অর্থনীতি কেন এগিয়ে যায় না, কেন সরকার পরিবর্তনের পরও মানুষের জীবনযাত্রার মানের প্রত্যাশিত উন্নতি হয় না, কেন একের পর এক বাজেটে বড় বড় প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ে না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাধারণত রাজনীতিকদের দিকে আঙুল তোলা হয়। সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার করতে ব্যর্থ, বিরোধীরা বিকল্প দেখাতে পারে না, আর বাজেট হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কৌশল। কিন্তু সমস্যার দায় কি কেবল ক্ষমতাসীনদের?
অর্থনৈতিক স্থবিরতার পেছনে ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যা করে, তার অনেকটাই নির্ভর করে নির্বাচনে জিততে জনগণের কাছ থেকে কতটা সমর্থন পাওয়া যাবে, তার ওপর। রাজনীতিকেরা প্রায়ই জানেন, অর্থনীতির জন্য কোন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে ভোট হারানোর আশঙ্কা থাকলে তাঁরা পিছিয়ে যান।
এই বাস্তবতা শুধু একটি সরকারের ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংকট, যেখানে সবাই প্রবৃদ্ধি চায়, কিন্তু প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকারে রাজি নয়।

বাজেট যখন অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, রাজনৈতিক প্রদর্শনী
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক বাজেট সেই দ্বন্দ্বের একটি উদাহরণ। চ্যান্সেলর জন হিলির বাজেট ঘোষণায় করব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন ও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি। ঘোষণাগুলোকে সরকার সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে, সেগুলোর অনেকটাই ছিল মূল সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
দেশটির বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয়ের (Office for Budget Responsibility) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটিশদের জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসার সম্ভাবনা নেই। আগের দুই দশকেও দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল সীমিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। গত দুই দশকে মার্কিন অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধির হার যুক্তরাজ্যের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। একই সময়ে ভারত, চীন, তাইওয়ান ও পোল্যান্ডের মতো অর্থনীতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ফলে যুক্তরাজ্য শুধু অভ্যন্তরীণ স্থবিরতার মুখোমুখি নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও আপেক্ষিক অবস্থান হারাচ্ছে।
এ অবস্থায় বাজেটে সাময়িক করছাড়, ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা বিচ্ছিন্ন সামাজিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং অর্থনীতির কাঠামোগত বাধা দূর করা।
প্রবৃদ্ধির পথ জানা, কিন্তু সংস্কারে রাজনৈতিক অনীহা
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের জন্য যেসব সংস্কারের কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে, সেগুলোর অনেকটাই নতুন নয়। আবাসন ও জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে পরিকল্পনা ও নির্মাণ অনুমোদনের জটিলতা কমানো, করব্যবস্থা সহজ করা, কল্যাণ ব্যয়ের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং উদ্যোক্তা ও ঝুঁকি গ্রহণকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা—এসব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
আবাসন সংকটের পেছনে থাকা পরিকল্পনা ও অনুমোদনব্যবস্থার জটিলতা কমানো গেলে নির্মাণ খাত, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
করব্যবস্থার সরলীকরণও গুরুত্বপূর্ণ। আয়কর ও জাতীয় বিমা চাঁদা (National Insurance contributions) সমন্বিত করার মতো প্রস্তাবের লক্ষ্য হতে পারে কর কাঠামোকে আরও বোধগম্য ও কার্যকর করা। পাশাপাশি উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য যুক্তরাজ্যের করনীতিতে পরিবর্তন এবং তাঁদের দেশত্যাগের প্রভাব নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে এসব সংস্কারের প্রতিটিরই রাজনৈতিক মূল্য আছে। আবাসন নির্মাণ বাড়াতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধিতা দেখা দিতে পারে। পেনশন বা সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পুনর্বিন্যাস করলে ভোটারদের অসন্তোষ তৈরি হবে। কল্যাণ ব্যয় কমানো কিংবা করব্যবস্থা বদলানোর প্রস্তাবও তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা পাবে না।
এখানেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ এবং নির্বাচনের স্বল্পমেয়াদি হিসাবের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে অধিকাংশ সরকার দ্বিতীয়টিকেই অগ্রাধিকার দেয়।
সরকার বদলায়, কিন্তু নীতির সমস্যা থেকে যায়
অর্থনৈতিক স্থবিরতার জন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করাই সহজ। যুক্তরাজ্যে লেবার সরকারের সমালোচকেরা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, চ্যান্সেলর জন হিলি কিংবা সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসের নীতিকে দায়ী করছেন। তাঁদের বক্তব্য, সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা তৈরি করছে।
কিন্তু এই ব্যাখ্যা পুরো সমস্যাকে ধারণ করে না। কারণ কনজারভেটিভ পার্টি টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ও যুক্তরাজ্য উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ইশতেহারেও এমন অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারি ঋণ ও ব্যয়ের বোঝা বাড়ত, কিন্তু প্রবৃদ্ধির কাঠামোগত বাধা দূর হওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না।
অর্থাৎ দল বদলালেই নীতির মৌলিক সমস্যা দূর হবে, এমন প্রমাণ নেই। লেবার, কনজারভেটিভ কিংবা অন্য রাজনৈতিক শক্তি—প্রায় সবাই প্রবৃদ্ধির কথা বললেও বাস্তবে এমন নীতি গ্রহণে সতর্ক থাকে, যার কারণে কোনো নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠী অসন্তুষ্ট হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনীতিকদের বক্তব্য এবং ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁদের মূল্যায়নের মধ্যে প্রায়ই পার্থক্য দেখা যায়।
ক্ষমতা ছাড়ার পর যে সত্য স্বীকার করেন রাজনীতিকেরা
যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ক্ষমতায় থাকাকালে পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ ব্যবস্থার সমর্থক ছিলেন। এই ব্যবস্থায় পেনশন বৃদ্ধি নির্ধারিত হয় মূল্যস্ফীতি, গড় মজুরি বৃদ্ধি অথবা ২ দশমিক ৫ শতাংশ—এই তিন সূচকের মধ্যে যেটির মান বেশি, তার ভিত্তিতে। কিন্তু দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি এটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হিসেবে বর্ণনা করেন।
একই ধরনের অবস্থান পরিবর্তন দেখা গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের বক্তব্যেও। নির্বাচনের আগে তিনি পেনশনের জন্য আরও ব্যয়বহুল ‘কোয়াড্রপল লক’ ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছিলেন। কর্মীদের জন্য জীবনধারণযোগ্য মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি স্বীকার করেন, এসব সিদ্ধান্তের কিছু ক্ষেত্রে তাঁর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করা, সরকারি ব্যয় ও কর বাড়ানো এবং পরিকল্পনা অনুমোদনব্যবস্থা শিথিল করতে না পারাকেও তিনি ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এ ধরনের স্বীকারোক্তি একটি মৌলিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। অনেক রাজনীতিক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অজ্ঞ নন। বরং ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁরা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করেন, যেখানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ক্ষমতা ছাড়ার পর নির্বাচনী চাপ কমে গেলে একই বিষয় তাঁদের কাছে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু তখন আর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ থাকে না।
রাজনৈতিক ব্যবস্থার আয়নায় ভোটারদের প্রত্যাশা
এখানেই আলোচনার সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি সামনে আসে: রাজনীতিকেরা যদি সমস্যাটি বোঝেন, তাহলে তাঁরা পরিবর্তন আনছেন না কেন?
