মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার, ২৮ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। পাঁচ দিনের এই টেস্ট চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হবে সিলেটে, ৫ থেকে ৯ নভেম্বর। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু দুটি জয়ের সুযোগ নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পরীক্ষাও।
সফরকারী দল এখন ঢাকায় অনুশীলনে ব্যস্ত। টেস্টের আগে তারা তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, যা ২২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৪ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। উপমহাদেশের উইকেট আর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই ম্যাচ ক্যারিবীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বাইরের দল প্রথম টেস্টে এসে এখানকার ধীরগতির উইকেটে হোঁচট খায়। প্রস্তুতি ম্যাচ সেই ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে দেয়।
চলতি চক্রে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নয় দলের মধ্যে বাংলাদেশ আছে চতুর্থ স্থানে। ছয় টেস্টে দলটির জয় তিনটি, হার দুটি আর ড্র একটি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে অষ্টম স্থানে। তারা বারো টেস্টে জিতেছে দুটি, হেরেছে আটটি আর ড্র করেছে দুটি। কাগজে-কলমে দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট। তবে এই ব্যবধানই বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপও তৈরি করে, কারণ সবাই জয়টাই আশা করবে।
টেস্ট ক্রিকেটে অঙ্ক সব সময় মাঠের ফল বলে না। বাংলাদেশ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মাঠে এমন ফল দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। তবে ঘরের মাঠে প্রত্যাশার চাপ সামলানো আলাদা চ্যালেঞ্জ। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য আর বোলারদের ধারাবাহিকতাই ঠিক করে দেবে কে এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসের রান অনেক সময় পুরো ম্যাচের গতি ঠিক করে দেয়।
বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও এই সিরিজ আগ্রহের। ঘরের মাঠে টেস্ট দেখার সুযোগ মিলছে, আর প্রথম ম্যাচ হচ্ছে ঢাকায়, যেখানে দর্শকদের ভিড় দলকে বাড়তি শক্তি দেয়। দুই ম্যাচই জিতলে পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের জায়গা আরও পোক্ত হবে। আর প্রথম টেস্টে মিরপুরে যে ফল আসবে, তা সিলেটের দ্বিতীয় ম্যাচের সুরও বেঁধে দিতে পারে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের প্রথম দিন থেকেই নজর থাকবে মিরপুরের উইকেট আর দুই দলের প্রথম ইনিংসের দিকে।












