ভারতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন অভিনেতা ইমরান খান। নিজের বিরুদ্ধে জারি করা ভারত ছাড়ার নোটিশ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে বোম্বে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়া এবং অন্য কাউকে এমন কর্মসূচিতে যোগ দিতে উৎসাহিত না করার অঙ্গীকার করেছেন এই অভিনেতা।
সোমবার (২ নভেম্বর) আদালতে দেওয়া লিখিত অঙ্গীকারে তিনি এসব কথা জানান। গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভে তাঁর অংশগ্রহণের পর থেকেই বিষয়টি আইনি বিরোধে রূপ নেয়। ওই ঘটনায় বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয় (এফআরআরও) তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিল।
আদালতে যা বলেছেন ইমরান খান
আদালতে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইমরান খান বলেন, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং তাঁদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি বোঝা। কোনো দাবি জানানো কিংবা বিক্ষোভকারীদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা। তিনি কখনো কোনো দাবি জানাননি এবং এমন দাবি জানানোর অধিকারও নিজের নেই বলে মনে করেন।
তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নেবেন না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কাউকে এমন কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রভাবিত বা উসকানিও দেবেন না।
এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে তাঁর বিক্ষোভে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অভিনেতা।
এসআইআর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে আদালতের প্রশ্ন
শুনানিতে বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত এম শেঠনার বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাবিত না হয়েও ইমরান কেন ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ইমরান ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদাধারী। ফলে ভারতীয় নাগরিকদের মতো একই সাংবিধানিক অধিকার তিনি দাবি করতে পারেন না।
বিচারপতিরা বলেন, এসআইআর কার্যক্রমে ইমরান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকারও তাঁর নেই। আদালত আরও স্পষ্ট করেন, সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে ওসিআই মর্যাদাধারীদের ভারতীয় নাগরিকদের সমান বিবেচনা করা যায় না।
তবে ইমরানের অঙ্গীকার আদালতের নথিতে গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষকে তাঁর প্রতি উদার হওয়ার এবং তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতিরা।
৪২ বছরের ভারতীয় জীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের যুক্তি
আদালতে দেওয়া অঙ্গীকারে ইমরান খান ভারতে নিজের দীর্ঘদিনের বসবাস, পারিবারিক সম্পর্ক ও পেশাগত অবদানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, জীবনের ৪২ বছর ভারতে কাটিয়েছেন। এ সময়ে দেশটির আইন মেনে চলেছেন এবং আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওসিআই মর্যাদা থাকলেও ভারতের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে বলে জানান এই অভিনেতা। কর পরিশোধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতেও অবদান রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, তিনি ভারতে বিয়ে করেছেন এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর বিস্তৃত পরিবারের সদস্যরাও জন্মসূত্রে ভারতীয়। চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর পরিবারের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইমরানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর জীবন, পেশা ও পারিবারিক সম্পর্কের বড় অংশই ভারতের সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে বোম্বে হাইকোর্ট আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এফআরআরওর ভারত ছাড়ার নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত রেখেছেন। এই সময় ইমরানকে আইন মেনে চলা এবং কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন আদালত।












