এক বছর আগেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর জোট জি-২০-তে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বও হুমকির মুখে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। গত ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রিয়াদের বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিমানবন্দরটি এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়। হামলা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হওয়ায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জেদ্দায় একের পর এক বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
নিরাপত্তাহীনতায় সৌদি নেতৃত্ব
বিমানবন্দরে হামলার কয়েক দিন আগে রিয়াদে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় নেতৃত্বের কোনো উল্লেখযোগ্য প্রকাশ দেখা যায়নি।
সৌদি যুবরাজের সৎভাই ও দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, সৌদিদের অভিধানে ভয়ের কোনো জায়গা নেই। তবে বাস্তবে দেশটির বহু মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা দিতে সাইরেন বাজানো হচ্ছে না। স্কুলগুলো এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সৌদি আরবের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে আগে যেসব সরকারি মন্ত্রী নিয়মিত কথা বলতেন, তাঁদের অনেকেই এখন জনসমক্ষে আসছেন না।
দেশটির জনগণ সম্প্রতি যুবরাজের যে ছবি দেখেছে, তাতে তাঁকে গম্ভীর মুখে হাতের আস্তিন গুটিয়ে রক্তদান করতে দেখা যায়। ছবিটি সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান প্রাণশক্তি তেল। অথচ হুতিরা সেই তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার ও তেল রপ্তানির পথ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি পর্যটন, খনিজ সম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তোলার উদ্যোগও বিপর্যস্ত করছে।
তেলনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনায় নতুন বাধা
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পর্যটন, খনিজ সম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। কিন্তু অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
নিরাপত্তাহীন দেশে পর্যটকেরা যেতে চাইবেন না। একইভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সেখানে অর্থ বিনিয়োগে সতর্ক থাকবেন। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে। একই সময়ে তেল খাতের কার্যক্রম প্রায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সৌদি আরবে পর্যটকের সংখ্যা ৫ থেকে ৬ শতাংশ কমেছে। পরবর্তী সময়ে হামলা আরও বিস্তৃত হওয়ায় এই পতনের হার বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে যে দেশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, সেই দেশই এখন তেল থেকে পাওয়া রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। অথচ সৌদি আরবের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই রাজস্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা
সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য ও সেগুলো ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দেয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চীনকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চীন ইরান ও হুতিদের সহায়তা করছে। সৌদি কর্মকর্তারা বেইজিংকে তেহরানকে সহায়তা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে চীন এ ধরনের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন থেকে পাঠানো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে হুতিরা উন্নত মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
ইসরায়েলও হুতিদের হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। ফলে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পশ্চিমা এক কর্মকর্তা সৌদি আরবের পরিস্থিতিকে একটি মধ্যম শক্তির রাষ্ট্রের চিরাচরিত সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরবকে অত্যন্ত সতর্কভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইরান বা হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সৌদি আরবের জন্য কঠিন।
এক সৌদি কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কই দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুরোনো টানাপোড়েন
সৌদি আরবের বর্তমান সংকট দেখে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে পরিত্যাগ করছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের সঙ্গে সৌদি বাদশাহ আবদুল আজিজের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা আট দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা মতবিরোধ ও হতাশার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে সৌদি আরব প্রথম বড় ধাক্কা খায়। এর আগে রুজভেল্ট সৌদি বাদশাহকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের দাবির বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
১৯৬২ সালে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সৌদি যুবরাজ ফয়সালের আপত্তি উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নবগঠিত ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেন। ১৯৭৩ সালে মিসর ও সিরিয়ার হামলার মুখে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে সৌদি আরব ওয়াশিংটনে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
পরে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদ বিন সালমানও ইরানে হামলা না চালাতে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।
বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমতে পারে। তবে সৌদি আরবকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করার সম্ভাবনা কম। কারণ, ইরান কিংবা চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির হাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ও সবচেয়ে ধনী আরব রাষ্ট্রটির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হবে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতাও কঠিন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পরও তেহরানে নিজেদের রাষ্ট্রদূত বহাল রেখেছে সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সৌদি আরবের জন্য কঠিন। ট্রাম্প ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করা এবং তেহরানের আগ্রাসী আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবেন না। তবে ৩ নভেম্বরের পর তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরান ও দেশটির তেল স্থাপনায় নতুন হামলা হলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়বে। আবার আশঙ্কা রয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতিকে বিজয় হিসেবে ঘোষণা করে সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তেমন হলে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেতে পারে। বর্তমানে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনী টহল দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে। একইভাবে হুতিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির পথে সৌদি তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অর্থাৎ, সমুদ্রপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারই সৌদি আরবের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি এক কর্মকর্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা তুলে ধরে বলেছেন, গুলি না চলা ভালো, কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা না থাকাও বিপজ্জনক।
যুবরাজের নেতৃত্ব কি টিকে থাকবে?
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বকে এখনই ব্যর্থ ঘোষণা করা ঠিক হবে না। তাঁর ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ বাবা বাদশাহ সালমানের মৃত্যু হলে তিনি সরাসরি সিংহাসনে বসতে পারেন।
ধর্মীয় গোষ্ঠী ও রাজপরিবারের যেসব সদস্যকে তিনি দমন করেছেন বা কারাবন্দি করেছেন, তাঁদের মধ্যে তাঁর বিরোধী রয়েছেন। তবে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ নিয়ে প্রচারিত খবর অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত।
তবে সৌদি সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা যে প্রকাশ্যে এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইরান বা ইসরায়েলের চেয়েও বড় প্রতিরক্ষা বাজেট থাকা সত্ত্বেও হুতিদের মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন গোষ্ঠীর হামলা সফলভাবে মোকাবিলা করতে না পারা উদ্বেগজনক।
এই সংঘাতে লাভবান কে?
বর্তমান যুদ্ধের পরিণতি পর্যালোচনা করলে সৌদি আরবকেই সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ হিসেবে দেখা হতে পারে। দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশই তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিকও। কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা আন্তর্জাতিক জোট ও সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সংঘাত মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমাচ্ছে, বিমানবাহী রণতরিগুলোকে ব্যস্ত রাখছে এবং নতুন অভিযানের জন্য সেগুলো প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন তৈরি করছে। একই সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণের ধৈর্যও কমছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকায় এশিয়ায় বেইজিংয়ের কৌশলগত সুবিধা বাড়তে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে গভীর অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, জীবনের ৮১ বছরে তিনি এমন অস্পষ্ট পরিস্থিতি আর দেখেননি। অতীতে সংকট এসেছে, কিন্তু তা সমাধানের চেষ্টা ছিল। এখন অনেক সময় সমাধানের উদ্যোগই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।
সৌদি আরবের সামনে তাই সংকটটি শুধু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর নয়। তেলনির্ভর অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা, বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরতা সামলানো—সবকিছুই এখন একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।












