রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যুর গুরুত্ব ধরে রাখা এবং সংকট সমাধানে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান: জাতীয় কৌশল ও আন্তর্জাতিক ভূমিকার রূপরেখা’ শীর্ষক সংলাপটির আয়োজন করে নীতি গবেষণা কেন্দ্র।
শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট যেন আন্তর্জাতিক আলোচনার বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
মিয়ানমারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু প্রত্যাবাসনের কথা বললেই হবে না, সেখানে ফেরার পর তাঁদের ন্যূনতম মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সোচ্চার। তবে প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে। রোহিঙ্গাদের এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তাঁদের নিরাপত্তা ও মৌলিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে না।
তিনি সংকট মোকাবিলায় দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত অবস্থান তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাপ
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
এ অবস্থায় সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় কৌশল তৈরিতে ঐকমত্যের তাগিদ
সংলাপে নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।
এতে একটি জাতীয় কৌশলগত কাঠামো তৈরি, রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা, কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সংকটের টেকসই সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় উঠে আসে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।












