যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভোটের হিসাব বদলে দিচ্ছে হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটাররা। এত দিন দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে এসব ভোটারের রাজনৈতিক অবস্থান অনুমান করলেও বাস্তবতা দেখাচ্ছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের স্থায়ী সমর্থক নয়। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসননীতি এবং সরকারের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে তারা নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনেও এই দুই জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন বেড়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, অভিবাসনবিষয়ক কঠোর পদক্ষেপ এবং ভিসানীতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ বাড়ছে।
ভার্জিনিয়ার লাউডাউন কাউন্টিতে এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। এলাকাটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বাসিন্দা এশীয় বংশোদ্ভূত। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের জয়ের ব্যবধান নেমে আসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের একাংশ রিপাবলিকান শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন।
এখন সেই প্রবণতায় আবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারে হিন্দি ভাষায় নমুনা ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে। দুই বছর আগে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে তাঁরা হতাশ। একজন ভোটারের ভাষায়, ট্রাম্প যা বলেছিলেন, তার অনেক কিছুই বাস্তবে সত্য হয়নি।
একই এলাকার আরেক নারী জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তানের পরিচর্যাসংক্রান্ত সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ায় তিনি এবার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবেন। একজন স্থপতি বলেছেন, সরকারি কর্মীসংখ্যা কমানোর কারণে তাঁর পরিচিত অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ, ভিসা সীমিত করা এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও সাবেক ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
জাতিগত পরিচয় নয়, ভোট নির্ধারণ করছে স্বার্থ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের ভোটের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটরা স্থায়ী রাজনৈতিক সুবিধা পাবে।
কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচন দেখিয়েছে, এই দুই ধারণার কোনোটিই পুরোপুরি সঠিক নয়।
গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট যোগ্য ভোটারের মধ্যে হিস্পানিকদের অংশ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশ হয়েছে। এশীয়-আমেরিকানদের অংশ বেড়েছে ৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে। এই দুই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থানও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
১৯৮০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোনাল্ড রিগ্যান হিস্পানিক ভোটারদের ৩৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। ২০০৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ। নব্বইয়ের দশকে এশীয় ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন ছিল।
২০১২ সালে বারাক ওবামা এশীয়-আমেরিকানদের ৭৩ শতাংশ এবং হিস্পানিকদের ৭১ শতাংশ ভোট পাওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এসব জনগোষ্ঠীকে ডেমোক্র্যাটদের নির্ভরযোগ্য ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বাড়ে।
কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচন সেই ধারণাকে আবার প্রশ্নের মুখে ফেলে। ওই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এশীয় ভোটারদের ৪০ শতাংশ এবং হিস্পানিক ভোটারদের ৪৬ শতাংশ সমর্থন পান।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-অপারেটিভ ইলেকশন স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ভোটারের ১৪ শতাংশ ছিলেন এশীয় ও হিস্পানিক। তবে ২০২০ সালে এক দলকে এবং ২০২৪ সালে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই দুই জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশ ছিল ২৪ শতাংশ।
অবশ্য দল পরিবর্তনকারী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে শ্বেতাঙ্গ ভোটাররাই এখনো সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। ২০২৪ সালে দল পরিবর্তনকারীদের ৫৯ শতাংশ ছিলেন হিস্পানিক নন—এমন শ্বেতাঙ্গ ভোটার। তবে হিস্পানিক ও এশীয়দের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা এবং তাদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করছে।
অর্থনীতি তাদের প্রধান বিবেচনা

হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁরা সব বিষয়ে একই ধরনের মত পোষণ করেন না। কোনো বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হলেও অন্য বিষয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান সমর্থন করতে পারেন।
বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নের ওপর পরিচালিত জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিস্পানিকদের প্রায় ৩৪ শতাংশ এবং এশীয়দের ৩০ শতাংশের অবস্থান মধ্যপন্থী অথবা বাম ও ডানপন্থী চিন্তার সমন্বয়ে গঠিত। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ।
উদাহরণ হিসেবে, এশীয় ভোটারদের একাংশ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকলেও সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের শর্ত আরোপ সমর্থন করেন। আবার হিস্পানিকদের মধ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষাঋণ বাতিলের পক্ষে মত দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে।
এর পেছনে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, পারিবারিক অভিজ্ঞতা এবং আয়গত পার্থক্যের ভূমিকা রয়েছে। এশীয় ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সব সময় পরিবারের আগের প্রজন্মের দলীয় আনুগত্যের সঙ্গে মেলে না।
এই ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে দৈনন্দিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জরিপে এশীয়-আমেরিকান এবং হিস্পানিক ভোটারদের ৫৭ শতাংশ জানিয়েছেন, ভোগ্যপণ্যের দাম অথবা কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশ এবং শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ।
কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টিও তাঁদের রাজনৈতিক চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ। হিস্পানিকরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে ব্যবসা শুরু করেন। অন্যদিকে এশীয়-আমেরিকানরা শিক্ষাজীবনে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় করেন।
হিস্পানিক ভোটারদের নিয়ে গবেষণা করা কার্লোস ওদিওর মতে, অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের কাছে কঠোর পরিশ্রম করে জীবনে উন্নতি করার প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক বিবেচনা তাঁদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বদলে দিয়েছে সমর্থন
২০২৪ সালের নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। এর প্রভাব হিস্পানিক ও এশীয় ভোটারদের ওপরও পড়েছিল।
