তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী জেলা থুথুকুডির আকাশে এ বছর এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। হাজার হাজার পরিযায়ী গোলাপি শালিক একসঙ্গে উড়ে এসে অঞ্চলটির আকাশ, জলাভূমি ও কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে জীবন্ত প্রাকৃতিক মঞ্চে। পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে আসা এই পাখিরা মৌসুমি যাত্রায় এবার আগের যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে।
নদী অববাহিকায় পাখির ভিড়
থামিরাবরণী নদীর অববাহিকা এলাকায় বিশেষ করে পেরুঙ্গুলাম, পাট্টিনামারুধুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে গোলাপি শালিকের বড় বড় ঝাঁক নজরে পড়েছে। বিকেলের দিকে সমন্বিত ভঙ্গিতে আকাশে ঘূর্ণায়মান তাদের উড়ান স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। অনেকের মতে, চলতি মৌসুমে এই পাখিদের উপস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট ও বিস্তৃত।
আবাস দখল আর ছোট পাখির সরে যাওয়া
স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা বলছেন, গোলাপি শালিকেরা প্রচলিত বিশ্রামস্থলগুলো দখল করে নেওয়ায় ছোট আকারের দেশীয় পাখিদের অনেকটাই সরে যেতে হচ্ছে। জলাশয়ের চারপাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো বাবুল গাছগুলো এখন এই পাখিদের প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের কারণে এসব গাছেই তারা দল বেঁধে রাত কাটাচ্ছে।
পরিবেশগত অনুকূলতা বড় কারণ
পরিবেশবিদদের মতে, চলতি বছরে থামিরাবরণী নদী ব্যবস্থায় পানির প্রাচুর্য এই পাখিদের আকৃষ্ট করার বড় কারণ। ট্যাংক ও জলাভূমি ভরে থাকায় খাদ্য সংগ্রহ ও বিশ্রামের জন্য অঞ্চলটি আদর্শ পরিবেশ দিচ্ছে। পোকামাকড়, পঙ্গপাল ও কেঁচো খেয়ে এরা প্রাকৃতিক কীটনাশকের ভূমিকা রাখে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

ফসল নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ
তবে পাখির এই ব্যাপক উপস্থিতি কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণও হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র শস্য চাষ করা কৃষকদের অভিযোগ, ফসল কাটার আগমুহূর্তে বড় বড় ঝাঁক নেমে আসায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। তারা পাখির পরিবেশগত গুরুত্ব স্বীকার করলেও মাঠের ফসল রক্ষায় প্রভাব মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাড়ছে নগর এলাকায় উপস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরেই তামিলনাড়ুতে নিয়মিত আসছে গোলাপি শালিক। ধীরে ধীরে শহর ও উপশহর এলাকাতেও তাদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা জলাভূমি ও খোলা জায়গার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আনছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








