০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই দশকের বেশি সময় পর ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’ ছাড়ছেন মন্টি ডন ৯/১১-এর ২৫ বছর পরও স্বজন হারানোর যন্ত্রণা কাটেনি, বিচারের অপেক্ষাও শেষ হয়নি গরম চা-কফি পানে বাড়তে পারে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে বড় গবেষণা হাজারো কিশোর-কিশোরী শিক্ষার বাইরে, সরকারি পরিসংখ্যানেও ধরা পড়ছে না যুদ্ধের মাঝেই পেন্টাগনে হেগসেথের বড় রদবদল, এতে কি ঝুঁকিতে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি? পৃথিবী কি আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে? জলবায়ু বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কবার্তা ২৭ বছর বয়সেই উইল লিখে রাখলেন—মৃত্যুর পর কী হবে, তা আগেই ঠিক করে রাখার কারণ কী? মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন, ইরানের পাঁচ তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজে অচলাবস্থার মধ্যেই জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার: প্রতিদিনের সেবায় ব্যর্থ হলেই দুর্বল হয় সরকার

পৃথিবী কি আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে? জলবায়ু বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কবার্তা

পৃথিবীর উষ্ণতা যে বাড়ছে, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে আর তেমন কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু এখন যে প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করছে, তা হলো—পৃথিবীর জলবায়ু কি আমরা এত দিন যতটা সংবেদনশীল বলে ধরে নিয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি সংবেদনশীল?

সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণার ফল বলছে, গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি কিছুটা বেড়ে থাকতে পারে। এর পেছনে শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি নয়, বরং বায়ুদূষণ কমে যাওয়ার একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাব, মেঘের পরিবর্তন এবং উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাসাগরও ভূমিকা রাখতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন কিছু বিশ্লেষণ যদি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে একই পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ভবিষ্যতে আমরা আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি উষ্ণতা দেখতে পারি।

Image

পরিচ্ছন্ন বাতাস কি উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বিষয়টি প্রথম দেখায় কিছুটা বিস্ময়কর।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ এমন সব গ্যাস তৈরি হয়, যা পৃথিবীর তাপ আটকে রেখে উষ্ণতা বাড়ায়। অন্যদিকে কয়লা ও তেল পোড়ানোর সময় সালফার ডাই-অক্সাইডও তৈরি হয়। এই গ্যাস থেকে তৈরি হয় অতি ক্ষুদ্র সালফেট কণা।

এই কণাগুলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানো সূর্যালোকের পরিমাণ কিছুটা কমে এবং উষ্ণায়নের গতি সাময়িকভাবে কমে যায়।

Image

অর্থাৎ, গত শতাব্দীতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে একই সঙ্গে উষ্ণতা বাড়ানো এবং উষ্ণতা আংশিক ঠেকিয়ে রাখার—দুই ধরনের প্রভাবই তৈরি হয়েছে।

বায়ুদূষণ কমানোর জন্য ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, চীনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক দশকে সালফার নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। জাহাজ থেকেও সালফার দূষণ কমানোর জন্য কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে।

ফলে বাতাস পরিচ্ছন্ন হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যা নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু এর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো—বায়ুমণ্ডলে থাকা সেই শীতলকারী কণাগুলোর পরিমাণও কমেছে।

সহজভাবে বললে, পৃথিবীর ওপর থাকা একটি পাতলা ‘ঢাকনা’ কিছুটা সরে গেছে।

গ্রিনহাউসের জানালায় জমা ধুলোর মতো

Image

বিষয়টি বোঝাতে বিজ্ঞানীরা গ্রিনহাউসের একটি উদাহরণ ব্যবহার করেন।

কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ভাবা যায় গ্রিনহাউসের কাচের মতো, যা ভেতরের তাপ সহজে বাইরে যেতে দেয় না। অন্যদিকে সালফেট কণাগুলো যেন সেই কাচের ওপর জমে থাকা ধুলোর মতো।

