এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ বদলে গেছে। আগে ২৯ অক্টোবর ফল দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা প্রকাশ হবে ৩১ অক্টোবর, শনিবার। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান তারিখ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। ফলের অপেক্ষায় থাকা লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে তাই এই খবরটি জানা জরুরি। এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে আগের তারিখের তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়াই ভালো। নতুন তারিখই এখন চূড়ান্ত বলে ধরে নিতে হবে।
এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তাঁরা ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন। সমমানের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি ধারার পরীক্ষাও আছে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল একসঙ্গে প্রকাশ করতে সব বোর্ডের মধ্যে সমন্বয় দরকার হয়। সে কারণেই সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে একটি অভিন্ন দিন ঠিক করা হয়। ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময় এবং কীভাবে ফল দেখা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ঘোষণা থেকে জানা যাবে।
এবারের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। বেশির ভাগ বোর্ডে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তা চলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরু থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় চার মাস সময় পেরিয়েছে। এই সময়ে খাতা মূল্যায়ন, নম্বর যাচাই ও ফল প্রস্তুতের কাজ করতে হয়েছে। আগের ঘোষণায় ২৯ অক্টোবরকে ফল প্রকাশের দিন ধরা হয়েছিল। এখন সেই কাজের শেষ ধাপ হিসেবে ৩১ অক্টোবর দিনটি নির্ধারিত হয়েছে।
তারিখ পরিবর্তনের কারণ প্রকাশিত খবরে বলা হয়নি। ফল প্রকাশের সময়ও এখনো জানানো হয়নি। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত শুধু শিক্ষা বোর্ডের সরকারি ঘোষণার ওপর নির্ভর করা। ফল দেখার জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর হাতের কাছে রাখা ভালো। ফল প্রকাশের দিন একসঙ্গে অনেকেই ওয়েবসাইট ও মোবাইল সেবা ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। গুজব বা অপ্রমাণিত সূত্রের তথ্য এড়িয়ে চলাও জরুরি।
ফলের পর শুরু হবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই এখন সেই অপেক্ষায় আছেন। এইচএসসির ফল প্রকাশ হলে ভর্তি-সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তিও আসতে শুরু করবে। সেই বিজ্ঞপ্তিগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র। শনিবার ফল প্রকাশের পর বোর্ডগুলো পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর হলো, অপেক্ষা আর মাত্র দুই দিনের।
ফল প্রকাশের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে বোর্ডের পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রাখুন। আপাতত ৩১ অক্টোবরের জন্য প্রস্তুত থাকাই যথেষ্ট। অপেক্ষার এই দুই দিনে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পড়াশোনার পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন। অভিভাবকদেরও ধৈর্য ধরে সন্তানের পাশে থাকার কথা মনে রাখা উচিত।












