ভারতে জুতার বাজারে চাহিদা বাড়ায় বড় ধরনের মুনাফা করেছে বাটা ইন্ডিয়া। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম জুতা ও স্নিকার্সের বিক্রি এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত কোম্পানির আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া তিন মাসে বাটা ইন্ডিয়ার সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ১২ লাখ রুপি। আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১৩ কোটি ৯০ লাখ রুপি।
একই সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন আয় বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৮৬২ কোটি রুপি। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল এর চেয়ে কম।
তবে বিক্রির পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যয়ও বেড়েছে। এই প্রান্তিকে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৫৫ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৯৫ কোটি রুপি।
তরুণ ক্রেতাদের লক্ষ্য করে নতুন কৌশল
ভারতের বাজারে দুই হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছে বাটা ইন্ডিয়া। এর মধ্যে নিজস্ব দোকানের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রয়কেন্দ্রও রয়েছে।
তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কোম্পানিটি এখন নৈমিত্তিক জুতা ও খেলাধুলার উপযোগী পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতার বাজারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রিমিয়াম জুতা ও স্নিকার্সের চাহিদা বৃদ্ধির সুবিধা নিতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর পর বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটিও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্ষার প্রভাবেও বিক্রিতে পরিবর্তন
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম দেরিতে শুরু হওয়ায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রত্যাশিত কিছু বিক্রি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চলে আসে। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এই পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে।
এ ছাড়া ভারতের উৎসব মৌসুমের বড় অংশের ব্যবসা অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আসবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাটা ইন্ডিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি তৃতীয় প্রান্তিকে স্থানান্তরিত হওয়ায় প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছে কোম্পানিটি।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, উৎসবের কেনাকাটা এবং তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে আধুনিক ও আরামদায়ক জুতার চাহিদা আগামী প্রান্তিকেও ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।