২০২২ সালে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় হিস্পানিক পরিবারগুলো তুলনামূলক বেশি চাপে পড়ে। কারণ, তাদের অনেক পরিবার গাড়ি, ট্রাক ও জ্বালানির পেছনে গড় আমেরিকান পরিবারের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এশীয়-আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা আবাসনের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম দ্য আর্গুমেন্টের জন্য পরিচালিত একাধিক বড় জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ব্যবধান ১৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। এশীয় ভোটারদের ক্ষেত্রে বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ১০ পয়েন্ট এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে ৫ পয়েন্ট।
নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে এমন এলাকাগুলোতে, যেখানে হিস্পানিক ও এশীয় ভোটারের ঘনত্ব বেশি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দুই জনগোষ্ঠী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ভোটারদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
টেক্সাসে রিপাবলিকানরা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে প্রতিনিধি পরিষদে পাঁচটি আসন পর্যন্ত বাড়তি সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে দক্ষিণ টেক্সাসের হিস্পানিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
টেক্সাস ও ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনেও হিস্পানিক ও এশীয় ভোটারদের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া এই দুই রাজ্যে সম্মিলিতভাবে মোট ভোটারের ৩৬ শতাংশ হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান। ফ্লোরিডায় হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ব্যবধান ১২ পয়েন্ট এবং টেক্সাসে ২৭ পয়েন্ট বলে জরিপে উঠে এসেছে।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যটি থেকে সিনেট আসন পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রার্থী জেমস তালারিকো সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে দুই পয়েন্ট এবং হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ৩৩ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট জরিপে দেখা গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিপ্রধান মধ্যাঞ্চলেও হিস্পানিক ভোটারদের গুরুত্ব বাড়ছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী র্যান্ডি ভিলেগাস রিপাবলিকান ডেভিড ভ্যালাদাওকে পরাজিত করার চেষ্টা করছেন। ওই নির্বাচনী এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার হিস্পানিক।
এক নির্বাচনী সমাবেশে ভিলেগাস ভোটারদের কাছে জানতে চান, তাঁদের কেউ অথবা পরিবারের কেউ কম দামে ওষুধ, দাঁতের চিকিৎসা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা পেতে সীমান্ত পেরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় যান কি না। উপস্থিত অনেকেই হাত তুলে সাড়া দেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়েও ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসে।
অভিবাসননীতিতে অসন্তোষ, তবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা নয়
অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসননীতি এবার বড় নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের বড় অংশই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। তবে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাত্রা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

বিশেষ করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান, নির্বিচারে বহিষ্কারের অভিযোগ এবং ভিসা নীতির পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মারিয়া এলভিরা সালাজার সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ২০২৪ সালে যেসব হিস্পানিক তাঁকে হোয়াইট হাউসে যেতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিপ্রধান এলাকাতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অভিবাসন কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান চালিয়েছিলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আবারও ওই এলাকায় তাঁদের তৎপরতা বেড়েছে।
ডেলানো শহরটি ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পক্ষে ১৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট দিয়েছিল। শহরটির অধিকাংশ দোকানের সাইনবোর্ড স্প্যানিশ ভাষায় লেখা। কিন্তু এবার অভিবাসন অভিযান নিয়ে আতঙ্কের কারণে অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে এবং রাস্তাঘাটও তুলনামূলক ফাঁকা।
৩৪ বছর বয়সী গ্রিসেলদা আগুইলার দুই বছর আগে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। এবার তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভিলেগাসের নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, অভিবাসন পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, তা অমানবিক।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনের শেষ পর্যায়েও অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের বহিষ্কার কর্মসূচির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। দক্ষ কর্মীদের ভিসাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও বলছেন তিনি।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, অবৈধভাবে ভোট দেওয়া অ-নাগরিকেরা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি প্রমাণ দেননি।
কোনো দলই স্থায়ী সমর্থক ধরে নিতে পারবে না
হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়লেও তাঁদের সবাইকে দলটির স্থায়ী সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দল পরিবর্তনের প্রবণতাই দেখিয়েছে, তাঁরা মূলত নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটদের জন্যও তাই এই পরিবর্তনকে পুরোনো সমর্থকদের ফিরে আসা হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে রিপাবলিকানদের জন্য ২০২৪ সালের নির্বাচনী সাফল্যকে স্থায়ী সমর্থনের নিশ্চয়তা মনে করার সুযোগ নেই।
লাতিনো ভোটারদের নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক পরামর্শক চাক রোচা বলেছেন, আগে তিনি রাজনৈতিক পরামর্শক ও প্রার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে হিস্পানিকরা একক কোনো জনগোষ্ঠী নন। এখন তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
‘দ্য লাতিনো সেঞ্চুরি’ বইয়ের লেখক মাইক মাদ্রিদের মতে, হিস্পানিক ভোটারদের বড় ব্যবধানে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করাকে অস্বাভাবিক মনে করার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল বোঝার বিষয়টি প্রকাশ পায়। তাঁর বক্তব্য, কোনো সরকার ভালো কাজ না করলে ভোটাররা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে সেই প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা হলো, জনসংখ্যার পরিবর্তন কোনো দলের জন্য স্বয়ংক্রিয় নির্বাচনী সুবিধা তৈরি করে না। ভোটারদের অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, অভিবাসন এবং সরকারি নীতির বাস্তব প্রভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। হিস্পানিক ও এশীয়-আমেরিকান ভোটারদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্ব দুই প্রধান দলকেই সেই বাস্তবতার মুখোমুখি করছে।