জানালায় যত বেশি ধুলো থাকে, তত কম সূর্যের আলো ভেতরে ঢোকে। ফলে গ্রিনহাউস ধীরে গরম হয়।

কিন্তু যখন বাতাস থেকে সালফার দূষণ কমে যায়, তখন সেই ‘ধুলো’ও কমে যায়। ফলে বেশি সূর্যালোক পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে এবং অতিরিক্ত উষ্ণতা তৈরি হয়।

Image

এ প্রভাব বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সালফার দূষণ দ্রুত কমেছে, সেখানে বেশি স্পষ্ট। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে শুধু এই কারণে গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে থাকতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিচ্ছন্ন বাতাসই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ।

কার্বন ডাই-অক্সাইডই এখনো প্রধান চালিকাশক্তি

বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবের তুলনায় সালফেট দূষণ কমে যাওয়ার প্রভাব অনেক ছোট।

জলবায়ুবিজ্ঞানী পিয়ার্স ফোরস্টারের হিসাব অনুযায়ী, বায়ুদূষণ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ থেকে শূন্য দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে প্রতি দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে প্রায় শূন্য দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Image

অর্থাৎ, দূষণ কমে যাওয়ার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূল কারণ নয়।

বরং সালফেট কণাগুলো এত দিন গ্রিনহাউস গ্যাসের তৈরি উষ্ণতার একটি অংশকে ‘ঢেকে’ রেখেছিল। এখন সেই আড়াল সরে যাচ্ছে।

পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যও বদলে যাচ্ছে

বিজ্ঞানীরা বিষয়টি বোঝার জন্য আরও বড় একটি হিসাবের দিকে তাকাচ্ছেন—পৃথিবী সূর্য থেকে কত শক্তি গ্রহণ করছে এবং মহাশূন্যে কত শক্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এই দুইয়ের পার্থক্যকে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা বলা যায়।

পৃথিবী দীর্ঘদিন ধরেই মহাশূন্যে যত শক্তি ছাড়ছে, তার চেয়ে বেশি শক্তি শোষণ করছে। অতিরিক্ত এই শক্তিই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলছে।

Image

গবেষক রেটো নুটি ও তাঁর সহকর্মীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত দুই দশকে পৃথিবীর এই শক্তির ভারসাম্যহীনতা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। কোন বছর থেকে কোন বছর পর্যন্ত হিসাব করা হচ্ছে, তার ওপর অবশ্য এই পরিবর্তনের সঠিক মাত্রা নির্ভর করে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধানত তাপকে মহাশূন্যে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। কিন্তু গবেষকেরা এখন দেখছেন, একই সঙ্গে সূর্যের আরও বেশি আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করছে কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই আবার সামনে আসছে মেঘের বিষয়টি।

মেঘ কমে গেলে উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে

মেঘ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নিচু ও উজ্জ্বল মেঘ সূর্যের আলো মহাশূন্যে ফেরত পাঠাতে পারে।

Image

কিন্তু পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অঞ্চলে নিচু মেঘের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

সমুদ্রের ওপরের মেঘকে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মেঘ সাদা ও উজ্জ্বল হলেও তার নিচের সমুদ্র অপেক্ষাকৃত অন্ধকার। মেঘ সরে গেলে সূর্যের বেশি আলো সরাসরি সমুদ্রের ওপর পড়ে এবং সেই শক্তির বড় অংশ তাপে পরিণত হয়।

ফলে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হতে পারে।

পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে, উষ্ণতার কারণে কিছু মেঘ কমছে, মেঘ কমায় আরও সূর্যালোক পৃথিবীতে ঢুকছে, আর সেই অতিরিক্ত শক্তি আবার উষ্ণতা বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিচু মেঘ কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রতিক্রিয়া সালফার দূষণ কমে যাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মহাসাগরও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে

