আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার ৪১.২ ওভারে সব উইকেট হারানোর আগে দলের হয়ে লড়াই করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। তবে তাঁদের গড়ে দেওয়া প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার পর শেষ ছয় উইকেট হারাতে বাংলাদেশ করেছে মাত্র ৩৯ রান।
ফাইনালে উঠতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এখন বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন পারভেজ হোসেন। ৯৬ বলের ইনিংসে তিনি মেরেছেন পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে সাইফ হাসান ৮২ বলে করেছেন ৪১ রান। চতুর্থ উইকেট হারানোর পর এই দুজনের জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। একসময় ২৮ রানে চার উইকেট হারানো দলকে তাঁরা নিয়ে যান ১২১ রানে।
৭৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন পারভেজ। তবে এর কিছুক্ষণ পরই মোহাম্মদ নবিকে বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ। তাঁর বিদায়ের পরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়।
৩৩ ওভারে ১২৪ রানে ছয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিলাল সামির বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে দুই রান করে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান একের পর এক আঘাত হানেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে।
শরিফুল ইসলামকে সাত রানে বোল্ড করার পর পারভেজকে ৭০ রানে এলবিডব্লিউ করেন রশিদ। পারভেজ রিভিউ নিলেও মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পরে আলিস আল ইসলামকে স্লিপে মোহাম্মদ নবির ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর প্রথম বলেই মুস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন রশিদ। পরপর দুই বলে শেষ দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু শুরুতেই ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই বোল্ড হন সৌম্য সরকার। মাত্র দুই ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেটে আট রান।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক হৃদয়ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হলে সাত ওভারে ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হারের পর একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের পরিবর্তে সুযোগ পান পারভেজ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আলিস আল ইসলাম। পারভেজের লড়াকু ইনিংস দলকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও বাকিদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আফগানিস্তানকে দ্রুত অলআউট করা এবং অন্তত ৪১ রানের জয়ের ব্যবধান নিশ্চিত করা। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর ফাইনালে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে বোলারদের ওপরই নির্ভর করতে হবে দলকে।