একটি সম্ভাব্য উত্তর হলো, তাঁরা জানেন ভোটাররা কী চান এবং কী চান না। জনগণ উন্নত সেবা, বেশি পেনশন, কম কর, অধিক সরকারি ব্যয় এবং নতুন সুযোগ চায়। কিন্তু এসব সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বা কর দিতে অনীহা থাকে। আবাসন নির্মাণ প্রয়োজন, কিন্তু নিজের এলাকার খোলা জায়গা নষ্ট হোক—এমনটা অনেকেই চান না। পেনশন ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব জরুরি, কিন্তু নিজের সুবিধা কমুক—সেটিও চান না।
একইভাবে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও নিজের পছন্দের সেবা বা ভর্তুকিতে কাটছাঁটের বিরোধিতা করা হয়। করব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হলেও নিজের ওপর করের বোঝা বাড়লে সেই সমর্থন কমে যায়।
ফলে রাজনীতিকদের সামনে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তা নির্বাচনে জনপ্রিয় নাও হতে পারে। আর জনপ্রিয়তার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ ইয়ুঙ্কার একসময় এই সমস্যাকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছিলেন: কী করতে হবে, তা সবাই জানে; কিন্তু তা করার পর কীভাবে পুনর্নির্বাচিত হওয়া যাবে, সেটিই কেউ জানে না।
বক্তব্যটির তাৎপর্য হলো, গণতন্ত্রের সংকট সব সময় নীতির জ্ঞানের অভাব থেকে তৈরি হয় না। কখনো কখনো প্রয়োজনীয় নীতির জন্য জনসমর্থন তৈরি করতে না পারাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ভোটারদের পছন্দ কি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে?
তবে ভোটারদের দায় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় উপেক্ষা করা উচিত নয়। জনগণের প্রত্যাশা সব সময় অর্থনৈতিক বিচারে অযৌক্তিক নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য, আবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার চাপের মধ্যে মানুষ সরকারের কাছে বেশি সহায়তা চাইতেই পারে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয় বাড়ানোও প্রয়োজনীয় হতে পারে।
সমস্যা তৈরি হয় যখন রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে ব্যয়ের প্রকৃত উৎস, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা দিতে ব্যর্থ হয়। ভোটারদের কাছ থেকে শুধু জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সমর্থন চাওয়া হলে কঠিন সিদ্ধান্তের পক্ষে জনমত তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের সব দাবি মেনে চলাই নেতৃত্ব নয়। বরং কোন সিদ্ধান্ত কেন প্রয়োজন, তার ব্যয় কারা বহন করবে এবং ভবিষ্যতে কী সুফল পাওয়া যেতে পারে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করাও নেতৃত্বের দায়িত্ব।
একই সঙ্গে ভোটারদেরও বুঝতে হবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিনা মূল্যে পাওয়া যায় না। এর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, নীতিগত পরিবর্তন, কিছু প্রচলিত সুবিধার পুনর্বিন্যাস এবং কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
জনপ্রিয়তার রাজনীতি থেকে বের হওয়ার পরীক্ষা

যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে। সরকার পরিবর্তন করলেই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। একইভাবে নতুন বাজেট, নতুন করছাড় কিংবা নতুন রাজনৈতিক স্লোগানও অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে পারে না।
প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে সরকার কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটাররাও শুধু তাৎক্ষণিক সুবিধার ভিত্তিতে নীতির বিচার করবেন না। কোনো সরকার যদি প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সরকারকে প্রশ্ন করতে হবে—সেই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কী পরিবর্তন প্রয়োজন, কারা এর ব্যয় বহন করবে এবং কোন প্রচলিত সুবিধা পুনর্বিবেচনা করতে হবে?
আর ভোটারদেরও নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, তাঁরা কি সত্যিই সেই বিকল্পকে সমর্থন করবেন, যেখানে প্রবৃদ্ধির জন্য কিছু ছাড় দিতে হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর ছাড়া বাজেটের ঘোষণাগুলো অর্থনৈতিক কর্মসূচির বদলে রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবেই থেকে যাবে। রাজনীতিকেরা জনপ্রিয়তা রক্ষায় পরিচিত প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করবেন, আর অর্থনীতি আটকে থাকবে পুরোনো সীমাবদ্ধতায়।
অর্থনৈতিক স্থবিরতার দায় তাই শুধু সরকারের নয়, আবার শুধু ভোটারদেরও নয়। দায়টি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এবং জনপরিসরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার সম্মিলিত ফল। পরিবর্তনের জন্য এই তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন বোঝাপড়া প্রয়োজন। কারণ যে সমাজ প্রবৃদ্ধি চায়, কিন্তু প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, তার অর্থনৈতিক অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আটকে থাকার ঝুঁকি তৈরি করে।












