১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা উন্নয়ন থামিয়ে রাজনীতির মেরুকরণকে জায়গা দেওয়া যাবে না শার্পভিল হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা ভর্তুকির মূল্যযুদ্ধ পেরিয়ে নতুন যুগে চীনের অনলাইন কেনাকাটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজের গতি বাড়ছে, কিন্তু কমছে না চাপ—তরুণ কর্মীদের নতুন বাস্তবতা আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ

আসিয়ানের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন তাগিদ, বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিড দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি চাপের প্রেক্ষাপটে তিনি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বহুদিনের আলোচিত ট্রান্স-বোর্নিও পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে ব্রুনাই-ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-ফিলিপাইন পূর্ব আসিয়ান প্রবৃদ্ধি অঞ্চল বা বিম্প-ইগা বিশেষ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রাবোও। সেখানে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাকে আর ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এটি এখন জরুরি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বোর্নিওর সম্ভাবনা

প্রাবোওর মতে, বিম্প-ইগা অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। একই সঙ্গে অঞ্চলটির উর্বর ভূমি খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে। তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতায় সম্ভাবনাময় ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ | The  Business Standard

তিনি জানান, কালিমানতানে জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন, পালাওয়ানে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তি প্রকল্পের মতো উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া নিজেও দ্রুতগতিতে জ্বালানি রূপান্তর কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং জীবনমানের উন্নতির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে এই চাহিদা আরও দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলের অনেক দেশ এখনও আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা বা সরবরাহ সংকট সরাসরি অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সেই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ট্রান্স-বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিডের গুরুত্ব

প্রাবোও বিশেষভাবে ট্রান্স-বোর্নিও পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা বহুদিন ধরেই রয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে আরও কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বণ্টন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Proyek Trans Borneo Dibahas di KTT ASEAN, Prabowo Dorong Langkah Konkret

তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান পিএলএনের হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক দশকে দেশটির জ্বালানি রূপান্তরে ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ লাগবে।

বিনিয়োগ সংকট ও আসিয়ানের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি। ২০১৪ সালে দেশটির মোট জ্বালানি সরবরাহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ছিল ৭ শতাংশ। এক দশক পর তা বেড়ে মাত্র ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় আসিয়ান দেশগুলো বিকল্প সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো যৌথ জ্বালানি বণ্টন ব্যবস্থার বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আসিয়ানের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন তাগিদ, বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিড দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান

০২:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি চাপের প্রেক্ষাপটে তিনি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বহুদিনের আলোচিত ট্রান্স-বোর্নিও পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে ব্রুনাই-ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-ফিলিপাইন পূর্ব আসিয়ান প্রবৃদ্ধি অঞ্চল বা বিম্প-ইগা বিশেষ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রাবোও। সেখানে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাকে আর ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এটি এখন জরুরি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বোর্নিওর সম্ভাবনা

প্রাবোওর মতে, বিম্প-ইগা অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। একই সঙ্গে অঞ্চলটির উর্বর ভূমি খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে। তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতায় সম্ভাবনাময় ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ | The  Business Standard

তিনি জানান, কালিমানতানে জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন, পালাওয়ানে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তি প্রকল্পের মতো উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া নিজেও দ্রুতগতিতে জ্বালানি রূপান্তর কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং জীবনমানের উন্নতির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে এই চাহিদা আরও দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলের অনেক দেশ এখনও আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা বা সরবরাহ সংকট সরাসরি অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সেই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ট্রান্স-বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিডের গুরুত্ব

প্রাবোও বিশেষভাবে ট্রান্স-বোর্নিও পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা বহুদিন ধরেই রয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে আরও কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বণ্টন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Proyek Trans Borneo Dibahas di KTT ASEAN, Prabowo Dorong Langkah Konkret

তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান পিএলএনের হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক দশকে দেশটির জ্বালানি রূপান্তরে ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ লাগবে।

বিনিয়োগ সংকট ও আসিয়ানের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি। ২০১৪ সালে দেশটির মোট জ্বালানি সরবরাহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ছিল ৭ শতাংশ। এক দশক পর তা বেড়ে মাত্র ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় আসিয়ান দেশগুলো বিকল্প সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো যৌথ জ্বালানি বণ্টন ব্যবস্থার বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।