এআই প্রকল্পগুলোর খরচ আরও বাড়বে।
ঋণনির্ভর এআই ব্যবসায় বাড়ছে উদ্বেগ
এআই প্রযুক্তির প্রসারে ডেটা সেন্টার, উন্নত কম্পিউটার চিপ এবং বিপুল বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক, বন্ডবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে।
কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, আজ যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা থেকে প্রত্যাশিত আয় আসবে কি না। এআই সেবার চাহিদা বাড়লেও সেই চাহিদা থেকে কতটা স্থায়ী আয় তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিনিয়োগ ব্যাংক বার্কলেসের হিসাব অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ এআই ঋণে অর্থ বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা যে অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন, গত ছয় মাসে সেই ব্যবধান ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ডেটা সেন্টারের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান আজরাকের প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্দ্রা কোলম্যানের ভাষায়, বাজার এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে ঋণ পাওয়ার প্রবাহ অব্যাহত থাকবে—এমন ধারণার ওপর পুরো খাতের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক ও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত এআই ব্যবস্থার জন্য আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ফলে বড় মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা কোম্পানি, বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থ এআই খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
কোরউইভের ঋণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা
কোরউইভের আর্থিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৫১টি ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারের দায় জমিয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির একটি বন্ডের মুনাফার হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে শেয়ারবাজারে এর শেয়ারের দাম ২৪ শতাংশ কমে যায়। শুধু শুক্রবারেই দরপতন হয় ১২ শতাংশ।
এত বেশি সুদের হার সাধারণত উচ্চঝুঁকির ঋণের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কোরউইভের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
কোরউইভের ব্যবসার ধরনকে কয়েকজন বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষক সংকটে পড়া অফিসভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উইওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কোরউইভ প্রথমে এনভিডিয়া ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ কেনে। এরপর ডেটা সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে এসব স্থাপনা ব্যবহারের ব্যবস্থা করে। কোনো কোনো চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর বা তারও বেশি।
পরে প্রতিষ্ঠানটি মেটা, মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মতো গ্রাহকদের কাছে তুলনামূলক কম মেয়াদে কম্পিউটিং সক্ষমতা ভাড়া দেয়।
এখানেই তৈরি হয়েছে মূল ঝুঁকি। গ্রাহক পাওয়ার আগেই কোরউইভকে ডেটা সেন্টার প্রস্তুত ও পরিচালনার ব্যয় বহন করতে হয়। আবার অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ তুলনামূলক কম হতে পারে।
ফলে গ্রাহক চলে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্থাপনার খরচ বহন করতে হতে পারে প্রতিষ্ঠানটিকে।
বিনিয়োগকারীদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, ভবিষ্যতে মেটা বা মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোরউইভের কাছ থেকে ডেটা সেন্টার ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে কি না। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে বর্তমান ডেটা সেন্টারগুলো পুরোনো বা অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে উইওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা প্রত্যাখ্যান করেছে কোরউইভ। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র লিয়া ডেভিস বলেছেন, তাদের অর্থায়নব্যবস্থার জটিলতা আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতিফলন, যা নিয়ে তারা গর্বিত।
কোরউইভের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ইনট্রেটর কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি মার্চে সম্ভাব্য ঋণদাতাদের কাছে দেওয়া এক উপস্থাপনায় জানিয়েছিল, পাঁচ বছরের একটি ইজারা থেকে পাওয়া আয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যয় তার দ্বিগুণ সময়ের জন্য মেটানো সম্ভব হবে।
ওরাকলের ডেটা সেন্টার প্রকল্পেও বাধা
এআই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু অর্থের জোগানই নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ডেটা সেন্টার প্রকল্প অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় বিলম্বিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রকল্প পুরোপুরি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলও এ ধরনের সমস্যায় পড়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকগুলোর একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহ করেছিল। এই অর্থ দিয়ে প্রকল্প উন্নয়নকারীদের সহায়তায় টেক্সাস ও উইসকনসিনের পোর্ট ওয়াশিংটনের কৃষিজমিতে দুটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
ওরাকলের পরিকল্পনা ছিল, টেক্সাসের স্থাপনার ঋণ পরিশোধে উইসকনসিনের প্রকল্প থেকে আসা আয় ব্যবহার করা হবে। প্রজেক্ট লাইটহাউস নামের এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বাধা প্রকল্পটির অগ্রগতি ধীর করে দিয়েছে। ডেটা সেন্টার চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা নির্মাণের অনুমোদন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ডেটা সেন্টার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটেরিওর মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রজেক্ট লাইটহাউসের চারটি ডেটা সেন্টার ২০২৯ সালের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা কমে এসেছে।
