০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

কোটার সিদ্ধান্ত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে – শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ

  • Sarakhon Report
  • ০৩:১৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
  • 81

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা অভিযোগ করেন যে, সরকার স্কুল-কলেজে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য যে কোটা সংরক্ষণ করছে, তা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।

কোটার ঘোষণা

  • সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট আসনের ৫ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণ করেছে।
  • শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

চেতনার পরিপন্থী বলে অভিযোগ

  • বিন ইয়ামিন মোল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ছিল সাম্য ও অধিকারের প্রতিষ্ঠা
  • এই কোটা ব্যবস্থা তিনি ওই আদর্শের বিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন।

কোটার বাতিলের দাবি এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ

  • সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের দাবি তোলার পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
  • তাঁর মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের জন্য এই ক্ষতিপূরণ অপরিহার্য

প্রথম কোটা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে মতামত

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নিয়োগে প্রথম যে ছাত্র কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল, সেটিকে সেসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখানো হয়।
  • পরে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একাধিক ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম থাকলেও, অংশগ্রহণকারী অনেক নেতা তাদের নিজ নিজ সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন।

সমন্বয়ক কোটা ও নতুন সংগঠন প্রসঙ্গ

  • সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, পরে বিভিন্ন কমিশন বা সংস্কার বোর্ডে সমন্বয়ক কোটা পদ্ধতি চালু হয়।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও, যারা নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই পরবর্তীতে নতুন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে অভিযোগ উঠে আসে।

নেতৃত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সমন্বয়ক কোটা ব্যবহার করে বড় পদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • “মোংলা বন্দরের কর্মীও প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন, এমনকি চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠছে”— এমন মন্তব্যও পাওয়া যায়।

সরকার ও কোটা পুনর্বহাল নিয়ে মন্তব্য

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক বলেন, যারা একসময় কোটা পদ্ধতিকে সমাধিস্থ করেছিলএখন তারাই কোটা পুনর্বহাল করছে।
  • তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা কোটা নিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরাও চাই নাআবার একই খেলায় আপনি ব্যর্থ হোন।

সংক্ষেপ

এই সংবাদ সম্মেলনে মূলত সরকারঘোষিত ৫ শতাংশ কোটা নিয়ে আলোচনা হয়, যা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী বলে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি উঠে আসে। ছাত্ররাজনীতি, কোটা ব্যবস্থা এবং ক্ষমতার বিন্যাস সম্পর্কে নানা আলোচনা ও সমালোচনাও উত্থাপন করেন বাংলাদেশ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের নেতারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

কোটার সিদ্ধান্ত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে – শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ

০৩:১৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা অভিযোগ করেন যে, সরকার স্কুল-কলেজে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য যে কোটা সংরক্ষণ করছে, তা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।

কোটার ঘোষণা

  • সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট আসনের ৫ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণ করেছে।
  • শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

চেতনার পরিপন্থী বলে অভিযোগ

  • বিন ইয়ামিন মোল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ছিল সাম্য ও অধিকারের প্রতিষ্ঠা
  • এই কোটা ব্যবস্থা তিনি ওই আদর্শের বিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন।

কোটার বাতিলের দাবি এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ

  • সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের দাবি তোলার পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
  • তাঁর মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের জন্য এই ক্ষতিপূরণ অপরিহার্য

প্রথম কোটা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে মতামত

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নিয়োগে প্রথম যে ছাত্র কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল, সেটিকে সেসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখানো হয়।
  • পরে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একাধিক ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম থাকলেও, অংশগ্রহণকারী অনেক নেতা তাদের নিজ নিজ সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন।

সমন্বয়ক কোটা ও নতুন সংগঠন প্রসঙ্গ

  • সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, পরে বিভিন্ন কমিশন বা সংস্কার বোর্ডে সমন্বয়ক কোটা পদ্ধতি চালু হয়।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও, যারা নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই পরবর্তীতে নতুন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে অভিযোগ উঠে আসে।

নেতৃত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সমন্বয়ক কোটা ব্যবহার করে বড় পদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • “মোংলা বন্দরের কর্মীও প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন, এমনকি চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠছে”— এমন মন্তব্যও পাওয়া যায়।

সরকার ও কোটা পুনর্বহাল নিয়ে মন্তব্য

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক বলেন, যারা একসময় কোটা পদ্ধতিকে সমাধিস্থ করেছিলএখন তারাই কোটা পুনর্বহাল করছে।
  • তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা কোটা নিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরাও চাই নাআবার একই খেলায় আপনি ব্যর্থ হোন।

সংক্ষেপ

এই সংবাদ সম্মেলনে মূলত সরকারঘোষিত ৫ শতাংশ কোটা নিয়ে আলোচনা হয়, যা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী বলে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি উঠে আসে। ছাত্ররাজনীতি, কোটা ব্যবস্থা এবং ক্ষমতার বিন্যাস সম্পর্কে নানা আলোচনা ও সমালোচনাও উত্থাপন করেন বাংলাদেশ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের নেতারা।