Image

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় পরিবর্তন—মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে মহাসাগর ১৯৬০ থেকে ২০০৫ সালের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দ্রুত উষ্ণ হয়েছে।

মহাসাগর পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় তাপভাণ্ডারগুলোর একটি। তাই এর দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা পুরো জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানী পাওলো চেপ্পির গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মেঘের পরিবর্তনের মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিচু মেঘ কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ: জলবায়ুর সংবেদনশীলতা

এখানেই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি সামনে আসে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে হিসাব করার চেষ্টা করছেন—বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস যোগ হলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কতটা বাড়বে।

এটিই জলবায়ুর ‘সংবেদনশীলতা’।

Image

বিভিন্ন জলবায়ু মডেল একই পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ভিন্ন মাত্রার উষ্ণতা অনুমান করে। এর একটি বড় কারণ হলো মেঘের আচরণ সম্পর্কে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রেটো নুটি ও তাঁর সহকর্মীরা সাম্প্রতিক বাস্তব পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে এই মডেলগুলো যাচাই করার চেষ্টা করেছেন।

তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব মডেল সাম্প্রতিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা সবচেয়ে ভালোভাবে অনুমান করতে পেরেছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই জলবায়ুর সংবেদনশীলতা তুলনামূলক বেশি।

অর্থাৎ, যে মডেলগুলো ভবিষ্যতে বেশি উষ্ণতার পূর্বাভাস দেয়, সেগুলো সাম্প্রতিক বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো মিলছে।

Image

তাঁদের বিশ্লেষণ যদি আরও গবেষণায় নিশ্চিত হয়, তাহলে একই মাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে পৃথিবীকে আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি উষ্ণ হতে দেখা যেতে পারে।

শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা কতটা বাড়তে পারে?

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে নীতিগুলো কার্যকর রয়েছে, সেগুলো অপরিবর্তিত থাকলে শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু নতুন গবেষণার ফল সঠিক প্রমাণিত হলে একই ধরনের নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে উষ্ণতা প্রায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এটি অবশ্য এখনই নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

Image

গবেষকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, সাম্প্রতিক উষ্ণতার পর্যবেক্ষণ মাত্র এক বা দুই দশকের। জলবায়ু ব্যবস্থায় স্বাভাবিক ওঠানামা অনেক বড়। ফলে এত অল্প সময়ের তথ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।

উপগ্রহভিত্তিক পর্যবেক্ষণের সময়কালও তুলনামূলকভাবে ছোট। তাই নতুন গবেষণাগুলো আগের সব বৈজ্ঞানিক হিসাবকে বাতিল করে দিচ্ছে—এমনটা বলা যাবে না।

তাহলে কি আরও ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও বন্যা আসছে?

যদি পৃথিবীর জলবায়ু সত্যিই আগের ধারণার চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়, তাহলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক।

প্রতিটি অতিরিক্ত ভগ্নাংশ ডিগ্রি উষ্ণতার সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। বাড়তে পারে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি। কিছু অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

Image

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—বাতাস পরিষ্কার করা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নয়।

সালফার দূষণ কমে যাওয়ায় আগে দূষণের কারণে তৈরি হওয়া সাময়িক শীতল প্রভাবটি কমে গেছে। এতে সাম্প্রতিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটি অংশ ব্যাখ্যা করা যায়।

কিন্তু পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার মূল কারণ এখনো গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নিঃসরণ।

বিজ্ঞান এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে

মেঘের পরিবর্তন কতটা হয়েছে, তার কতটা দূষণ কমে যাওয়ার ফল এবং কতটা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।

একইভাবে সাম্প্রতিক উষ্ণতার গতি ভবিষ্যতেও একই থাকবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

Image

কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মানুষ যত বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছাড়বে, পৃথিবী তত বেশি উষ্ণ হবে। আর যদি নতুন গবেষণাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করে যে পৃথিবীর জলবায়ু আগের ধারণার চেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাহলে দ্রুত নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যাবে।

