০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকসে এআই মুক্ত উৎস অঞ্চলের প্রস্তাব দিলেন সি চিনপিং মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট চাইছে জান্তা ভানুয়াতুতে ফেরি ডুবে নিখোঁজ ৩০, উঠছে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের প্রশ্ন ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ হোটেলের কক্ষে মিলল এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মরদেহ, ভেতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন’, আদালতে মিষ্টি সুভাষ হুথিদের দখলে কৌশলগত দ্বীপ, বাব আল-মান্দাব ঘিরে বাড়ছে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ব্রিকসে ঐক্যের বার্তা, বৈশ্বিক দক্ষিণের শক্তি বাড়ানোর ডাক মোদি-শি-পুতিনের জাভা সাগরে ফেরি উল্টে নিখোঁজ ১৩০, উদ্ধার ১০৭ সংস্কারবিরোধী সংবিধান?

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং

সাত বছরের বিরতির পর শুক্রবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, উদ্দেশ্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সঙ্গে এসেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাই ছি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিশেষ প্রটোকল রক্ষা করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব বহন করছে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।

ভারত মণ্ডপমে দুই দিনের এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে ভারত। মোদী-শি বৈঠকে সীমান্ত স্থিতিশীলতা রক্ষার পদক্ষেপ পর্যালোচনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। দুই নেতার মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২০ সালে গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সতর্ক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বৈঠক। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সাম্প্রতিক টহল সমঝোতা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল হওয়ার মতো পদক্ষেপ উচ্চপর্যায়ের এই সম্পৃক্ততার পথ খুলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলোই মূলত সম্মেলনের ফাঁকে এমন একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করেছে।

সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওয়ো সুবিয়ান্তোসহ অনেক নেতা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসও উপস্থিত ছিলেন। সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, সীমান্ত পারাপার লেনদেন ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।

দুই দিনের সম্মেলন শেষে রোববার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমা জোটের বাইরে বিকল্প অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে ব্রিকসের গুরুত্ব যত বাড়ছে, ভারত-চীন সম্পর্কের ওঠানামাও ততই বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

সীমান্তে সেনা মোতায়েনের কড়া বছরগুলোর পর একই মঞ্চে হাসিমুখে করমর্দনের এই দৃশ্য প্রমাণ করে, প্রতিবেশী দুই শক্তির সম্পর্ক এখন সতর্ক হলেও আর পুরোপুরি স্থবির নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকসে এআই মুক্ত উৎস অঞ্চলের প্রস্তাব দিলেন সি চিনপিং

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং

০৪:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত বছরের বিরতির পর শুক্রবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, উদ্দেশ্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সঙ্গে এসেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাই ছি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিশেষ প্রটোকল রক্ষা করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব বহন করছে বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।

ভারত মণ্ডপমে দুই দিনের এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে ভারত। মোদী-শি বৈঠকে সীমান্ত স্থিতিশীলতা রক্ষার পদক্ষেপ পর্যালোচনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। দুই নেতার মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২০ সালে গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সতর্ক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বৈঠক। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সাম্প্রতিক টহল সমঝোতা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল হওয়ার মতো পদক্ষেপ উচ্চপর্যায়ের এই সম্পৃক্ততার পথ খুলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলোই মূলত সম্মেলনের ফাঁকে এমন একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করেছে।

সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওয়ো সুবিয়ান্তোসহ অনেক নেতা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসও উপস্থিত ছিলেন। সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা, সীমান্ত পারাপার লেনদেন ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।

দুই দিনের সম্মেলন শেষে রোববার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমা জোটের বাইরে বিকল্প অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে ব্রিকসের গুরুত্ব যত বাড়ছে, ভারত-চীন সম্পর্কের ওঠানামাও ততই বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

সীমান্তে সেনা মোতায়েনের কড়া বছরগুলোর পর একই মঞ্চে হাসিমুখে করমর্দনের এই দৃশ্য প্রমাণ করে, প্রতিবেশী দুই শক্তির সম্পর্ক এখন সতর্ক হলেও আর পুরোপুরি স্থবির নয়।