ব্রিটেনের জনপ্রিয় বাগানবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের উপস্থাপক মন্টি ডন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এবার নতুন কাজের দিকে মন দিতে চান তিনি।
মন্টি ডন বলেন, তিনি বিবিসির সঙ্গে অন্যান্য প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন কিছু করার সুযোগ খুঁজবেন। তবে বাগান করা থেকে তিনি দূরে সরে যাচ্ছেন না। নিজের বাড়ি লংমিডোতে পাশে কুকুরকে নিয়ে বাগান করার কাজ অব্যাহত রাখবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বাগানপ্রেমী একটি জাতির প্রিয় মুখ
মন্টি ডনের পুরো নাম জর্জ মন্টেগু ডন। ১৯৮৯ সালে আইটিভির ‘দিস মর্নিং’ অনুষ্ঠানে বাগানবিষয়ক একটি অংশ উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশনজীবন শুরু হয়।
এরপর বিবিসি ও চ্যানেল ফোরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখেছেন তিনি। বাগান নিয়ে তাঁর লেখা ২০টিরও বেশি বইও প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৩ সালে অ্যালান টিচমার্শের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’-এর উপস্থাপক হন মন্টি ডন। তবে ২০০৮ সালে স্ট্রোক থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় তিনি অনুষ্ঠানটি থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন।
শুধু বাগান নয়, আরও অনেক অনুষ্ঠান
‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’-এর বাইরে মন্টি ডন ‘আশপাশের বিশ্বে ৮০টি বাগান’, ‘আমার স্বপ্নের খামার’, ‘মাস্টারক্রাফটস’ এবং ‘মন্টি ডনের রাইনল্যান্ড বাগান’-এর মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। চেলসি ফুল প্রদর্শনীর বিভিন্ন আয়োজনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
বাগান নিয়ে তাঁর সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং শান্ত স্বভাব তাঁকে ব্রিটেনের অন্যতম পরিচিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

‘তিনি অনন্য’
বিবিসির প্রধান বিষয়বস্তু কর্মকর্তা কেট ফিলিপস মন্টি ডনকে ‘অনন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, ডন ছিলেন অসাধারণভাবে আকর্ষণীয় একজন উপস্থাপক, যার শান্ত ও স্বস্তিদায়ক উপস্থিতি অসংখ্য মানুষকে বাগান করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
মন্টি ডনের ‘গার্ডেনার্স ওয়ার্ল্ড’ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন বলেও জানান ফিলিপস। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ডনের চলে যাওয়ার বিষয়টি তাঁকে অত্যন্ত দুঃখিত করেছে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকদের ঘরে ঘরে বাগানচর্চার অনুপ্রেরণা দেওয়া মন্টি ডনের বিদায়ে অনুষ্ঠানটির একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