পরিচ্ছন্ন বাতাস মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণও দ্রুত কমাতে হবে।

কারণ পৃথিবীর উষ্ণতা যত বাড়বে, জলবায়ুর ঝুঁকিও তত বাড়বে। আর বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কবার্তার মূল কথা হলো—আমরা হয়তো এমন এক পৃথিবীর দিকে এগোচ্ছি, যে পৃথিবী আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গরম হচ্ছে।

Image

 

Image

 

Image

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশকের বেশি সময় পর ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’ ছাড়ছেন মন্টি ডন

পৃথিবী কি আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে? জলবায়ু বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কবার্তা

১২:০০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পৃথিবীর উষ্ণতা যে বাড়ছে, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে আর তেমন কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু এখন যে প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করছে, তা হলো—পৃথিবীর জলবায়ু কি আমরা এত দিন যতটা সংবেদনশীল বলে ধরে নিয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি সংবেদনশীল?

সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণার ফল বলছে, গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি কিছুটা বেড়ে থাকতে পারে। এর পেছনে শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি নয়, বরং বায়ুদূষণ কমে যাওয়ার একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাব, মেঘের পরিবর্তন এবং উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাসাগরও ভূমিকা রাখতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন কিছু বিশ্লেষণ যদি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে একই পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ভবিষ্যতে আমরা আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি উষ্ণতা দেখতে পারি।

Image

পরিচ্ছন্ন বাতাস কি উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বিষয়টি প্রথম দেখায় কিছুটা বিস্ময়কর।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ এমন সব গ্যাস তৈরি হয়, যা পৃথিবীর তাপ আটকে রেখে উষ্ণতা বাড়ায়। অন্যদিকে কয়লা ও তেল পোড়ানোর সময় সালফার ডাই-অক্সাইডও তৈরি হয়। এই গ্যাস থেকে তৈরি হয় অতি ক্ষুদ্র সালফেট কণা।

এই কণাগুলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানো সূর্যালোকের পরিমাণ কিছুটা কমে এবং উষ্ণায়নের গতি সাময়িকভাবে কমে যায়।

Image

অর্থাৎ, গত শতাব্দীতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে একই সঙ্গে উষ্ণতা বাড়ানো এবং উষ্ণতা আংশিক ঠেকিয়ে রাখার—দুই ধরনের প্রভাবই তৈরি হয়েছে।

বায়ুদূষণ কমানোর জন্য ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, চীনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক দশকে সালফার নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। জাহাজ থেকেও সালফার দূষণ কমানোর জন্য কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে।

ফলে বাতাস পরিচ্ছন্ন হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যা নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু এর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো—বায়ুমণ্ডলে থাকা সেই শীতলকারী কণাগুলোর পরিমাণও কমেছে।

সহজভাবে বললে, পৃথিবীর ওপর থাকা একটি পাতলা ‘ঢাকনা’ কিছুটা সরে গেছে।

গ্রিনহাউসের জানালায় জমা ধুলোর মতো

Image

বিষয়টি বোঝাতে বিজ্ঞানীরা গ্রিনহাউসের একটি উদাহরণ ব্যবহার করেন।

কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ভাবা যায় গ্রিনহাউসের কাচের মতো, যা ভেতরের তাপ সহজে বাইরে যেতে দেয় না। অন্যদিকে সালফেট কণাগুলো যেন সেই কাচের ওপর জমে থাকা ধুলোর মতো।

জানালায় যত বেশি ধুলো থাকে, তত কম সূর্যের আলো ভেতরে ঢোকে। ফলে গ্রিনহাউস ধীরে গরম হয়।

কিন্তু যখন বাতাস থেকে সালফার দূষণ কমে যায়, তখন সেই ‘ধুলো’ও কমে যায়। ফলে বেশি সূর্যালোক পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে এবং অতিরিক্ত উষ্ণতা তৈরি হয়।

