চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৩৬ দিন পর ক্লাস শুরু হয়েছে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর, কয়েকটি বিভাগে পাঠদান ফিরেছে। তবে চুয়েটে ক্লাস শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী প্রথম দিন ক্লাসে ফেরেননি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পড়াশোনার ক্ষতির কথা ভেবে ক্লাসে ফিরলেও উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি।
সংকটের শুরু ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং নতুন নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একপর্যায়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এতে টানা ৩৬ দিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল।
২৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন। একই দিন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। বুধবার নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে সকাল ৯টায় ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সেশনের ক্লাস শুরু হয়। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফৌজিয়া গুলশানা রশীদ লোপা বলেন, উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে ২০২১ ও ২০২২ সেশনে উপস্থিতি কিছুটা বেশি। তিনি আশা করেন, পরদিন আরও শিক্ষার্থী ফিরবেন।
সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি করেছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন। বুধবার কমিটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কয়েকটি বিভাগে ওই দিন ক্লাস শুরু হয়নি। সেখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কমিটির সঙ্গে বৈঠক ছিল। ওই বিভাগগুলোয় বৃহস্পতিবার ক্লাস শুরুর কথা ছিল।
ফলাফল নিয়ে আশাবাদী বক্তব্যও এসেছে। স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রশিদুল হাসান আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলেছেন। তাঁর ভাষায়, তাঁরা দাবি তুলে ধরেছেন এবং কমিটি তা শুনেছে। তিনি আশা করেন, সমাধান আসবে। চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, পড়াশোনার ক্ষতির কারণেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছেন, তবে দাবি আদায়ের আন্দোলন থামেনি। দীর্ঘ বিরতির পর পরীক্ষার সূচি কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক দুই পক্ষের জন্যই উদ্বেগের। টানা ৩৬ দিন ক্লাস বন্ধ থাকায় পাঠ্যসূচি পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। ইউজিসির কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার চোখ। বৃহস্পতিবার বাকি বিভাগে ক্লাস শুরু হলে স্বাভাবিক কার্যক্রমের দিকে আরও এক ধাপ এগোনো যাবে।












