প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কনটেন্ট বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রিটটি দায়ের করেন। এর আগে গত ২৭ আগস্ট একই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। নোটিশ পাঠানোর পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
রিটে যাদের বিবাদী করা হয়েছে
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে স্বাভাবিক বা মহিমান্বিত করে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এ ধরনের কনটেন্টের প্রভাবে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রসঙ্গ
রিটে হিন্দুস্তান টাইমস, ডেইলি সাবাহ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের বরাত দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ
রিটে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। জননৈতিকতা ধ্বংস করে এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয়—এমন কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এই সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য নয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকল্প কনটেন্ট তৈরির নির্দেশনা চাওয়া
শুধু প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ-সম্প্রচার বন্ধ নয়, যুবসমাজের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, আইনি নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















