দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের হিসাব বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের চীনমুখী ঝোঁক। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা এখন নিজেকে আঞ্চলিক কৌশলগত শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে। ভারতের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোই এই নীতির মূল লক্ষ্য। কূটনীতিকরা একে বলছেন হেজিং, অর্থাৎ ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার কৌশল।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এই বাঁক স্পষ্ট হতে শুরু করে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই ধারা থেমে যায়নি, বরং গতি পেয়েছে। বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং গত মার্চে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। গত ৩০ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বসেন।
ওই বৈঠকের পর দুই দেশ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা নিয়ে ২+২ সংলাপ কাঠামো গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই ধরনের সংলাপ সাধারণত ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারদের মধ্যেই হয়ে থাকে। অবকাঠামো নির্মাণ, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এই তিন ক্ষেত্রেই চীনের উপস্থিতি বাড়ছে। বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক তাই আর কেবল ঋণ ও প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক শাফি মো. মোস্তফা বলেছেন, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের জন্য চীন অপরিহার্য, তবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকছে। এই দ্বৈত অবস্থানই বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক গভীর হলেও দিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য, সীমান্ত ও পানিবণ্টনের বাস্তবতা বদলায়নি।
পাঠকের জন্য প্রশ্নটি সহজ। বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক কতদূর গেলে ভারতের প্রতিক্রিয়া আসবে, আর সেই প্রতিক্রিয়ার ভার কে বইবে। রপ্তানি বাজার, ট্রানজিট এবং জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয়গুলো এই হিসাবের সঙ্গে জড়িত। ২+২ সংলাপের প্রথম বৈঠকের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, আর সেই তারিখটিই বলে দেবে ঢাকার হেজিং কৌশল কাগজে না মাঠে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















