দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু এ বছর ৪০০ ছুঁয়েছে, আর চলতি অক্টোবর হয়ে উঠেছে বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবারের বুলেটিন অনুযায়ী, অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বরে মারা গিয়েছিলেন ১৪৮ জন। অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার আগেই অক্টোবর আগের মাসকে ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। এটি এ বছর এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছেন ৮৯৯ জন। খুলনা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন এবং রাজশাহীতে ২২৯ জন ভর্তি হন। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২১৭ জন, রংপুরে ১১২ জন ও ময়মনসিংহে ৯৭ জন। সিলেটে এই সংখ্যা ছিল ২৬। এই হিসাব দেখায়, ডেঙ্গু এখন শুধু রাজধানীর রোগ নয়। দেশের প্রায় সব বিভাগেই রোগী বাড়ছে। ফলে রাজধানীর বাইরের হাসপাতালগুলোতেও রোগী সামলানোর চাপ বাড়ছে। তাই দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঠেকাতে জেলা পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মাসভিত্তিক হিসাবে মৃত্যুর চিত্র আরও স্পষ্ট। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মে মাসে মারা যান একজন। জুনে মারা যান ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন ও আগস্টে ৪৩ জন। এরপর সেপ্টেম্বরে মৃত্যু এক লাফে ১৪৮ জনে ওঠে। অক্টোবরে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ বর্ষা পেরিয়ে গেলেও ডেঙ্গুর দাপট কমেনি।
বাংলাদেশে এবার এমন সময়ে ডেঙ্গু বাড়ছে, যখন হামের প্রাদুর্ভাব নিয়েও উদ্বেগ চলছে। ফলে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। দুই রোগের রোগীই আসছেন একই হাসপাতালগুলোতে। অনেকে জ্বরকে সাধারণ ভেবে কয়েক দিন বাড়িতে থাকেন। কিন্তু দেরিতে চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গু দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। রক্তচাপ কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণের মতো বিপদ তখন দেখা দেয়। ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়ায় এডিস মশা, যা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। মাত্র কয়েক দিনেই সেই ডিম থেকে নতুন মশা জন্মায়। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা বা ছাদের জমা পানি তাই বড় ঝুঁকি।
এখন মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকানোই সবচেয়ে জরুরি কাজ। বাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া ভালো। নির্মাণাধীন ভবন, বাজার আর অফিসের ছাদেও নিয়মিত নজর দেওয়া দরকার। এক বাড়ির জমা পানি পুরো মহল্লার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দিনের বেলাতেও মশারি বা মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা কাজে লাগে, কারণ এডিস মশা দিনে কামড়ায়। জ্বর হলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। প্রতিদিনের বুলেটিন বলছে, দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই ঘরে ঘরে সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।












