ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন পশ্চিম জাভার গভর্নর দেদি মুলিয়াদি। জনমত জরিপে তার সমর্থন বাড়ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর জনপ্রিয়তা কমছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দুজনই একই রাজনৈতিক দল গেরিন্দ্রার নেতা।
অক্টোবরে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের (এসএমআরসি) জরিপে ২৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে দেদি পেয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন। প্রাবোওর সমর্থন নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশে। দুই নেতার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাবে দেদির সমর্থন ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রাবোওর ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাবোওর সমর্থন ছিল ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ, আর দেদির ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এক বছরেরও কম সময়ে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষে চাপে প্রাবোও
প্রাবোওর জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা। এসএমআরসির অক্টোবরের জরিপে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দেশের অর্থনীতিকে খারাপ বা খুব খারাপ বলেছেন। মাত্র ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ একে ভালো বা খুব ভালো মনে করেন।
সরকারের বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। কর্মসূচি সম্পর্কে জানেন, এমন ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এর বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে রেড অ্যান্ড হোয়াইট কো-অপারেটিভ কর্মসূচি সফল হবে না বলে মনে করেন এ বিষয়ে অবগত ৭১ শতাংশ মানুষ।
এর প্রভাব পড়েছে প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়নেও। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাবোওর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে।
বিরোধী দল দুর্বল, সুবিধা পাচ্ছেন দেদি
তবে সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও বিরোধী কোনো নেতা বড় সুবিধা পাচ্ছেন না। কারণ, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে আটটি দলের মধ্যে সাতটিই ক্ষমতাসীন জোটের অংশ। একমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের বাইরে থাকা পিডিআই-পি-ও ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে না।
ফলে সরকারের বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সামনে সুস্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই দেদি মুলিয়াদি বিকল্প নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন। তিনি সরকারবিরোধী ভোটের পাশাপাশি সরকারের সমর্থকদের মধ্যেও সমর্থন পাচ্ছেন।
পশ্চিম জাভার গভর্নর হিসেবে দেদির জনপ্রিয়তা তার বড় রাজনৈতিক সম্পদ। ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ এই প্রদেশে বাস করে। ২০২৬ সালের দুটি জরিপে তার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির হার ৯৫ শতাংশের বেশি পাওয়া গেছে।
এর আগে জোকো উইদোদোও সুরাকার্তার মেয়র ও জাকার্তার গভর্নর হিসেবে নিজের সাফল্যকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের ভিত্তি করেছিলেন। দেদির উত্থানেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন, ২০২৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেদি কি নিজের দলের নেতা প্রাবোওর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? জনমত জরিপে তার অবস্থান শক্তিশালী হলেও দলীয় সমীকরণ ও ক্ষমতাসীন জোটের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।