Image

এ প্রভাব বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সালফার দূষণ দ্রুত কমেছে, সেখানে বেশি স্পষ্ট। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে শুধু এই কারণে গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে থাকতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিচ্ছন্ন বাতাসই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ।

কার্বন ডাই-অক্সাইডই এখনো প্রধান চালিকাশক্তি

বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলছেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবের তুলনায় সালফেট দূষণ কমে যাওয়ার প্রভাব অনেক ছোট।

জলবায়ুবিজ্ঞানী পিয়ার্স ফোরস্টারের হিসাব অনুযায়ী, বায়ুদূষণ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ থেকে শূন্য দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে প্রতি দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে প্রায় শূন্য দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Image

অর্থাৎ, দূষণ কমে যাওয়ার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূল কারণ নয়।

বরং সালফেট কণাগুলো এত দিন গ্রিনহাউস গ্যাসের তৈরি উষ্ণতার একটি অংশকে ‘ঢেকে’ রেখেছিল। এখন সেই আড়াল সরে যাচ্ছে।

পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যও বদলে যাচ্ছে

বিজ্ঞানীরা বিষয়টি বোঝার জন্য আরও বড় একটি হিসাবের দিকে তাকাচ্ছেন—পৃথিবী সূর্য থেকে কত শক্তি গ্রহণ করছে এবং মহাশূন্যে কত শক্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এই দুইয়ের পার্থক্যকে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা বলা যায়।

পৃথিবী দীর্ঘদিন ধরেই মহাশূন্যে যত শক্তি ছাড়ছে, তার চেয়ে বেশি শক্তি শোষণ করছে। অতিরিক্ত এই শক্তিই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলছে।

Image

গবেষক রেটো নুটি ও তাঁর সহকর্মীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত দুই দশকে পৃথিবীর এই শক্তির ভারসাম্যহীনতা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। কোন বছর থেকে কোন বছর পর্যন্ত হিসাব করা হচ্ছে, তার ওপর অবশ্য এই পরিবর্তনের সঠিক মাত্রা নির্ভর করে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধানত তাপকে মহাশূন্যে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। কিন্তু গবেষকেরা এখন দেখছেন, একই সঙ্গে সূর্যের আরও বেশি আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করছে কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই আবার সামনে আসছে মেঘের বিষয়টি।

মেঘ কমে গেলে উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে

মেঘ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নিচু ও উজ্জ্বল মেঘ সূর্যের আলো মহাশূন্যে ফেরত পাঠাতে পারে।

Image

কিন্তু পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অঞ্চলে নিচু মেঘের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

সমুদ্রের ওপরের মেঘকে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ মেঘ সাদা ও উজ্জ্বল হলেও তার নিচের সমুদ্র অপেক্ষাকৃত অন্ধকার। মেঘ সরে গেলে সূর্যের বেশি আলো সরাসরি সমুদ্রের ওপর পড়ে এবং সেই শক্তির বড় অংশ তাপে পরিণত হয়।

ফলে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হতে পারে।

পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে, উষ্ণতার কারণে কিছু মেঘ কমছে, মেঘ কমায় আরও সূর্যালোক পৃথিবীতে ঢুকছে, আর সেই অতিরিক্ত শক্তি আবার উষ্ণতা বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিচু মেঘ কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রতিক্রিয়া সালফার দূষণ কমে যাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মহাসাগরও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে

Image

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় পরিবর্তন—মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে মহাসাগর ১৯৬০ থেকে ২০০৫ সালের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দ্রুত উষ্ণ হয়েছে।

মহাসাগর পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় তাপভাণ্ডারগুলোর একটি। তাই এর দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা পুরো জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানী পাওলো চেপ্পির গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মেঘের পরিবর্তনের মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিচু মেঘ কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ: জলবায়ুর সংবেদনশীলতা

এখানেই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি সামনে আসে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে হিসাব করার চেষ্টা করছেন—বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস যোগ হলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কতটা বাড়বে।