সমস্যা হলো, প্রকল্পটির ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এর মাত্র এক বছর পর। ফলে নির্ধারিত সময়ে আয় শুরু না হলে ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি হতে পারে।
দুইজন ঋণবাজারের ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, ওরাকলের এই প্রকল্পের কিছু ঋণ ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯০ সেন্ট বা তারও কম দামে লেনদেন হয়েছে। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে এমন দরপতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
নিউ মেক্সিকোতেও ওরাকলের আরেকটি ডেটা সেন্টার প্রকল্প অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছে। প্রকল্পটির উন্নয়নকারী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্লু আউল নির্মাণকাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেতে ওরাকলকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণের কিছু অংশ সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রায় ৮০ সেন্ট দামে বিক্রি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঋণপত্রের জন্য কম দাম দিতে প্রস্তুত থাকছেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্থ সংগ্রহ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
ওপেনএআইয়ে বড় বিনিয়োগ, ঋণের চাপে সফটব্যাংক
এআই খাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের একটি সফটব্যাংক। জাপানের এই প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাসায়োশি সন। ওপেনএআইয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ওপর নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ে প্রথম ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে সফটব্যাংক। পরের বছর আরও ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়।
এই অর্থ সংগ্রহের জন্য মাসায়োশি সন এনভিডিয়া ও টি-মোবাইলে সফটব্যাংকের অধিকাংশ বিনিয়োগ বিক্রি করেন। পাশাপাশি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসে থাকা নিজের অংশীদারত্বের বিপরীতে ঋণও নেন।
চলতি বছরের ১ অক্টোবর ওপেনএআইয়ে আরও ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্পন্ন করে সফটব্যাংক। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ সুদে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সংগ্রহ করেছিল।
সফটব্যাংকের ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ভিশন ফান্ডের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ক্লাভেল বলেছেন, সফটব্যাংক গ্রুপের সম্পদের তুলনায় ঋণের অনুপাত পরিবর্তিত হয়নি। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে সফটব্যাংকের ঋণের বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা কেনার ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১ মিলিয়ন ডলারের ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য লোকসান থেকে সুরক্ষা নিতে ৪০ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে এই ব্যয় ছিল ২৭ হাজার ডলারের কম।
এই বৃদ্ধি দেখাচ্ছে, সফটব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
সুদের হার বৃদ্ধি বাড়াচ্ছে অর্থায়নের চাপ
এআই অবকাঠামো খাতের ঋণসংকটের পেছনে সুদের হার বৃদ্ধিও একটি কারণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঋণ সংগ্রহের খরচ আরও বেড়েছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকি সমান নয়। মেটা ও অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল ঋণ নিলেও সাম্প্রতিক ঋণচুক্তিতে তাদের সুদের হার তুলনামূলকভাবে সামান্য বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পুরোনো বন্ডের দামও কমেছে, তবে কোরউইভের তুলনায় পতন কম।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এআইআর প্ল্যাটফর্মসের ঋণ কৌশল বিভাগের প্রধান ডেভিড মুনভেসের মতে, গত সপ্তাহে বাজারে একটি সম্মিলিত উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে এআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের ঝুঁকি আগে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা তার চেয়ে বেশি হতে পারে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝতে পারছেন, আজ যে অর্থ ব্যয় ও ঋণ নেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা থেকে পর্যাপ্ত আয় আসার নিশ্চয়তা নেই।
অর্থায়ন কমলে লাভবান হতে পারে বিদ্যমান প্রকল্প
এআই খাতের ঋণসংকটের মধ্যেও কিছু বিনিয়োগকারী ইতিবাচক দিক দেখছেন। তাদের মতে, নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন ধীর হয়ে গেলে আগে থেকে চালু থাকা ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোর গুরুত্ব বাড়তে পারে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জানুস হেন্ডারসনের বহুখাতভিত্তিক বিনিয়োগ ও করপোরেট ঋণ বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান জন লয়েডের মতে, নতুন প্রকল্পের অর্থায়ন ধীর হলে বিদ্যমান প্রকল্প ও অবকাঠামো আরও মূল্যবান হয়ে উঠবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো খাতের ঝুঁকি কমে গেছে। বরং ঋণ সংগ্রহের ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা একসঙ্গে কাজ করলে দুর্বল আর্থিক ভিত্তির প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।
এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো রয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আর সেই সম্ভাবনাকে ঘিরে নেওয়া ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এক বিষয় নয়। বিপুল ঋণ নিয়ে গড়ে ওঠা অবকাঠামো থেকে প্রত্যাশিত আয় না এলে এআই খাতের সম্প্রসারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
এখন বাজারের প্রধান প্রশ্ন হলো, এআইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কি এই বিপুল ঋণের ভার বহন করার মতো আয় তৈরি করতে পারবে, নাকি ঋণনির্ভর সম্প্রসারণই একসময় প্রযুক্তি খাতের বড় দুর্বলতায় পরিণত হবে?












