যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের ধারণা, কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে চলে এসেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ট্রাম্পের সামনে এখন ইরান যুদ্ধ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসা অথবা সংঘাত আরও বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে।
তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা স্বীকার করলেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং দেশটি সেই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বেড়েছে জ্বালানির দাম, বদলে গেছে বৈশ্বিক সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে চলতি বছর বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে।
তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন এশিয়ার কয়েকটি শেয়ারবাজারেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। ভারতের মুম্বাই, মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য তেলের দাম কমে যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে প্রযুক্তি খাতের চিত্র ভিন্ন। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে আবারও বড় দরপতন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তাইওয়ানের শেয়ারবাজারেও পতন হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
নির্বাচনে তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠায় এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের ব্যয় অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ডলার দুর্বল, সুদের হার নিয়ে নজর
তেলের দাম কমার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফাও দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এতে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ইউরোর দাম অক্টোবরের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
ব্রিটিশ পাউন্ডও সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার ইউরোপের বাজারে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউরোজোনের অক্টোবর মাসের এসঅ্যান্ডপি পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআইয়ের তথ্যও প্রকাশিত হওয়ার কথা। এসব তথ্য এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।