এটিই জলবায়ুর ‘সংবেদনশীলতা’।

Image

বিভিন্ন জলবায়ু মডেল একই পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ভিন্ন মাত্রার উষ্ণতা অনুমান করে। এর একটি বড় কারণ হলো মেঘের আচরণ সম্পর্কে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রেটো নুটি ও তাঁর সহকর্মীরা সাম্প্রতিক বাস্তব পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে এই মডেলগুলো যাচাই করার চেষ্টা করেছেন।

তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব মডেল সাম্প্রতিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা সবচেয়ে ভালোভাবে অনুমান করতে পেরেছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই জলবায়ুর সংবেদনশীলতা তুলনামূলক বেশি।

অর্থাৎ, যে মডেলগুলো ভবিষ্যতে বেশি উষ্ণতার পূর্বাভাস দেয়, সেগুলো সাম্প্রতিক বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো মিলছে।

Image

তাঁদের বিশ্লেষণ যদি আরও গবেষণায় নিশ্চিত হয়, তাহলে একই মাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে পৃথিবীকে আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি উষ্ণ হতে দেখা যেতে পারে।

শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা কতটা বাড়তে পারে?

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে নীতিগুলো কার্যকর রয়েছে, সেগুলো অপরিবর্তিত থাকলে শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু নতুন গবেষণার ফল সঠিক প্রমাণিত হলে একই ধরনের নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে উষ্ণতা প্রায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এটি অবশ্য এখনই নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

Image

গবেষকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, সাম্প্রতিক উষ্ণতার পর্যবেক্ষণ মাত্র এক বা দুই দশকের। জলবায়ু ব্যবস্থায় স্বাভাবিক ওঠানামা অনেক বড়। ফলে এত অল্প সময়ের তথ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।

উপগ্রহভিত্তিক পর্যবেক্ষণের সময়কালও তুলনামূলকভাবে ছোট। তাই নতুন গবেষণাগুলো আগের সব বৈজ্ঞানিক হিসাবকে বাতিল করে দিচ্ছে—এমনটা বলা যাবে না।

তাহলে কি আরও ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও বন্যা আসছে?

যদি পৃথিবীর জলবায়ু সত্যিই আগের ধারণার চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়, তাহলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক।

প্রতিটি অতিরিক্ত ভগ্নাংশ ডিগ্রি উষ্ণতার সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। বাড়তে পারে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি। কিছু অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

Image

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—বাতাস পরিষ্কার করা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নয়।

সালফার দূষণ কমে যাওয়ায় আগে দূষণের কারণে তৈরি হওয়া সাময়িক শীতল প্রভাবটি কমে গেছে। এতে সাম্প্রতিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটি অংশ ব্যাখ্যা করা যায়।

কিন্তু পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার মূল কারণ এখনো গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নিঃসরণ।

বিজ্ঞান এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে

মেঘের পরিবর্তন কতটা হয়েছে, তার কতটা দূষণ কমে যাওয়ার ফল এবং কতটা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।

একইভাবে সাম্প্রতিক উষ্ণতার গতি ভবিষ্যতেও একই থাকবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

Image

কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মানুষ যত বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছাড়বে, পৃথিবী তত বেশি উষ্ণ হবে। আর যদি নতুন গবেষণাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করে যে পৃথিবীর জলবায়ু আগের ধারণার চেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাহলে দ্রুত নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যাবে।

পরিচ্ছন্ন বাতাস মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণও দ্রুত কমাতে হবে।

কারণ পৃথিবীর উষ্ণতা যত বাড়বে, জলবায়ুর ঝুঁকিও তত বাড়বে। আর বিজ্ঞানীদের নতুন সতর্কবার্তার মূল কথা হলো—আমরা হয়তো এমন এক পৃথিবীর দিকে এগোচ্ছি, যে পৃথিবী আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গরম হচ্ছে।

Image

 

Image

 

Image