দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রির পরিমাণ ২০২৬ সালে ১৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ডিজিটাল বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গুগল, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানি এবং বিনিয়োগ সংস্থা টেমাসেকের যৌথ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্য ও সেবার মোট মূল্য আগামী বছরগুলোতেও বাড়তে থাকবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই বাজারের আকার ১ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সে হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ছে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের চিত্রে গত কয়েক বছরে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের ৪২১টি চুক্তি হয়েছিল। আগের বছরের তুলনায় চুক্তির সংখ্যা কমেছিল ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিতে মোট ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। অথচ পুরো ২০২৫ সালে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় দুটি তথ্যকেন্দ্র প্রকল্পের চুক্তি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে এসটিটি জিডিসির সঙ্গে ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি এবং ডেঅয়ানের সঙ্গে ৫ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তি রয়েছে।
তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ছে
ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তথ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ অঞ্চলে চালু তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা ছিল ৪ গিগাওয়াট। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস শেষে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৮ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
ক্লাউড সেবা, অনলাইন বাণিজ্য, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগ বাড়া এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে পিছিয়ে
ডিজিটাল বিক্রি ও অবকাঠামোতে অগ্রগতি থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে মাথাপিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টোকেন ব্যবহারের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন। তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এ পরিমাণ ৬০ মিলিয়ন এবং ইউরোপে ১৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ জনবল এবং ব্যবসায়িক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে পারলে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সেবা ও ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পুঁজিবাজারেও নতুন শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আগের ১২ মাসে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। আগের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এ প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি বিক্রি, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা এ অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।












